ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁয়ে দোকান দখল ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে পাঁচ সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকেরা আশুলিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল দাউদকান্দিতে বন্দুক-কার্তুজ ও গ্রিল কাটারসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দেবীগঞ্জে জমজমাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট, দৈনিক বেচাকেনা ৫০ লাখ টাকা বোরহানউদ্দিনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, আহত ৩ হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ইসরায়েলের নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট গণনা, এগিয়ে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

ময়মনসিংহে সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসানের নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বদলির খবরকে কেন্দ্র করে তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভিজিটিং কার্ড বিতরণ এবং কার্ড জমা দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. জাহিদ হাসান সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার মাধ্যমে চার শতাধিক মানুষকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিজিটিং কার্ড নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার কাজে যুক্ত রেখেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কার্ড জমা দেওয়ার পর তাঁদের টাকা দেওয়া হতো। তবে এই অর্থ প্রদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, কারা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অর্থের উৎস কী, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক জীবিকার সুযোগ তৈরির পরিবর্তে মানুষকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ধরনের কাজে যুক্ত রাখার অভিযোগটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

মো. জাহিদ হাসান ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব ছেড়ে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বদলি হয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বদলির আদেশ, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

একটি সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল পদে কর্মরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমীচীন নয়।

অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, ময়মনসিংহে কথিতভাবে চালু থাকা এ ধরনের ব্যবস্থা নতুন কর্মস্থলেও চালু হতে পারে। যদিও বারহাট্টায় এমন কোনো কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে দোকান দখল ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহে সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসানের নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বদলির খবরকে কেন্দ্র করে তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভিজিটিং কার্ড বিতরণ এবং কার্ড জমা দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. জাহিদ হাসান সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার মাধ্যমে চার শতাধিক মানুষকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিজিটিং কার্ড নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার কাজে যুক্ত রেখেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কার্ড জমা দেওয়ার পর তাঁদের টাকা দেওয়া হতো। তবে এই অর্থ প্রদানের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, কারা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অর্থের উৎস কী, এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক জীবিকার সুযোগ তৈরির পরিবর্তে মানুষকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ধরনের কাজে যুক্ত রাখার অভিযোগটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

মো. জাহিদ হাসান ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব ছেড়ে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় বদলি হয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বদলির আদেশ, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

একটি সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল পদে কর্মরত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমীচীন নয়।

অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, ময়মনসিংহে কথিতভাবে চালু থাকা এ ধরনের ব্যবস্থা নতুন কর্মস্থলেও চালু হতে পারে। যদিও বারহাট্টায় এমন কোনো কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাই নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।