ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়াদ শেষ এক বছর আগে, বিল পরিশোধের পরও চলছে অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণকাজ

রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। অথচ এখনো চলছে নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, নির্মাণকাজ শেষ করে পুরো স্থাপনা আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে না দেওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ভবনটি ব্যবহার করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টের উন্মুক্ত ভয়েড এরিয়া দিয়ে নিচে পড়ে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রাণ হারিয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন। এ ঘটনায় ভবনটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি, বিল পরিশোধ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে অফিসার্স ক্লাব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১২ তলা ভবনটির ভেতরে নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ করা হলেও এখনো টুকটাক কাজ চলছে। নিচতলায় ফার্নিচার বসানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ভবনের ইনফরমেশন ডেস্কে লোক রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের দিকে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ক্লাবের সদস্যদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ভবনের ভেতরে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা-এর ক্যাম্পাসে বহুতল ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির কাজ প্রথমে ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সেই সময় প্রকৌশলীরা ও ঠিকাদার মিলে তা নথি সমাপ্ত করে। কিন্তু বর্ধিত মেয়াদেও কাজ শেষ করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী সংস্থা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক বছর অতিবাহিত হলেও ভবনটির নির্মাণকাজ এখনো চলমান।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করছেন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীরা। অথচ প্রকল্পের পুরো স্থাপনা এখনো অফিসার্স ক্লাব কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে কী ভিত্তিতে বিল দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স মূলত আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন চকলাদারের ভাই মিনারুল চকলাদারের।

পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের ডিরেক্টর বরিউল রহমান বলেন, ‘আমাদের যেই অংশের কাজ দেওয়া হয়েছে, তা শেষ করে আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন আমরা কোনো কাজ করছি না।’

সেই সময় প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ জোন) মো. মনিরুল ইসলাম। এই বিষয়ে জানার জন্য এই প্রকৌশলীকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দেননি।

বর্তমান প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল কালাম আজাদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) কাজী মাশরিক আহমেদ।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ। ভবনটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে এবং হ্যান্ডওভার গ্রহণের জন্য ক্লাবকে জানানো হয়েছে। ক্লাবে অনেকগুলো ফ্যাসিলিটি থাকায় হ্যান্ডওভার কার্যক্রমটি চলমান রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভবনটির বেজমেন্টে ডাক্টের কাজ চলছে। সেখানেই মোশাররফ হোসেন হারিয়ে যান। তিনি লিফটে না গিয়ে দরজার কাছে যাওয়ার কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। যা একেবারেই হওয়ার কথা না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ। তবে এখানে অনেক কমিটি আছে। তারা (কমিটি) কিছু কাজ করাতে চায়। এই ছোটখাটো ইস্যুর কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপনাটি কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এর আগে কমিটি ভবন ব্যবহার শুরু করেছে।’

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২৮ কোটি ছয় লাখ ৭৯ হাজার টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৩ কোটি টাকার বেশি। সরকারি অর্থায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে পড়ে মৃত্যু

নির্ধারিত মেয়াদে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া এবং হস্তান্তরের আগেই ভবন ব্যবহারের বিষয়টির মধ্যে সামনে এসেছে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্মাণাধীন ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে বেজমেন্ট-১-এর দক্ষিণ পাশে থাকা উন্মুক্ত ভয়েড এরিয়া (ফাঁকা স্থান) দিয়ে মোশাররফ হোসেনের নিচে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, ওই দিন সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সাঁতার শেখাতে অফিসার্স ক্লাবে যান মোশাররফ হোসেন। মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীর রক্তাক্ত ছিল। পরে সাবেক এই অতিরিক্ত সচিবকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেয়াদ শেষ এক বছর আগে, বিল পরিশোধের পরও চলছে অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণকাজ

আপডেট সময় ১১:২১:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। অথচ এখনো চলছে নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, নির্মাণকাজ শেষ করে পুরো স্থাপনা আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে না দেওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ভবনটি ব্যবহার করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টের উন্মুক্ত ভয়েড এরিয়া দিয়ে নিচে পড়ে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রাণ হারিয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন। এ ঘটনায় ভবনটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি, বিল পরিশোধ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে অফিসার্স ক্লাব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১২ তলা ভবনটির ভেতরে নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ করা হলেও এখনো টুকটাক কাজ চলছে। নিচতলায় ফার্নিচার বসানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ভবনের ইনফরমেশন ডেস্কে লোক রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের দিকে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ক্লাবের সদস্যদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ভবনের ভেতরে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘অফিসার্স ক্লাব, ঢাকা-এর ক্যাম্পাসে বহুতল ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির কাজ প্রথমে ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সেই সময় প্রকৌশলীরা ও ঠিকাদার মিলে তা নথি সমাপ্ত করে। কিন্তু বর্ধিত মেয়াদেও কাজ শেষ করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী সংস্থা। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক বছর অতিবাহিত হলেও ভবনটির নির্মাণকাজ এখনো চলমান।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করছেন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীরা। অথচ প্রকল্পের পুরো স্থাপনা এখনো অফিসার্স ক্লাব কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে কী ভিত্তিতে বিল দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স মূলত আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন চকলাদারের ভাই মিনারুল চকলাদারের।

পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সের ডিরেক্টর বরিউল রহমান বলেন, ‘আমাদের যেই অংশের কাজ দেওয়া হয়েছে, তা শেষ করে আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন আমরা কোনো কাজ করছি না।’

সেই সময় প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ জোন) মো. মনিরুল ইসলাম। এই বিষয়ে জানার জন্য এই প্রকৌশলীকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দেননি।

বর্তমান প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল কালাম আজাদ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) কাজী মাশরিক আহমেদ।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ। ভবনটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে এবং হ্যান্ডওভার গ্রহণের জন্য ক্লাবকে জানানো হয়েছে। ক্লাবে অনেকগুলো ফ্যাসিলিটি থাকায় হ্যান্ডওভার কার্যক্রমটি চলমান রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভবনটির বেজমেন্টে ডাক্টের কাজ চলছে। সেখানেই মোশাররফ হোসেন হারিয়ে যান। তিনি লিফটে না গিয়ে দরজার কাছে যাওয়ার কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। যা একেবারেই হওয়ার কথা না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ। তবে এখানে অনেক কমিটি আছে। তারা (কমিটি) কিছু কাজ করাতে চায়। এই ছোটখাটো ইস্যুর কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপনাটি কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এর আগে কমিটি ভবন ব্যবহার শুরু করেছে।’

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২৮ কোটি ছয় লাখ ৭৯ হাজার টাকা। পরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৩ কোটি টাকার বেশি। সরকারি অর্থায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে পড়ে মৃত্যু

নির্ধারিত মেয়াদে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া এবং হস্তান্তরের আগেই ভবন ব্যবহারের বিষয়টির মধ্যে সামনে এসেছে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্মাণাধীন ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে বেজমেন্ট-১-এর দক্ষিণ পাশে থাকা উন্মুক্ত ভয়েড এরিয়া (ফাঁকা স্থান) দিয়ে মোশাররফ হোসেনের নিচে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, ওই দিন সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সাঁতার শেখাতে অফিসার্স ক্লাবে যান মোশাররফ হোসেন। মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীর রক্তাক্ত ছিল। পরে সাবেক এই অতিরিক্ত সচিবকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।