কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা-হাছলা সড়কটি খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টির সময় সড়কের গর্তগুলো পানিতে ডুবে থাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় লোকজন।
গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দামিহা-হাছলা সড়কের পুরো অংশ ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও উঠে গেছে পিচ, কোথাও বের হয়েছে ইটের খোয়া। সড়কের গর্তে জমে আছে পানি।
তাড়াইল উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দামিহা বাজার ব্রিজ থেকে হাছলা ভায়া তাড়াইল সদর বাজার পুরাতন ডাকবাংলো পর্যন্ত ২০১৭ সালে নবিদেপ প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল। সড়কটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৪২ কিলোমিটার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। সড়কের পাশে হাছলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সড়কে পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মাহেন্দ্র, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল ও সাইকেল নিয়মিত চলাচল করে।
হাছলা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা ছাইদুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। খানাখন্দ, পানি ও কাদায় ভরে গেছে সড়ক।’
সড়কটি দিয়ে নিয়মিত অটোরিকশা চালান কাইয়ূম মিয়া। তিনি বলেন, ‘সড়কের গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবার গাড়ি নিয়ে বের হলেই দুর্ঘটনার ভয়ে থাকি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব মিয়া বলেন, ‘সড়ক ভেঙে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। খানাখন্দে ভরা সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’
তাড়াইল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিভাগের উপজেলা, ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে মেরামতের জন্য সড়কটি প্রস্তাবিত আছে। অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়িত হবে।’
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তাড়াইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা আখতার। তিনি বলেন, ‘মেরামতের জন্য প্রস্তাবিত হলেই সড়কটি দ্রুত মেরামত করা হবে।’
রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: 



















