ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পবিপ্রবির প্রথম উপাচার্য আবদুল হান্নান ভূঁইয়ার স্মরণে সভা ও দোয়া রংপুর জেলা প্রশাসকের এলএ শাখার সিন্ডিকেটের ঘুষ বাণিজ্য! ‘পিংক বাসে’ ভ্রমণ করলেন নারী এমপিরা কুমিল্লায় ডিবি পুলিশের অভিযানে শর্টগান ও এলজিসহ যুবক গ্রেপ্তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে ৩ নার্সকে বদলি করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহেশখালীতে সিএনজি তল্লাশিতে ৮ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২ বিদেশে উচ্চশিক্ষার ভিসা সহজ করতে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী নুর অটোরিকশা-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ৩ দুই আবাসিক হোটেলে হঠাৎ ডিবির অভিযান, ৪ নারীসহ গ্রেপ্তার ৮

নমুনা রেখে পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করছে নেপাল

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলো দাফন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মরদেহের দ্রুত পচন এবং এ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে আলাদা শনাক্তকরণ বা রেফারেন্স নম্বরও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে সুনামির মতো পানি ও কাদার প্রবল স্রোত নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোতে মরদেহ সংরক্ষণে সংকট দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় গতকাল শনিবার জেলার কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অস্থায়ী ব্যবস্থায় রাখা মরদেহগুলোতে পচন বাড়তে থাকায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আমরা একটি বাড়িকে শীতলীকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে মরদেহ রাখছিলাম। এখন ওই বাড়িতেও জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় মরদেহ দাফন করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি বলছে, দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্তের সুবিধার্থে প্রতিটি মরদেহের জন্য আলাদা শনাক্তকরণ বা রেফারেন্স নম্বরও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রতিটি মরদেহের জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর ও অবস্থানের তথ্য রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় মিলে গেলে স্বজনরা সেই মরদেহ কবর থেকে তুলে নিতে পারবেন।

কর্মকর্তারা জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত ছিল।

পরে মরদেহগুলো পরিচয় নম্বর লেখা ব্যাগে রাখা হচ্ছে। দাফনের পরবর্তীতে সহজে উত্তোলন করা যায়, সে জন্য দেড় মিটার গভীর গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। প্রতিটি মরদেহের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট মরদেহটি সহজে উত্তোলন করা যায়।

যেভাবে মিলবে পরিচয়
নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে থাকা ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ তা দাফন করা মরদেহের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে।

পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহের নম্বরের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের নথি যাচাই করে কবরের সঠিক অবস্থান বের করবে। এরপর মরদেহটি কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলোর তথ্য একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে নেপাল পুলিশ। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক বিদেশি নাগরিকসহ নেপালে এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিপ্রবির প্রথম উপাচার্য আবদুল হান্নান ভূঁইয়ার স্মরণে সভা ও দোয়া

নমুনা রেখে পরিচয়হীন মরদেহ দাফন করছে নেপাল

আপডেট সময় ০৩:৪৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলো দাফন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মরদেহের দ্রুত পচন এবং এ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে আলাদা শনাক্তকরণ বা রেফারেন্স নম্বরও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে সুনামির মতো পানি ও কাদার প্রবল স্রোত নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোতে মরদেহ সংরক্ষণে সংকট দেখা দিয়েছে।

এ অবস্থায় গতকাল শনিবার জেলার কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অস্থায়ী ব্যবস্থায় রাখা মরদেহগুলোতে পচন বাড়তে থাকায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আমরা একটি বাড়িকে শীতলীকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে মরদেহ রাখছিলাম। এখন ওই বাড়িতেও জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় মরদেহ দাফন করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ছিল না।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি বলছে, দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্তের সুবিধার্থে প্রতিটি মরদেহের জন্য আলাদা শনাক্তকরণ বা রেফারেন্স নম্বরও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রতিটি মরদেহের জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বর ও অবস্থানের তথ্য রাখা হচ্ছে। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় মিলে গেলে স্বজনরা সেই মরদেহ কবর থেকে তুলে নিতে পারবেন।

কর্মকর্তারা জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত ছিল।

পরে মরদেহগুলো পরিচয় নম্বর লেখা ব্যাগে রাখা হচ্ছে। দাফনের পরবর্তীতে সহজে উত্তোলন করা যায়, সে জন্য দেড় মিটার গভীর গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। প্রতিটি মরদেহের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট মরদেহটি সহজে উত্তোলন করা যায়।

যেভাবে মিলবে পরিচয়
নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে থাকা ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ তা দাফন করা মরদেহের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে।

পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহের নম্বরের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের নথি যাচাই করে কবরের সঠিক অবস্থান বের করবে। এরপর মরদেহটি কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলোর তথ্য একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে নেপাল পুলিশ। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক বিদেশি নাগরিকসহ নেপালে এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।