ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি ‘এই লুকটাও আমার জীবনের একটা গল্প’, ক্যানসার আক্রান্ত সামিয়া আফরিন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগে চীনের প্রতি আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফিরোজ আলম ও স্টেনোগ্রাফার শহীদুলকে ঘিরে বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহিদ-আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে: জাহিদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ বড়লেখায় অবৈধভাবে টিলা কাটার সময় এক্সকাভেটর আটক ইরানি হামলায় ৪১৭ মার্কিন সেনা আহত, বহু যুদ্ধবিমান ধ্বংস শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ঋণখেলাপি হওয়ায় পদ হারালেন রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল

এলটিএম বাদ দিয়ে ওটিএমে প্রীতি, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আজাদের অভিনব টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

এলটিএম (Limited Tendering Method) পদ্ধতির পরিবর্তে অভিনব কায়দায় ওটিএম (Open Tendering Method) পদ্ধতিতে একের পর এক দরপত্র আহ্বান করে বিশাল ‘টেন্ডার বাণিজ্য’ ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। সাধারণ নিয়ম ও স্বচ্ছতা নীতিকে তোয়াক্কা না করে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই তিনি প্রায় ৩৯টি ওটিএম দরপত্র আহ্বান করেছেন, যা নিয়ে খোদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে তীব্র গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগের অন্য কোনো সিভিল বিভাগ যেখানে ওটিএম পদ্ধতিতে এ ধরনের ঢালাও দরপত্র আহ্বান করেনি, সেখানে আরবরিকালচার বিভাগের এই কর্মকর্তার ওটিএম প্রীতি এবং রেট নিয়ে কারসাজির বিষয়টি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেড় মাসে ৩৯টি ওটিএম দরপত্রের ‘রেকর্ড’
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি— এই তিন দিনেই মূলত ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্রের বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আহ্বান করা উল্লেখযোগ্য ৩৯টি দরপত্র আইডি (Tender ID) নিচে তুলে ধরা হলো:

দরপত্র আহ্বানের তারিখ সংশ্লিষ্ট দরপত্র আইডি (Tender IDs)
১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি ও ০৪ ফেব্রুয়ারি (২০২৫) 1062648, 1062651, 1062652, 1062649, 1062654, 1062653, 1056143, 1056144, 1060358, 1062671, 1062647, 1062396, 1056147, 1062385, 1069899, 1071271, 1071766, 1069900, 1069901, 1068865, 1070729, 1071778, 1071779, 1071780, 1069462, 1068870, 1056141, 1068864, 1068901, 1057944, 1057946, 1068860, 1068896, 1069173, 1062672, 1068863, 1068859, 1068851, 1057813
অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নামে ওটিএম করা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট চক্রের সাথে সমঝোতা (রেট ফিক্সিং) করে এই বিপুল সংখ্যক টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো কোটি কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা বা কমিশন হাতিয়ে নেওয়া।

‘১০ শতাংশ কমিশন ছাড়া সই হয় না ফাইল’
প্রকল্প তদারকি, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার ও বিভাগীয় সূত্রগুলোর দাবি বড় অংকের কমিশন বা ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা ছাড়া এই দপ্তরে কোনো ফাইল নড়ে না।

অভিযোগের মূল বক্তব্য: “আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগে প্রায় প্রতিটি ফাইলের বিপরীতে সাধারণত ১০ শতাংশ (১০%) পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। এই নির্ধারিত পার্সেন্টেজ বা ঘুষের টাকা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না নির্বাহী প্রকৌশলী।”

সরকারি বড় প্রকল্পগুলোতে যেখানে জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে, সেখানে একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এমন নীতিহীন ভূমিকার কারণে প্রকল্পের ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি কাজের গুণগত মান নিয়েও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের আইন ও সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত লাভের জন্য জনসম্পদ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন না। আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দুর্নীতির মহোৎসব বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন। দুদক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে অপরাধের সত্যতা মিললে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

জনস্বার্থে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের এই ওটিএম দরপত্রগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : রাষ্ট্রপতি

এলটিএম বাদ দিয়ে ওটিএমে প্রীতি, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আজাদের অভিনব টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৩৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

এলটিএম (Limited Tendering Method) পদ্ধতির পরিবর্তে অভিনব কায়দায় ওটিএম (Open Tendering Method) পদ্ধতিতে একের পর এক দরপত্র আহ্বান করে বিশাল ‘টেন্ডার বাণিজ্য’ ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। সাধারণ নিয়ম ও স্বচ্ছতা নীতিকে তোয়াক্কা না করে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই তিনি প্রায় ৩৯টি ওটিএম দরপত্র আহ্বান করেছেন, যা নিয়ে খোদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে তীব্র গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগের অন্য কোনো সিভিল বিভাগ যেখানে ওটিএম পদ্ধতিতে এ ধরনের ঢালাও দরপত্র আহ্বান করেনি, সেখানে আরবরিকালচার বিভাগের এই কর্মকর্তার ওটিএম প্রীতি এবং রেট নিয়ে কারসাজির বিষয়টি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেড় মাসে ৩৯টি ওটিএম দরপত্রের ‘রেকর্ড’
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি— এই তিন দিনেই মূলত ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্রের বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আহ্বান করা উল্লেখযোগ্য ৩৯টি দরপত্র আইডি (Tender ID) নিচে তুলে ধরা হলো:

দরপত্র আহ্বানের তারিখ সংশ্লিষ্ট দরপত্র আইডি (Tender IDs)
১৫ জানুয়ারি, ২৭ জানুয়ারি ও ০৪ ফেব্রুয়ারি (২০২৫) 1062648, 1062651, 1062652, 1062649, 1062654, 1062653, 1056143, 1056144, 1060358, 1062671, 1062647, 1062396, 1056147, 1062385, 1069899, 1071271, 1071766, 1069900, 1069901, 1068865, 1070729, 1071778, 1071779, 1071780, 1069462, 1068870, 1056141, 1068864, 1068901, 1057944, 1057946, 1068860, 1068896, 1069173, 1062672, 1068863, 1068859, 1068851, 1057813
অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার নামে ওটিএম করা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট চক্রের সাথে সমঝোতা (রেট ফিক্সিং) করে এই বিপুল সংখ্যক টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্যই হলো কোটি কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা বা কমিশন হাতিয়ে নেওয়া।

‘১০ শতাংশ কমিশন ছাড়া সই হয় না ফাইল’
প্রকল্প তদারকি, ফাইল প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার ও বিভাগীয় সূত্রগুলোর দাবি বড় অংকের কমিশন বা ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা ছাড়া এই দপ্তরে কোনো ফাইল নড়ে না।

অভিযোগের মূল বক্তব্য: “আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগে প্রায় প্রতিটি ফাইলের বিপরীতে সাধারণত ১০ শতাংশ (১০%) পর্যন্ত কমিশন দাবি করা হয়। এই নির্ধারিত পার্সেন্টেজ বা ঘুষের টাকা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না নির্বাহী প্রকৌশলী।”

সরকারি বড় প্রকল্পগুলোতে যেখানে জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে, সেখানে একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এমন নীতিহীন ভূমিকার কারণে প্রকল্পের ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি কাজের গুণগত মান নিয়েও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের আইন ও সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত লাভের জন্য জনসম্পদ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন না। আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের দুর্নীতির মহোৎসব বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ করা প্রয়োজন। দুদক আইন অনুযায়ী, এ ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালিয়ে অপরাধের সত্যতা মিললে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

জনস্বার্থে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা আরবরিকালচার গণপূর্ত বিভাগের এই ওটিএম দরপত্রগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।