ঢাকার ধামরাইয়ে অটোরিকশার গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় লুণ্ঠিত তিনটি তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ছয় চাকার পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের ছোট কালামপুর এলাকায় বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন অটোরিকশার গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কালো মুখোশ পরা ৮ থেকে ৯ জনের একটি সশস্ত্র দল গ্যারেজে প্রবেশ করে বিল্লাল হোসেনের বড় ভাই মুজিবর রহমানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাঁর হাত-পা বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গ্যারেজ থেকে চারটি ইজিবাইক, বিভিন্ন ইজিবাইক থেকে খুলে নেওয়া ২৭টি ব্যাটারি, সিসি ক্যামেরার ডিভিআর বক্স ও নগদ টাকাসহ মোট ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর ধামরাই থানায় ডাকাতির মামলা করা হয়।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওছার সুলতান। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৩ অক্টোবর ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলী খালপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল (৩০) ও ইমাম হোসেন শাওনকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ওই এলাকা থেকে লুণ্ঠিত তিনটি তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অটোরিকশাগুলোর আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য মো. সবুজকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার কাচপুর খাসপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমান ওরফে রনক ওরফে রনিকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার রনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ন-১৩-৬১৫৮ নম্বরের একটি ছয় চাকার পুরোনো পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। পিকআপটির আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ টাকা।
ধামরাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: সাইদ আল মামুন 





















