সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

অভিযোগে ভারী সাবেক এসপি নির্যাতন, অর্থ আদায় ও দুর্নীতির চিত্র সামনে

নোয়াখালী জেলায় যুবদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে সাবেক পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে নানা অভিযোগ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।

তথ্য অনুযায়ী, শহীদুল ইসলাম ২০২১ সালের ১ আগস্ট নোয়াখালীর পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। রংপুর জেলার সদর উপজেলায় তার বাড়ি। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০৬ সালে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন না করে বরং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, ঘুষ, মাদক ও ইয়াবা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আজিম সুমন অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে একটি সাম্প্রদায়িক ঘটনার পর তাকে আটক করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তিনি দাবি করেন, রিমান্ডে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার পরিবারের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়।

এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় বিভিন্ন মামলায় অনেক সাধারণ মানুষকে জড়ানো হয় এবং হয়রানির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের কথাও শোনা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের একটি গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এছাড়া সরকারি ক্রয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, পণ্য সরবরাহ ছাড়াই বিল উত্তোলন এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নানা অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন খাতে টেন্ডার আহ্বান করে পণ্য সরবরাহ ছাড়াই অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

অভিযোগে ভারী সাবেক এসপি নির্যাতন, অর্থ আদায় ও দুর্নীতির চিত্র সামনে

আপডেট সময় ০৩:৪৬:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
নোয়াখালী জেলায় যুবদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে সাবেক পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে নানা অভিযোগ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।

তথ্য অনুযায়ী, শহীদুল ইসলাম ২০২১ সালের ১ আগস্ট নোয়াখালীর পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। রংপুর জেলার সদর উপজেলায় তার বাড়ি। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০৬ সালে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন না করে বরং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি, ঘুষ, মাদক ও ইয়াবা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আজিম সুমন অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে একটি সাম্প্রদায়িক ঘটনার পর তাকে আটক করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তিনি দাবি করেন, রিমান্ডে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তার পরিবারের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়।

এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় বিভিন্ন মামলায় অনেক সাধারণ মানুষকে জড়ানো হয় এবং হয়রানির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তদন্তের কথাও শোনা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের একটি গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনকালে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এছাড়া সরকারি ক্রয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, পণ্য সরবরাহ ছাড়াই বিল উত্তোলন এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নানা অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন খাতে টেন্ডার আহ্বান করে পণ্য সরবরাহ ছাড়াই অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।