ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রতিদিনের কাগজের ফেসবুক পেজ হ্যাক ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আনিসুর রহমান কারাগারে ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসিনি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমির মক্কা প্যাক্টের সদস্যদের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের সংযুক্তি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে, জানালেন সিইসি চট্টগ্রামে চউকের অভিযানে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা, সিলগালা রেস্টুরেন্ট উদ্ধারকাজে ‘সাইবর্গ’ তেলাপোকা, ধ্বংসস্তূপে পৌঁছে দেবে ওষুধ পঞ্চগড়ে অসহায়দের মাঝে সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার, বাইসাইকেল ও চার্জার ভ্যান বিতরণ পিস্তল ঠেকিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে ২ লাখ টাকা লুটে নিলেন ‘পিস্তল বাবু’ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে সোনা-টাকা লুটে নিল ডাকাতের দল আত্রাইয়ে ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ 

উদ্ধারকাজে ‘সাইবর্গ’ তেলাপোকা, ধ্বংসস্তূপে পৌঁছে দেবে ওষুধ

ভূমিকম্প বা ভবনধসের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের কাছে দ্রুত ওষুধ পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হতে পারে বিশাল আকৃতির ‘সাইবর্গ’ তেলাপোকা। এমন সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড ও ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, উত্তর কুইন্সল্যান্ডের জায়ান্ট বুরোয়িং ককরোচের শরীরে ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও সিরিঞ্জযুক্ত বিশেষ যন্ত্র বসিয়েছেন গবেষকরা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির এই তেলাপোকার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষকরা এদের নাম দিয়েছেন ‘প্যারাবর্গ’।

বিশাল আকৃতির এই তেলাপোকার শরীরে স্থাপন করা ইলেকট্রোডের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠিয়ে দূর থেকে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

একটি তেলাপোকা ক্যামেরার মাধ্যমে আটকে পড়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করে, আর অন্যটি প্রয়োজনীয় ওষুধ বহন করে সেখানে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গবেষণায় নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে তেলাপোকাগুলোর সাফল্যের হার ছিল শতভাগ। অন্যদিকে ওষুধ সরবরাহের সামগ্রিক সাফল্যের হার ছিল ৭২ শতাংশ। তবে লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হলে সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।

গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, গুহা বা দুর্গম স্থানে আটকে পড়া মানুষের কাছে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই এই তেলাপোকার দল জরুরি ওষুধ পৌঁছে দিয়ে তাদের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারবে। সাপের কামড় বা তীব্র অ্যালার্জির মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও এ প্রযুক্তি কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।

তবে গবেষণাটি এখনো পরীক্ষাগার পর্যায়ে রয়েছে। সিলিকনের লক্ষ্যবস্তু ও শূকরের চামড়ায় পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের জটিল পরিবেশ, যোগাযোগ সংকেত বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং নিরাপদে ইনজেকশন প্রয়োগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিদিনের কাগজের ফেসবুক পেজ হ্যাক ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আনিসুর রহমান কারাগারে

উদ্ধারকাজে ‘সাইবর্গ’ তেলাপোকা, ধ্বংসস্তূপে পৌঁছে দেবে ওষুধ

আপডেট সময় ০৫:৫৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ভূমিকম্প বা ভবনধসের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষের কাছে দ্রুত ওষুধ পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হতে পারে বিশাল আকৃতির ‘সাইবর্গ’ তেলাপোকা। এমন সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড ও ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, উত্তর কুইন্সল্যান্ডের জায়ান্ট বুরোয়িং ককরোচের শরীরে ক্ষুদ্র ক্যামেরা ও সিরিঞ্জযুক্ত বিশেষ যন্ত্র বসিয়েছেন গবেষকরা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির এই তেলাপোকার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। গবেষকরা এদের নাম দিয়েছেন ‘প্যারাবর্গ’।

বিশাল আকৃতির এই তেলাপোকার শরীরে স্থাপন করা ইলেকট্রোডের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠিয়ে দূর থেকে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

একটি তেলাপোকা ক্যামেরার মাধ্যমে আটকে পড়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করে, আর অন্যটি প্রয়োজনীয় ওষুধ বহন করে সেখানে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গবেষণায় নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে তেলাপোকাগুলোর সাফল্যের হার ছিল শতভাগ। অন্যদিকে ওষুধ সরবরাহের সামগ্রিক সাফল্যের হার ছিল ৭২ শতাংশ। তবে লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হলে সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়।

গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন, গুহা বা দুর্গম স্থানে আটকে পড়া মানুষের কাছে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই এই তেলাপোকার দল জরুরি ওষুধ পৌঁছে দিয়ে তাদের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারবে। সাপের কামড় বা তীব্র অ্যালার্জির মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও এ প্রযুক্তি কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে।

তবে গবেষণাটি এখনো পরীক্ষাগার পর্যায়ে রয়েছে। সিলিকনের লক্ষ্যবস্তু ও শূকরের চামড়ায় পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের জটিল পরিবেশ, যোগাযোগ সংকেত বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং নিরাপদে ইনজেকশন প্রয়োগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।