ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মরণফাঁদে কুমিল্লা সদরের রঘুপুর সড়ক, দুর্দশায় ১৩ হাজার মানুষ লং মার্চের নামে বিরোধী দল জ্বালানি অপচয় করছে : মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী দেশ গঠনে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের চার বিশেষ আহ্বান রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ডা. জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন পর্যটকের কাছ থেকে ৫০ টাকা আদায়, ৫ টাকার নির্দেশনা উপেক্ষা; ক্ষোভে দ্বীপবাসী সামান্য ভুলেও ১৫ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ মির্জাপুর ভূমি অফিসে রিনা রানীর দাপট, ঘুষ-নথি জালিয়াতির অভিযোগ ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসে তুহিন-সাজুর দাপট, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অনিয়মের অভিযোগ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে পিআইবির ডিজি ফারুক ওয়াসিফের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন অভিযোগের পরও একই বিদেশি স্টেশনে স্বামী-স্ত্রী

ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসে তুহিন-সাজুর দাপট, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকার ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত তুহিন নামের এক অফিস সহকারী এবং বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয়ধারী নকলনবিশ সাজুর নেতৃত্বে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

অভিযোগ রয়েছে, তুহিন একসময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং কসবা এলাকায় তার বাড়ি। তার মা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তুহিন অফিস সহকারী পদে চাকরিতে যোগ দেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। ঢাকার বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালনের পর ৫ আগস্টের পর তাকে ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসে পোস্টিং দেওয়া হয়।

ডেমরায় যোগ দেওয়ার পর তুহিন একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। এই চক্রের আরেক প্রভাবশালী সদস্য নকলনবিশ সাজু। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাজু নিজেকে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দাপট দেখান এবং স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় পুরো রেজিস্ট্রি অফিস কার্যত নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ বলেন,
“ভাই, এই সাজুর অত্যাচারে আমরা শেষ। অফিসে কাজ করতে গেলেই ভয় লাগে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, তুহিন ও সাজুর বিরুদ্ধে নামে–বেনামে কোটি টাকার সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি ও ফ্ল্যাট থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব সম্পদের বৈধ উৎস নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্ন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সাজু বিভিন্ন সাংবাদিকের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং প্রকাশ্যে বলেন,
“আমার অনেক টাকা। ৫০০ বা ১০০০ টাকা নিয়ে যান। মিডিয়ার লোকজন আমাদের পকেটে থাকে।”

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে, তুহিন ও সাজুর প্রভাবের কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ডেমরা এলাকার সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পেতে জেলা রেজিস্ট্রার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত না হলে রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আরও বেশি হয়রানির শিকার হবে।

ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসের এসব অভিযোগ নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ছবি নিয়ে আগামী সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মরণফাঁদে কুমিল্লা সদরের রঘুপুর সড়ক, দুর্দশায় ১৩ হাজার মানুষ

ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসে তুহিন-সাজুর দাপট, প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:০৭:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার ডেমরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত তুহিন নামের এক অফিস সহকারী এবং বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয়ধারী নকলনবিশ সাজুর নেতৃত্বে সেখানে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

অভিযোগ রয়েছে, তুহিন একসময় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং কসবা এলাকায় তার বাড়ি। তার মা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তুহিন অফিস সহকারী পদে চাকরিতে যোগ দেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। ঢাকার বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালনের পর ৫ আগস্টের পর তাকে ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসে পোস্টিং দেওয়া হয়।

ডেমরায় যোগ দেওয়ার পর তুহিন একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। এই চক্রের আরেক প্রভাবশালী সদস্য নকলনবিশ সাজু। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাজু নিজেকে বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দাপট দেখান এবং স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় পুরো রেজিস্ট্রি অফিস কার্যত নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নকলনবিশ বলেন,
“ভাই, এই সাজুর অত্যাচারে আমরা শেষ। অফিসে কাজ করতে গেলেই ভয় লাগে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, তুহিন ও সাজুর বিরুদ্ধে নামে–বেনামে কোটি টাকার সম্পদ, বাড়ি, গাড়ি ও ফ্ল্যাট থাকার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব সম্পদের বৈধ উৎস নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রশ্ন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সাজু বিভিন্ন সাংবাদিকের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং প্রকাশ্যে বলেন,
“আমার অনেক টাকা। ৫০০ বা ১০০০ টাকা নিয়ে যান। মিডিয়ার লোকজন আমাদের পকেটে থাকে।”

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে, তুহিন ও সাজুর প্রভাবের কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

ডেমরা এলাকার সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পেতে জেলা রেজিস্ট্রার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্ত না হলে রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আরও বেশি হয়রানির শিকার হবে।

ডেমরা রেজিস্ট্রি অফিসের এসব অভিযোগ নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ছবি নিয়ে আগামী সংখ্যায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।