ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে আয়ান, খায়রুল ও মতিউর কালবৈশাখীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত বালিয়াডাঙ্গী মির্জাপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বার্ষিক বনভোজন  -২০২৬ অনুষ্ঠিত অভিযোগে ভারী সাবেক এসপি নির্যাতন, অর্থ আদায় ও দুর্নীতির চিত্র সামনে ফরম্যাট বদলাতেই ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, সমস্যা দেখেন না লিটন মাতৃগর্ভে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ধারণ হয় যেভাবে ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড় সাফ ও বিদেশি কোটার ২ জন করে বিদেশি নেওয়ার প্রস্তাব

মাতৃগর্ভে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ধারণ হয় যেভাবে

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৫ বার পড়া হয়েছে

মানুষের জন্মরহস্য এবং তার ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটি ইমাম নববীর সংকলিত চল্লিশ হাদিসের চতুর্থ হাদিস হিসেবে পরিচিত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি মানুষের সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক ধাপ এবং তাকদিরের ওপর আলোকপাত করে।

সৃষ্টির তিন পর্যায়

হাদিস অনুযায়ী, মাতৃগর্ভে একটি মানবসন্তানের সৃষ্টি প্রক্রিয়া মোট তিনটি প্রধান পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি পর্যায়ের সময়কাল ৪০ দিন করে। প্রথম ৪০ দিন থাকে বীর্য বা শুক্রাণুর অবস্থায়। পরবর্তী ৪০ দিন রক্তপিণ্ড এবং তার পরের ৪০ দিন মাংসপিণ্ডের রূপ নেয়। অর্থাৎ মোট ১২০ দিন বা চার মাস পর ভ্রূণের এই প্রাথমিক গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়।

সৃষ্টির এই ১২০ দিন পার হওয়ার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা পাঠানো হয়। সেই ফেরেশতা ভ্রূণের ভেতরে রুহ বা আত্মা ফুঁকিয়ে দেন। একইসঙ্গে আল্লাহর নির্দেশে ওই ব্যক্তির আজীবনের জন্য চারটি বিশেষ বিষয় লিখে দেওয়া হয়—তার জীবিকা বা রিজিক কতটুকু হবে, তার আয়ু কতদিন হবে, সে দুনিয়াতে কী কী কাজ করবে এবং সবশেষে সে কি জান্নাতি হবে নাকি জাহান্নামী হবে।

শেষ পরিণতির গুরুত্ব

হাদিসের শেষাংশে মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে এক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সারা জীবন জান্নাতিদের মতো ভালো কাজ করতে পারে, এমনকি জান্নাতের খুব কাছাকাছিও পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু তাকদিরের লিখনের কারণে শেষ সময়ে সে এমন কোনো মন্দ কাজ করে বসে যার ফলে তার স্থান হয় জাহান্নামে। আবার উল্টোভাবে, কেউ সারা জীবন পাপে নিমজ্জিত থেকেও শেষ সময়ে আল্লাহর রহমতে ভালো কাজ করার তৌফিক পায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা

মাতৃগর্ভে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ধারণ হয় যেভাবে

আপডেট সময় ০৩:৩২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মানুষের জন্মরহস্য এবং তার ভাগ্য নির্ধারণ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটি ইমাম নববীর সংকলিত চল্লিশ হাদিসের চতুর্থ হাদিস হিসেবে পরিচিত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি মানুষের সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক ধাপ এবং তাকদিরের ওপর আলোকপাত করে।

সৃষ্টির তিন পর্যায়

হাদিস অনুযায়ী, মাতৃগর্ভে একটি মানবসন্তানের সৃষ্টি প্রক্রিয়া মোট তিনটি প্রধান পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি পর্যায়ের সময়কাল ৪০ দিন করে। প্রথম ৪০ দিন থাকে বীর্য বা শুক্রাণুর অবস্থায়। পরবর্তী ৪০ দিন রক্তপিণ্ড এবং তার পরের ৪০ দিন মাংসপিণ্ডের রূপ নেয়। অর্থাৎ মোট ১২০ দিন বা চার মাস পর ভ্রূণের এই প্রাথমিক গঠন প্রক্রিয়া শেষ হয়।

সৃষ্টির এই ১২০ দিন পার হওয়ার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা পাঠানো হয়। সেই ফেরেশতা ভ্রূণের ভেতরে রুহ বা আত্মা ফুঁকিয়ে দেন। একইসঙ্গে আল্লাহর নির্দেশে ওই ব্যক্তির আজীবনের জন্য চারটি বিশেষ বিষয় লিখে দেওয়া হয়—তার জীবিকা বা রিজিক কতটুকু হবে, তার আয়ু কতদিন হবে, সে দুনিয়াতে কী কী কাজ করবে এবং সবশেষে সে কি জান্নাতি হবে নাকি জাহান্নামী হবে।

শেষ পরিণতির গুরুত্ব

হাদিসের শেষাংশে মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে এক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সারা জীবন জান্নাতিদের মতো ভালো কাজ করতে পারে, এমনকি জান্নাতের খুব কাছাকাছিও পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু তাকদিরের লিখনের কারণে শেষ সময়ে সে এমন কোনো মন্দ কাজ করে বসে যার ফলে তার স্থান হয় জাহান্নামে। আবার উল্টোভাবে, কেউ সারা জীবন পাপে নিমজ্জিত থেকেও শেষ সময়ে আল্লাহর রহমতে ভালো কাজ করার তৌফিক পায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করে।