ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোল হজমের বিব্রতকর রেকর্ড, অসহায় স্বীকারোক্তি নয়্যারের

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১০ বার পড়া হয়েছে

বেশি দিন আগের কথা নয়, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। ৪০ বছর বয়সেও দুর্দান্ত সব সেভের কারণে নায়ক বনে যান জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। এরপর নিজেদের মাঠে ফিরে বাভারিয়ানরা দ্বিতীয় লেগে ৪-৩ এবং অ্যাগ্রিগেটে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে রিয়ালকে বিদায় করে। সেসব ম্যাচের অন্যতম নায়ক নয়্যার গতকাল তিক্ত দিনের সাক্ষী হলেন।

প্যারিসিয়ান সেইন্ট জার্মেইয়ের বিপক্ষে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় বায়ার্ন। প্যারিসে দিনটা ঠিকঠাক কাটেনি নয়্যারের। তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি রেকর্ড গড়েছেন, যে রূপে তাকে আগে কখনও দেখা যায়নি। পিএসজির বিপক্ষে ৪-৫ গোলের পরাজয়ে নয়্যার শুধু পাঁচ গোল হজম করেননি, বরং আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী একটি শটও ঠেকাতে পারেননি। অর্থাৎ, পিএসজির গোলেমুখে নেওয়া প্রতিটি শটই নয়্যারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট ম্যাচের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। ওই সময়ের পর প্রথমবারের মতো কোনো গোলরক্ষক চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট ম্যাচে অন্তত পাঁচ গোল হজম করার পাশাপাশি একটিও সেভ করতে পারেননি। যদিও এর আগেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, তবে শট প্রতিহত করার পূর্ণাঙ্গ তথ্য গত ১৬ মৌসুম ধরেই সংরক্ষিত হচ্ছে। ম্যাচ শেষে ব্যর্থতার সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে নয়্যার বলেন, পিএসজির প্রতিটি গোল প্রায় অপ্রতিরোধ্য ছিল। এর মধ্যে একটি পেনাল্টিতে হয়েছে।

নয়্যার বলেন, ‘গোলগুলো আপনি দেখেছেন। এগুলো ঠেকানো কঠিন। দুয়েকটি ক্ষেত্রে খুব কাছাকাছি ছিলাম, হয়তো স্পর্শও করতে পারতাম। আমাদের হয়তো কিছুটা ভাগ্য ছিল, বল পোস্টে লেগেছে বা আমরা ক্লিয়ার করতে পেরেছি।’ ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় সেনি মায়ুলুর শট ক্রসবারে লাগে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে অন-টার্গেট শট হিসেবে গণ্য হয় না। বায়ার্ন গোলরক্ষক বলেন, ‘পাঁচ গোল হজম করলে ডিফেন্স ও গোলরক্ষক, উভয়েই চাপের মধ্যে পড়ে।’ তবে এই গোলগুলোতে নয়্যারের দোষ তুলনামূলক কম–ই ছিল। বরং পিএসজি পরিকল্পিত আক্রমণে বারবার বায়ার্নের রক্ষণভাগ এলোমেলো করে দিয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির আক্রমণভাগ থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগ কেমন ভারসাম্যপূর্ণ সেটি কারও অজানা নয়। বিশেষ করে বল দখলের পর নিজেদের অর্ধ থেকেই দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলে পিএসজির আক্রমণভাগ। খিচা কাভারৎস্খেলিয়া, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়েরা দ্রুতগতির থ্রু পাসে বায়ার্নের ডিফেন্স চিরে ঢুকে দ্রুত শট নেন। যার সাক্ষী হয়ে আসছে তাদের প্রতিপক্ষ প্রায় প্রতিটি ক্লাব।

সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ আগামী ৬ মে বায়ার্নের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। ফলে নয়্যার স্বভাবতই দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে বেশ আশাবাদী, ‘আমরা এটা থেকে লুকাচ্ছি না। ফিরতি লেগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা ভালো ফর্মে থাকলে তাদের রক্ষণভাগে আঘাত হানতে পারব। আর অবশ্যই আজকের চেয়ে রক্ষণে আরও ভালো করতে হবে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোল হজমের বিব্রতকর রেকর্ড, অসহায় স্বীকারোক্তি নয়্যারের

