পীরগঞ্জে একটানা দীর্ঘ আট বছর একই কর্মস্থলে প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব পালনের পর, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মিঠাপুকুর উপজেলায় বদলি হওয়া সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজা বেগমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিন বছরের অধিক সময় একই উপজেলায় চাকরির বিধান না থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি পীরগঞ্জেই বহাল ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সাবেক এমপি এইচ এম আশিকুর রহমানের পুত্র রাশেক রহমানের সরাসরি আশ্রয়ে ছিলেন পীরগঞ্জের সাবেক এই উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজা বেগম। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দিয়ে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে তিনি এলাকায় চরম দাপট দেখাতেন। শুধু তাই নয়, ২০০৪ সাল থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই কর্মকর্তার পরিবারের মোট ৩৮ জন সদস্য চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছেন বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে তাকে মিঠাপুকুর উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তার স্বভাব ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট বদলায়নি। এবার তিনি স্থানীয় বিএনপির কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় থেকে মিঠাপুকুরেও দুর্নীতির জাল বিস্তার করছেন। এই অনিয়মের সিন্ডিকেটে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন সহকারী পরিদর্শক শামীম, যার বিরুদ্ধেও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রভাব বিস্তারকারী এবং নানা অনিয়মে জড়িত এমন কর্মকর্তাদের মিঠাপুকুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় পুনর্বাসন ও বহাল রাখা নিয়ে বর্তমানে স্থানীয় জনগণ এবং সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শহীদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি 



















