কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোহাগের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নের ধোঁয়াশা। আত্মহত্যার ঘটনা বলা হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
শুক্রবার সকাল ১১:৩০ মিনিটে সোহাগের বাসভবনে সরেজমিনে পৌঁছান বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফন সম্পন্ন করার বিষয়টি সাংবাদিক ও স্থানীয়দের নজর কাড়ে। আইনি প্রক্রিয়া কিংবা ময়নাতদন্ত শেষ না করে এত তাড়াহুড়ো করে কেন দাফন সম্পন্ন করা হলো—গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের মুখে পড়ে অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দিতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সোহাগের চাচা এবং ওই অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তালেব ভাইজানের সঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিকরা। তিনি জানান, মূলত সোহাগের অনুপ্রেরণা ও হাত ধরেই তাঁর অনলাইন জগতে আগমন ঘটেছিল। তবে সম্পর্কের তিক্ততার ইঙ্গিত দিয়ে তালেব ভাইজান বলেন, “সোহাগের বিয়ের কিছুদিন আগে থেকেই আমরা যৌথভাবে ভিডিও তৈরি করা বন্ধ করে দিই। এরপর থেকেই মূলত আমাদের দুজনের মধ্যে একটি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।” তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া তাড়াহুড়ো করে দাফন করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তালেব ভাইজান কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে তা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এদিকে তালেব ভাইজানের বক্তব্যের ঠিক বিপরীত তথ্য প্রদান করেছেন নিহত সোহাগের পিতা। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ময়নাতদন্ত না করিয়ে এত দ্রুত ও তাড়াহুড়ো করে দাফনের পুরো সিদ্ধান্তটি ছিল তালেব ভাইজানের একচ্ছত্র। তাঁর এই বক্তব্যে পুরো ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
চাচা ও বাবার এমন মুখোমুখি এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্থানীয় জনমনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পেছনের এই সম্পর্কের জটিলতা ও দ্রুত দাফনের কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। শুভাকাঙ্ক্ষী ও কোটি ভক্তদের একটাই দাবি—পর্দার আড়ালের আসল সত্যটি যেন কোনো প্রভাবশালী চাপে ঢাকা পড়ে না যায়। সঠিক পুলিশি তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসুক সোহাগের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত সত্য।
আল মিজান ইসলাম-নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি 






