আপডেট সময় ০৩:০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বেশি দিন আগের কথা নয়, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। ৪০ বছর বয়সেও দুর্দান্ত সব সেভের কারণে নায়ক বনে যান জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। এরপর নিজেদের মাঠে ফিরে বাভারিয়ানরা দ্বিতীয় লেগে ৪-৩ এবং অ্যাগ্রিগেটে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে রিয়ালকে বিদায় করে। সেসব ম্যাচের অন্যতম নায়ক নয়্যার গতকাল তিক্ত দিনের সাক্ষী হলেন।

প্যারিসিয়ান সেইন্ট জার্মেইয়ের বিপক্ষে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় বায়ার্ন। প্যারিসে দিনটা ঠিকঠাক কাটেনি নয়্যারের। তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত একটি রেকর্ড গড়েছেন, যে রূপে তাকে আগে কখনও দেখা যায়নি। পিএসজির বিপক্ষে ৪-৫ গোলের পরাজয়ে নয়্যার শুধু পাঁচ গোল হজম করেননি, বরং আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী একটি শটও ঠেকাতে পারেননি। অর্থাৎ, পিএসজির গোলেমুখে নেওয়া প্রতিটি শটই নয়্যারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট ম্যাচের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। ওই সময়ের পর প্রথমবারের মতো কোনো গোলরক্ষক চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট ম্যাচে অন্তত পাঁচ গোল হজম করার পাশাপাশি একটিও সেভ করতে পারেননি। যদিও এর আগেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, তবে শট প্রতিহত করার পূর্ণাঙ্গ তথ্য গত ১৬ মৌসুম ধরেই সংরক্ষিত হচ্ছে। ম্যাচ শেষে ব্যর্থতার সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে নয়্যার বলেন, পিএসজির প্রতিটি গোল প্রায় অপ্রতিরোধ্য ছিল। এর মধ্যে একটি পেনাল্টিতে হয়েছে।

নয়্যার বলেন, ‘গোলগুলো আপনি দেখেছেন। এগুলো ঠেকানো কঠিন। দুয়েকটি ক্ষেত্রে খুব কাছাকাছি ছিলাম, হয়তো স্পর্শও করতে পারতাম। আমাদের হয়তো কিছুটা ভাগ্য ছিল, বল পোস্টে লেগেছে বা আমরা ক্লিয়ার করতে পেরেছি।’ ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় সেনি মায়ুলুর শট ক্রসবারে লাগে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে অন-টার্গেট শট হিসেবে গণ্য হয় না। বায়ার্ন গোলরক্ষক বলেন, ‘পাঁচ গোল হজম করলে ডিফেন্স ও গোলরক্ষক, উভয়েই চাপের মধ্যে পড়ে।’ তবে এই গোলগুলোতে নয়্যারের দোষ তুলনামূলক কম–ই ছিল। বরং পিএসজি পরিকল্পিত আক্রমণে বারবার বায়ার্নের রক্ষণভাগ এলোমেলো করে দিয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির আক্রমণভাগ থেকে শুরু করে প্রতিটি বিভাগ কেমন ভারসাম্যপূর্ণ সেটি কারও অজানা নয়। বিশেষ করে বল দখলের পর নিজেদের অর্ধ থেকেই দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলে পিএসজির আক্রমণভাগ। খিচা কাভারৎস্খেলিয়া, উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়েরা দ্রুতগতির থ্রু পাসে বায়ার্নের ডিফেন্স চিরে ঢুকে দ্রুত শট নেন। যার সাক্ষী হয়ে আসছে তাদের প্রতিপক্ষ প্রায় প্রতিটি ক্লাব।

সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ আগামী ৬ মে বায়ার্নের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। ফলে নয়্যার স্বভাবতই দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে বেশ আশাবাদী, ‘আমরা এটা থেকে লুকাচ্ছি না। ফিরতি লেগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা ভালো ফর্মে থাকলে তাদের রক্ষণভাগে আঘাত হানতে পারব। আর অবশ্যই আজকের চেয়ে রক্ষণে আরও ভালো করতে হবে।’