ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১০০ গুলির চেয়ে একটি গান অনেক বেশি শক্তিশালী : রিজভী নওগাঁয় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা, মালিকদের সহযোগিতার অঙ্গীকার কুমিল্লায় জেলা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬, ইয়াবা-বিয়ার উদ্ধার তাড়াইলের দামিহা-হাছলা সড়ক খানাখন্দে ভরা, দুর্ভোগে স্থানীয়রা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ইয়াবা-চকোপ্লাস সিরাপ ও দুই মোটরসাইকেল জব্দ রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের অ্যালামনাই পুনর্মিলনীর রেজিস্ট্রেশন উদ্বোধন রংপুর মাউশিতে হাসিনার আত্মীয় মাহমুদকে পদায়নের তোড়জোড়, উঠেছে নানা অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে ক্যান্টিনে কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ: বন্দি ও রক্ষীদের ক্ষোভ সচিবের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতির শাস্তি বাতিলের পরই ২,৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের দায়িত্বে জুয়েল

বস্তায় প্রেমিকার মরদেহ নিয়ে পাহাড়ের পথে, রক্তের দাগে পুলিশের হাতে আটক

প্রেমিকাকে গলা কেটে হত্যার পর তাঁর মরদেহ করা হয় বস্তাবন্দি। এরপর মোটরসাইকেলে করে মরদেহ পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন যুবক। কিন্তু নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় বস্তা থেকে রক্ত চুইয়ে পড়তে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে বস্তা খুলে তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার জেলার বলরামপুর থানার বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসের কাছে নাকা চেকিং চলাকালে ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক মোটরসাইকেলে একটি বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলেন। বস্তাটি দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বস্তা থেকে রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে বস্তা খুলে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তরুণীকে নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহটি অযোধ্যা পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত। পুলিশ দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে রবিবার আদালতে হাজির করা হচ্ছে।

নিহত তরুণীর বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায়। অভিযুক্তের বাড়িও একই এলাকায় বলে জানা গেছে। তরুণী নার্সিংয়ের পড়াশোনার জন্য পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং তিনিও পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন।

নিহতের পরিচিতদের দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে তরুণীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একই কোচিংয়ে পড়াশোনাও করতেন। সম্প্রতি তরুণীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ তৈরি হয় অভিযুক্তের মধ্যে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বচসা হতো বলে অভিযোগ।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই শনিবার তরুণীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর মরদেহ বস্তায় ভরে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়েন অভিযুক্ত।

তরুণীর পরিবারের দাবি, শনিবার দুপুর ১টার দিকে মেস থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন তিনি। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন তরুণী। সেদিন ফোন না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ফোন করলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মেসের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। থানায় নিখোঁজের ডায়েরিও করা হয়। শনিবার গভীর রাতে যুবককে আটক করার পর তাঁর কাছ থেকে তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সূত্র: আনন্দবাজার।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০০ গুলির চেয়ে একটি গান অনেক বেশি শক্তিশালী : রিজভী

বস্তায় প্রেমিকার মরদেহ নিয়ে পাহাড়ের পথে, রক্তের দাগে পুলিশের হাতে আটক

আপডেট সময় ০৫:২৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেমিকাকে গলা কেটে হত্যার পর তাঁর মরদেহ করা হয় বস্তাবন্দি। এরপর মোটরসাইকেলে করে মরদেহ পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন যুবক। কিন্তু নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় বস্তা থেকে রক্ত চুইয়ে পড়তে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে বস্তা খুলে তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার জেলার বলরামপুর থানার বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসের কাছে নাকা চেকিং চলাকালে ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক মোটরসাইকেলে একটি বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলেন। বস্তাটি দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বস্তা থেকে রক্ত বের হতে দেখা যায়। পরে বস্তা খুলে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তরুণীকে নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহটি অযোধ্যা পাহাড়ে ফেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন অভিযুক্ত। পুলিশ দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে রবিবার আদালতে হাজির করা হচ্ছে।

নিহত তরুণীর বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি থানা এলাকায়। অভিযুক্তের বাড়িও একই এলাকায় বলে জানা গেছে। তরুণী নার্সিংয়ের পড়াশোনার জন্য পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং তিনিও পুরুলিয়া শহরের একটি মেসে থাকতেন।

নিহতের পরিচিতদের দাবি, অভিযুক্তের সঙ্গে তরুণীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা একই কোচিংয়ে পড়াশোনাও করতেন। সম্প্রতি তরুণীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ তৈরি হয় অভিযুক্তের মধ্যে। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই বচসা হতো বলে অভিযোগ।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই শনিবার তরুণীকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর মরদেহ বস্তায় ভরে অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়েন অভিযুক্ত।

তরুণীর পরিবারের দাবি, শনিবার দুপুর ১টার দিকে মেস থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন তিনি। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন তরুণী। সেদিন ফোন না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ফোন করলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মেসের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। থানায় নিখোঁজের ডায়েরিও করা হয়। শনিবার গভীর রাতে যুবককে আটক করার পর তাঁর কাছ থেকে তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সূত্র: আনন্দবাজার।