রাশেদুল ইসলাম গাছ কাটার কতই না কায়দা! কিন্তু এবার গাছ মারার এক অমানবিক ও অভিনব কৌশল দেখা গেল বান্দরবানের লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি অফিসের আঙিনায় থাকা বিশাল সব শিল কড়ই গাছ মারতে ব্যবহার করা হয়েছে ফুটন্ত গরম পানি। গাছ মরে যাওয়ার পর খুব ভোরে সেগুলো কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে খোদ অফিসের অসাধু চক্র।
অভিযোগের তির লামা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী এবং ইলেকট্রিশিয়ান শেখ নাছিরের দিকে। কৌশলটা বেশ অভিনব- প্রথমে গাছের গোড়ায় নিয়মিত ঢালা হয় ফুটন্ত গরম পানি। শিকড় সেদ্ধ হয়ে গাছ যখন মরে যায়, তখনই শুরু হয় কাটার উৎসব।
নির্মাণাধীন ভবনের দোহাই দিয়ে সম্প্রতি বিনা টেন্ডারে সাবাড় করা হয়েছে প্রায় ৯টি মূল্যবান শিল কড়ই গাছ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন খুব ভোরে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে এসব গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। আর সেই বিক্রির টাকায় অফিসে নিজের নাম বরাদ্দকৃত টিনের ঘরে এসি লাগানোর বিলাসিতাও দেখিয়েছেন অভিযুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান নাছির।
পুরো ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরীর নাম আসলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারি সম্পদ বিনা টেন্ডারে কাটার কোনো বিধান নেই। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার শাস্তি থেকে বাঁচতে প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী এবং ইলেকট্রিশিয়ান শেখ নাছির উর্ধ্বতনদের কাছে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।
সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে শেখ নাছির দাবি করেছেন, গাছ কাটার ঘটনায় তিনি ও গৌতম চৌধুরী দুজনে মিলে চট্টগ্রাম গিয়ে চীফ ইঞ্জিনিয়ারকে ম্যানেজ করে এসেছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















