নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের আগমনে শুরু হয়েছে খেজুরের রস সংগ্রহের তৎপরতা। সুস্বাদু এ রস সংগ্রহে গাছিরা এখন বিচরণ করছেন খেজুরগাছে গাছে। দুপুর থেকে শুরু হয় খেজুরগাছে হাঁড়ি টানানো। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁরা হাঁড়ি টানানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। এটি শীতকালীন রস হলেও এবার আগাম রস সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠেছেন গাছিরা।
উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার পাশে, বাড়ির উঠানে ও জমির আইলে হাজার হাজার খেজুরগাছ রয়েছে। গাছিরা এসব খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করলেও দৃষ্টি কেড়েছে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে রেললাইনের পাশের খেজুরগাছগুলো।
আত্রাই রেলওয়ে (পুরোনো) স্টেশন থেকে উত্তর দিকে মহাদীঘি পর্যন্ত রেললাইনের দুই ধারে প্রায় ৩০০ খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছিরা। একসময় এলাকার গাছিরা এসব খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করলেও বর্তমানে স্থানীয় গাছিদের আর দেখা মেলে না। তাই প্রতিবছর রাজশাহীর বাঘা ও আড়ানী এবং নাটোরের লালপুর এলাকা থেকে গাছিরা এসে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এ রস দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু লালী ও গুড়। এলাকার চাহিদা মিটিয়েও এ গুড় অন্যান্য জেলায় বাজারজাত করা হয়।
বিগত বছরের মতো এবারও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ তিনজন এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আব্দুল ইসলামসহ দুজন গাছি রস সংগ্রহ শুরু করেছেন।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। আত্রাই রেললাইনসহ এলাকার প্রায় ২০০ খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। কাকডাকা ভোর থেকে এ রস জ্বাল দিয়ে লালী ও গুড় তৈরি করি। বছরের চার মাস আমরা এ পেশায় নিয়োজিত থাকি। এর আয় দিয়েই সারা বছরের সংসারের ব্যয়ভার বহন করি।’
নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আব্দুল ইসলাম বলেন, ‘খেজুরের রস সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। বিশেষ অভিজ্ঞতা ছাড়া যে কেউ এ রস সংগ্রহ করতে পারবেন না। বিশেষ করে এ রস জ্বাল দিয়ে লালী বা গুড় তৈরি করা খুবই কষ্টের কাজ। সংসারের ব্যয়ভার মেটাতে সবকিছু উপেক্ষা করে আমরা এ পেশা চালিয়ে যাচ্ছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, ‘খেজুরগাছ একটি লাভজনক গাছ। পতিত জমি, রাস্তার ধারে এবং যেকোনো জায়গায় এ গাছ জন্মে। খেজুরগাছ থেকে একদিকে যেমন সুস্বাদু রস, লালী ও গুড় তৈরি করা হয়, তেমনি জ্বালানি কাঠও পাওয়া যায়। অধিক হারে খেজুরগাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।’
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি 


















