কুয়েত ও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। পাকিস্তান সফররত কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক সমন্বয় জোরদার, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রস্তুতি ও সক্ষমতার মাত্রা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সমন্বয় জোরদার, সামরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সক্ষমতার মাত্রা বাড়ানো।
এছাড়া প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান ও কুয়েত। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বাড়ছে পাকিস্তানের উপসাগরীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
কুয়েতের সঙ্গে নতুন এই চুক্তি পাকিস্তানের উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসেই পাকিস্তান সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল।
পাকিস্তানের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে।
নতুন চুক্তির ফলে এসব সহযোগিতা আরও কাঠামোবদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক প্রস্তুতি ও সমন্বয়ে গুরুত্ব
চুক্তিতে বিশেষভাবে সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি, সমন্বয় ও পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দুই দেশের সামরিক বাহিনী নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ পাবে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
পাকিস্তান ও কুয়েত উভয় পক্ষই জানিয়েছে, তারা দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সম্প্রসারণে আগ্রহী।
এর ফলে শুধু সামরিক পর্যায়েই নয়, দুই দেশের সামগ্রিক কৌশলগত সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























