ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আদালতের নির্দেশ অমান্য করার পর তাঁর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৬ অক্টোবর) ব্রাজিলের সুপ্রিম ফেডারেল কোর্ট অর্থপাচারের তদন্তের অংশ হিসেবে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিওকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি তা করেননি। এরপর মঙ্গলবার ফেডারেল পুলিশ তাঁর সব ব্রাজিলীয় পাসপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে।
একাধিক কূটনৈতিক ও পরিবার-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাভিও ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন এবং সেখানে তাঁর ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোর সঙ্গে অবস্থান করছেন। তিনি কীভাবে এবং কোন পথে ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির সীমান্ত দিয়ে ফ্লাভিওর প্রবেশের কোনো রেকর্ড নেই।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও বলসোনারো ও তাঁর পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত হন ফ্লাভিও বলসোনারো। লুলা ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর বলসোনারো পান ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট। পরাজয়ের পর থেকেই তিনি নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানান এবং ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোকে ‘চক্রান্ত’ বলে অভিযোগ করেন।
ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে বর্ণনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























