ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ইশরাক সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর জরিমানার মুখে বাংলাদেশ দেব-শুভশ্রীর রসায়নে আগ্রহ, বক্স অফিসে কত আয় ‘দেশু ৭’-এর? রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মাদ্রাসা মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি তাড়াইলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে হরিজন ও জেলে সম্প্রদায়ের নারীদের শাড়ি বিতরণ জামালপুর ডিবি পুলিশের বহরে নতুন মাইক্রোবাস ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প-শির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব পুতিনের রংপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় সিএমপির ব্রিফিং প্যারেড

জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ করতে চান না, অভিযোগ ট্রাম্পের

রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চান না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনার চেষ্টা করছেন এবং এতে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জেলেনস্কি এতে মোটেও তোয়াক্কা করছেন না। সত্যি বলতে, ইউরোপ তাঁকে যেভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থসহায়তা দিচ্ছে… তিনি এই যুদ্ধ থামাতেই চান না, সম্ভবত কখনোই চাননি।”

রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা স্থগিত করার বিষয়ে নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জেলেনস্কি এই সংঘাতের অবসান চান না।

ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া-সংক্রান্ত আমার সিদ্ধান্ত একেবারেই সাধারণ। আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এমন কোনো বোকামি করতে চাই না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।”

রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্প্রতি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে আনা নতুন বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে মওকুফ করা হয়েছে। লিন্ডসে গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন।

এ ছাড়া রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকেও সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। আগামী মাসের শুরুতে মার্কিন নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কমানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল-সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত কিয়েভ ও তার মিত্রদের হতবাক করেছে। এর ফলে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে। ট্রাম্প বলেন, শান্তি আলোচনায় ‘বিশাল অগ্রগতি হচ্ছে’ এবং এর মধ্যে জিম্মিদের মুক্ত করার আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, “এই সময়ে নথিতে স্বাক্ষর করলে তা হতে পারত, আর আমি চাইলে পরেও স্বাক্ষর করতে পারি, কিংবা যেকোনো সময় স্বাক্ষর করতে পারি!” তবে তিনি ঠিক কোন দলিলের কথা বলেছেন, তা পরিষ্কার হয়নি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স যোগাযোগ করলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

ট্রাম্প বলেন, “শুনতে কিছুটা অদ্ভুত হলেও, ইরানকে সহায়তা করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া বর্তমানে তাদের সামান্যই সাহায্য করছে। আমি বিষয়টি এভাবেই রাখতে চাই এবং রাখব, যদি না কিছু নির্বোধ লোক এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”

এরপর আবারও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

জরিপে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোটাররা বেশ ক্ষুব্ধ। এর প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্পের দলের ওপর পড়তে পারে। ট্রাম্পের মতে, “জেলেনস্কি জেনেশুনেই রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। কারণ, তিনি জানেন, এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহে চরম আঘাত হানছে।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ইশরাক

জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধ করতে চান না, অভিযোগ ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০৫:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার সঙ্গে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান চান না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনার চেষ্টা করছেন এবং এতে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জেলেনস্কি এতে মোটেও তোয়াক্কা করছেন না। সত্যি বলতে, ইউরোপ তাঁকে যেভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থসহায়তা দিচ্ছে… তিনি এই যুদ্ধ থামাতেই চান না, সম্ভবত কখনোই চাননি।”

রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা স্থগিত করার বিষয়ে নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জেলেনস্কি এই সংঘাতের অবসান চান না।

ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া-সংক্রান্ত আমার সিদ্ধান্ত একেবারেই সাধারণ। আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এমন কোনো বোকামি করতে চাই না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।”

রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্প্রতি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে আনা নতুন বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে মওকুফ করা হয়েছে। লিন্ডসে গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন।

এ ছাড়া রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকেও সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। আগামী মাসের শুরুতে মার্কিন নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কমানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল-সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত কিয়েভ ও তার মিত্রদের হতবাক করেছে। এর ফলে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে। ট্রাম্প বলেন, শান্তি আলোচনায় ‘বিশাল অগ্রগতি হচ্ছে’ এবং এর মধ্যে জিম্মিদের মুক্ত করার আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, “এই সময়ে নথিতে স্বাক্ষর করলে তা হতে পারত, আর আমি চাইলে পরেও স্বাক্ষর করতে পারি, কিংবা যেকোনো সময় স্বাক্ষর করতে পারি!” তবে তিনি ঠিক কোন দলিলের কথা বলেছেন, তা পরিষ্কার হয়নি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স যোগাযোগ করলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

ট্রাম্প বলেন, “শুনতে কিছুটা অদ্ভুত হলেও, ইরানকে সহায়তা করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া বর্তমানে তাদের সামান্যই সাহায্য করছে। আমি বিষয়টি এভাবেই রাখতে চাই এবং রাখব, যদি না কিছু নির্বোধ লোক এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”

এরপর আবারও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

জরিপে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মার্কিন ভোটাররা বেশ ক্ষুব্ধ। এর প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্পের দলের ওপর পড়তে পারে। ট্রাম্পের মতে, “জেলেনস্কি জেনেশুনেই রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। কারণ, তিনি জানেন, এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহে চরম আঘাত হানছে।”