ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার চট্টগ্রাম সফর ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

একই দিনে পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চট্টগ্রাম সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ছাত্রশিবিরের সাবেক সাথী-সদস্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বিরোধীদলীয় নেতার।

এদিকে, দুই শীর্ষ নেতার সফর ঘিরে নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, র‍্যাব, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দুই নেতার কর্মসূচির স্থান ও সময় আলাদা হওয়ায় তাঁদের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সূচি নেই। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতার কর্মসূচি ঘিরেও দলীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তিনি নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজার খোঁজখবর নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর নগরের একটি হোটেলে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাতেই ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর। সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সকাল ১০টার দিকে জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত আয়োজিত প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। ছাত্রশিবিরের সাবেক সাথী ও সদস্যদের নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও পূজার নিরাপত্তায় বহুমাত্রিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হুমকি নেই।

এর আগে, সোমবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনস মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত ব্রিফিং প্যারেডে সিএমপি কমিশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতা না রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার চট্টগ্রাম সফর ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

আপডেট সময় ১১:২৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

একই দিনে পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চট্টগ্রাম সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ছাত্রশিবিরের সাবেক সাথী-সদস্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বিরোধীদলীয় নেতার।

এদিকে, দুই শীর্ষ নেতার সফর ঘিরে নগর ও জেলায় চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, র‍্যাব, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২০ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দুই নেতার কর্মসূচির স্থান ও সময় আলাদা হওয়ায় তাঁদের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সূচি নেই। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতার কর্মসূচি ঘিরেও দলীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তিনি নগরের রহমতগঞ্জের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজার খোঁজখবর নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর নগরের একটি হোটেলে বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রাতেই ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর। সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সকাল ১০টার দিকে জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত আয়োজিত প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। ছাত্রশিবিরের সাবেক সাথী ও সদস্যদের নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও পূজার নিরাপত্তায় বহুমাত্রিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো হুমকি নেই।

এর আগে, সোমবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনস মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত ব্রিফিং প্যারেডে সিএমপি কমিশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের শিথিলতা না রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।