ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে আয়ান, খায়রুল ও মতিউর কালবৈশাখীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত বালিয়াডাঙ্গী মির্জাপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বার্ষিক বনভোজন  -২০২৬ অনুষ্ঠিত অভিযোগে ভারী সাবেক এসপি নির্যাতন, অর্থ আদায় ও দুর্নীতির চিত্র সামনে ফরম্যাট বদলাতেই ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, সমস্যা দেখেন না লিটন মাতৃগর্ভে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ধারণ হয় যেভাবে ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড় সাফ ও বিদেশি কোটার ২ জন করে বিদেশি নেওয়ার প্রস্তাব

রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫/২-এর কর্মরত ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডির রিভারভিউ এলাকায় চলমান একাধিক ভবন নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে তিনি সরকারি দায়িত্বকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে ভবন মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায় করছেন।

সম্প্রতি সময়ে ভুক্তভোগী, ধানমন্ডির রিভারভিউ এলাকায় একাধিক ভবন মালিকের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন ভবনের বিরুদ্ধে নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে সেই নোটিশ নিষ্পত্তি, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন এবং প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, সরকারি নোটিশকে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্বের সুস্পষ্ট অপব্যবহার করা হচ্ছে।

একাধিক ভবন মালিকগণ জানান, রাজউক কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। কখনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে, আবার কখনও ভবন ভেঙে ফেলা কিংবা অনুমোদন বাতিলের হুমকি দিয়ে ঘুষ দাবি করা হয়। অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্মাণে সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে অর্থ দাবি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণেও গোপনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিময়ে অনিয়ম উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ভবন মালিকগণ। এতে একদিকে যেমন রাজউকের আইন প্রয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলাম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অসঙ্গত প্রস্তাব দেওয়ার মতো অনৈতিক আচরণ করেন এবং অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে বলেন, আমি এসব কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। সকল কাজ নিয়ম অনুযায়ী করা হয়। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার রাজউক জোন-৫ এর অথরাইজড মোঃ রকিবুল ইসলাম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ শুধু একজন ব্যক্তির অনিয়ম নয়, বরং এটি রাজউকের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, রাজধানীতে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হলে রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ সেবা পাওয়ার বদলে হয়রানির শিকার হতে থাকবেন, আর দুর্নীতির দায়ে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা

রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৫/২-এর কর্মরত ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম এবং চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডির রিভারভিউ এলাকায় চলমান একাধিক ভবন নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে তিনি সরকারি দায়িত্বকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করে ভবন মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায় করছেন।

সম্প্রতি সময়ে ভুক্তভোগী, ধানমন্ডির রিভারভিউ এলাকায় একাধিক ভবন মালিকের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিভিন্ন ভবনের বিরুদ্ধে নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে সেই নোটিশ নিষ্পত্তি, অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন এবং প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, সরকারি নোটিশকে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্বের সুস্পষ্ট অপব্যবহার করা হচ্ছে।

একাধিক ভবন মালিকগণ জানান, রাজউক কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। কখনও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে, আবার কখনও ভবন ভেঙে ফেলা কিংবা অনুমোদন বাতিলের হুমকি দিয়ে ঘুষ দাবি করা হয়। অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্মাণে সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে বড় ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলে অর্থ দাবি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণেও গোপনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিময়ে অনিয়ম উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ভবন মালিকগণ। এতে একদিকে যেমন রাজউকের আইন প্রয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাও হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলাম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অসঙ্গত প্রস্তাব দেওয়ার মতো অনৈতিক আচরণ করেন এবং অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে বলেন, আমি এসব কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। সকল কাজ নিয়ম অনুযায়ী করা হয়। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার রাজউক জোন-৫ এর অথরাইজড মোঃ রকিবুল ইসলাম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ শুধু একজন ব্যক্তির অনিয়ম নয়, বরং এটি রাজউকের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, রাজধানীতে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হলে রাজউকের মতো প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ সেবা পাওয়ার বদলে হয়রানির শিকার হতে থাকবেন, আর দুর্নীতির দায়ে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।