ঝালকাঠি শহরের টিএনটি রোড এলাকায় এক গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের টিএনটি রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত গৃহবধূর নাম মলিনা রায় (৪৫)। তিনি রতন রায়ের স্ত্রী এবং টিএনটি রোড এলাকার তপন হালদারের বাড়ির নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মলিনা রায়ের পরিবারের সদস্যরা কীর্তিপাশা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত রথযাত্রা উৎসবে অংশ নিতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। উৎসব শেষে রাতে বাসায় ফিরে তারা ঘরের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় মলিনা রায়ের নিথর দেহ দেখতে পান এবং বাসার দুইটি ফ্লাটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাসার মুল্যবান স্বর্নলংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পুরো ফ্লাট এলোমেলো করে ফেলাছে।
পরে বিষয়টি ঝালকাঠি সদর থানায় জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামত ও মরদেহের অবস্থা পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে রেখে গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এটি চুরির উদ্দেশ্য হত্যাকান্ড না ভিন্ন ঘটনা সেটা তদন্তের পরে বলা যাবে।
রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মরদেহটি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটন, হত্যার কারণ নির্ণয় এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে জেলা এনএসআই সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
দিনদুপুরে নয়, রাতের অন্ধকারে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় টিএনটি রোড এলাকাসহ পুরো ঝালকাঠি শহরে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মিজানুর রহমান মুবিন, ঝালকাঠি প্রতিনিধি 























