ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছি : শফিকুর রহমান চড়া দামে মাছ-মুরগি-ডিম, বাড়তি দামেও তেলের সংকট ইতালির বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে মিলল মমি করা কুমিরের মাথা বেড়াতে এসে শীতলক্ষ্যায় প্রাণ গেল তিনজনের, এখনো নিখোঁজ ১ আত্রাইয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু তদন্ত করলে প্রত্যেক ছাত্র উপদেষ্টার নামে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে : প্রতিমন্ত্রী নুর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সুবাতাস ৬ মাসে খাদ্য মজুত বেড়েছে দেড় লাখ মেট্রিক টন সমাজ থেকে সব অপরাধ মুছে দেবে বিএনপি: রিজভী হুথিদের মোকাবিলায় সৌদিকে গোয়েন্দা সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে ৩ নার্সকে বদলি করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের কাউন্টারে সেবা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং ডিউটি রুম, টয়লেট, রান্নাঘর, ওষুধের স্টোরসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।

এ সময় তিনি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা সরাসরি তুলে ধরেন। রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি তিনি সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের মধ্যে চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজন সিনিয়র সেবিকা-রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তারকে অন্যত্র বদলির নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। হাসপাতালে ওষুধের সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করেন এবং দ্রুত ওষুধের ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি আরও বলেন, জনবল ঘাটতি পূরণে আমরা ইতোমধ্যে নতুন জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করছি। অচিরেই সারা দেশে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট পূরণ করে জনগণকে গ্রামাঞ্চলেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিসের সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আগামীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সারা দেশে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য খাতের নানাবিধ সমস্যা উদ্ঘাটন ও সমাধানের চেষ্টা করছি।

পরিদর্শনকালে তিনি স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুর রহমান সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুতজ্জামান বদু, সদস্যসচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যাসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছি : শফিকুর রহমান

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে ৩ নার্সকে বদলি করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের কাউন্টারে সেবা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং ডিউটি রুম, টয়লেট, রান্নাঘর, ওষুধের স্টোরসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।

এ সময় তিনি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন। মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রোগীরা চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা সরাসরি তুলে ধরেন। রোগীদের অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি তিনি সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

রোগী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের মধ্যে চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি, হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজন সিনিয়র সেবিকা-রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তারকে অন্যত্র বদলির নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

এ ছাড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। হাসপাতালে ওষুধের সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করেন এবং দ্রুত ওষুধের ঘাটতি পূরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তিনি আরও বলেন, জনবল ঘাটতি পূরণে আমরা ইতোমধ্যে নতুন জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করছি। অচিরেই সারা দেশে স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট পূরণ করে জনগণকে গ্রামাঞ্চলেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিসের সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আগামীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১০টি করে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সারা দেশে জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য খাতের নানাবিধ সমস্যা উদ্ঘাটন ও সমাধানের চেষ্টা করছি।

পরিদর্শনকালে তিনি স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিনুর রহমান সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুতজ্জামান বদু, সদস্যসচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যাসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।