ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জাতীয়তাবাদী মোটর চালক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, সভাপতি আলী আজম, সাধারণ সম্পাদক শিপন বকাউল আব্দুল্লাহপুরে হোটেল পালকি কর্তৃপক্ষের ইন্ধনে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ সৌদি আরবে ১০ মাসে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড, শীর্ষে মাদক অপরাধ টিকটকে তান্ত্রিক সেজে প্রতারণা, নারীর সাড়ে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল দখল হওয়া জমি উদ্ধারে ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে আশ্বাস এনসিপির প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ইশরাক সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর জরিমানার মুখে বাংলাদেশ দেব-শুভশ্রীর রসায়নে আগ্রহ, বক্স অফিসে কত আয় ‘দেশু ৭’-এর?

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ইশরাক

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালানোর ভিডিও প্রকাশের পর বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কথা জানান তিনি। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, “যুদ্ধটা আমি মাদকের বিরুদ্ধে শুরু করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় কোনো স্বার্থ নেই। রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ নেই। বরং যারা মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তারা আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা মানুষ হত্যা ও বিভিন্ন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এসেছে। এখন সময় হয়েছে, আমাদের নিজেদের দেশ নিয়ে ভাবতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই অভিযানের মাধ্যমে যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, কাউকে আঘাত করে থাকি—বাংলাদেশের যে পর্যায়ের মানুষই হোক না কেন, আমি আগেই দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেদিন (মাদকবিরোধী অভিযানের দিন) আমি কোনো ভুল করিনি। কেবল নিজের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রটি হাতে যতটুকু সময় প্রয়োজন ছিল, ততটুকুই রেখেছিলাম। এরপর পকেটে রেখে দিয়েছি।”

নিজের পদত্যাগের প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, “আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাঁকে বলেছি, এই পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়, আরও কোনো এলাকা থাকলে সেখানেও মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সম্মত হয়েছেন। আমাকে সুযোগ করে দিয়ে বলেছেন, ‘যাও এলাকায় এবং কাজ করো।’ এটাই আজকের সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।”

তিনি আরও বলেন, তাঁর কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ আড়ালে পড়ে না যায়, সে জন্যই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, “মাদকবিরোধী যুদ্ধ শুরু করেছ, চালিয়ে যাও।”

মাদকবিরোধী অভিযানে নিজের হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ বলে উল্লেখ করে ইশরাক জানান, তাঁর ব্যক্তিগত নামে দুটি বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এর একটি পিস্তল, অন্যটি রাইফেল। অভিযানের দিন দ্বিতীয় অস্ত্রটি নিয়ম মেনে একজন সহকর্মীর কাছে রাখতে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র নয়, খালি হাতে থাকবেন উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, “আমরা কাউকে ভয় পাই না।”

মেয়র পদে নির্বাচন প্রসঙ্গ

আগামীতে ঢাকার মেয়র পদে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁর একক সিদ্ধান্তেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

ইশরাক বলেন, তিনি ২০২০ সালে মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলেও জানান।

দল চাইলে মেয়র পদে নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে ইশরাক বলেন, দল তাঁকে উপযুক্ত মনে করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। আবার দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলেও তাঁর পক্ষে কাজ করবেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রেসক্লাব ভবনের তৃতীয় তলা থেকে নিচে নেমে আসেন ইশরাক হোসেন। এ সময় নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তিনিও গাড়ির ছাদ খুলে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন এবং হ্যান্ডমাইকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সেখানে আবারও নিজের পদত্যাগের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এরপর বেলা ২টা ৫৬ মিনিটের দিকে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ ছাড়েন ইশরাক হোসেন। তাঁকে বহনকারী গাড়িটি প্রেসক্লাব থেকে বেরিয়ে শিক্ষাভবন হয়ে সচিবালয়ের দিকে যায়। পরে জিরো পয়েন্ট হয়ে গোপীবাগের দিকে যান তিনি। এ সময়ও তাঁর সঙ্গে নেতা-কর্মীরা ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয়তাবাদী মোটর চালক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা, সভাপতি আলী আজম, সাধারণ সম্পাদক শিপন বকাউল

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ইশরাক

আপডেট সময় ০৭:০০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালানোর ভিডিও প্রকাশের পর বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কথা জানান তিনি। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেন, “যুদ্ধটা আমি মাদকের বিরুদ্ধে শুরু করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় কোনো স্বার্থ নেই। রাজনৈতিক কোনো স্বার্থ নেই। বরং যারা মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তারা আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তারা মানুষ হত্যা ও বিভিন্ন নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এসেছে। এখন সময় হয়েছে, আমাদের নিজেদের দেশ নিয়ে ভাবতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই অভিযানের মাধ্যমে যদি আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকে, কাউকে আঘাত করে থাকি—বাংলাদেশের যে পর্যায়ের মানুষই হোক না কেন, আমি আগেই দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেদিন (মাদকবিরোধী অভিযানের দিন) আমি কোনো ভুল করিনি। কেবল নিজের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রটি হাতে যতটুকু সময় প্রয়োজন ছিল, ততটুকুই রেখেছিলাম। এরপর পকেটে রেখে দিয়েছি।”

নিজের পদত্যাগের প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, “আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাঁকে বলেছি, এই পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়, আরও কোনো এলাকা থাকলে সেখানেও মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সম্মত হয়েছেন। আমাকে সুযোগ করে দিয়ে বলেছেন, ‘যাও এলাকায় এবং কাজ করো।’ এটাই আজকের সংবাদ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।”

তিনি আরও বলেন, তাঁর কারণে বিএনপি বা সরকার যাতে বিব্রত না হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ আড়ালে পড়ে না যায়, সে জন্যই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, “মাদকবিরোধী যুদ্ধ শুরু করেছ, চালিয়ে যাও।”

মাদকবিরোধী অভিযানে নিজের হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ বলে উল্লেখ করে ইশরাক জানান, তাঁর ব্যক্তিগত নামে দুটি বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে। এর একটি পিস্তল, অন্যটি রাইফেল। অভিযানের দিন দ্বিতীয় অস্ত্রটি নিয়ম মেনে একজন সহকর্মীর কাছে রাখতে দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র নয়, খালি হাতে থাকবেন উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, “আমরা কাউকে ভয় পাই না।”

মেয়র পদে নির্বাচন প্রসঙ্গ

আগামীতে ঢাকার মেয়র পদে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁর একক সিদ্ধান্তেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

ইশরাক বলেন, তিনি ২০২০ সালে মেয়র পদে নির্বাচন করেছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বলেও জানান।

দল চাইলে মেয়র পদে নির্বাচন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে ইশরাক বলেন, দল তাঁকে উপযুক্ত মনে করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। আবার দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলেও তাঁর পক্ষে কাজ করবেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রেসক্লাব ভবনের তৃতীয় তলা থেকে নিচে নেমে আসেন ইশরাক হোসেন। এ সময় নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তিনিও গাড়ির ছাদ খুলে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন এবং হ্যান্ডমাইকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সেখানে আবারও নিজের পদত্যাগের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এরপর বেলা ২টা ৫৬ মিনিটের দিকে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ ছাড়েন ইশরাক হোসেন। তাঁকে বহনকারী গাড়িটি প্রেসক্লাব থেকে বেরিয়ে শিক্ষাভবন হয়ে সচিবালয়ের দিকে যায়। পরে জিরো পয়েন্ট হয়ে গোপীবাগের দিকে যান তিনি। এ সময়ও তাঁর সঙ্গে নেতা-কর্মীরা ছিলেন।