২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো ট্রফি ছাড়াই মৌসুম শেষ করার শঙ্কায় ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এক বছর আগেও চাপে থাকা পেপ গার্দিওলার দল এখন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কেবল তাই নয়, ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় শিরোপার ট্রেবল জয়ের হাতছানি দিচ্ছে সিটির সামনে। ইংলিশ ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র একবারই কোনো দল একই মৌসুমে তিনটি ঘরোয়া ট্রফি জিতেছে, ২০১৯ সালের পর গার্দিওলার সিটি আবারও একই কীর্তি গড়লে অবাক হওয়ার থাকবে না!
এফএ কাপের সেমিফাইনালে গতকাল কঠিন লড়াইয়ের পর সাউদাম্পটনের বিপক্ষে জয় পেয়েছে সিটি। ৭৯ মিনিটে প্রথম গোল হজমের পর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে তাদের ফাইনালে তোলেন জেরেমি ডোকু ও নিকো গঞ্জালেস। এর মধ্য দিয়ে ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া প্রসঙ্গে গার্দিওলা বলছেন, ‘এখনও অনেক দূরের বিষয়। শেষ লিগ ম্যাচের আগে আমরা কিছু বলতে পারব না। এই মুহূর্তে এটা অনেক, অনেক দূরে।’
গত মৌসুমে সিটি বড় ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে পড়েছিল। যদিও তারা কমিউনিটি শিল্ড জেতে, তবে গার্দিওলার মানদণ্ডে সেটি সন্তোষজনক ছিল না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা নিশ্চিত করাই ছিল বড় সান্ত্বনা। এরপর গ্রীষ্মে দল ছেড়ে যান কেভিন ডি ব্রুইনে, ইলকাই গুনদোয়ান, জ্যাক গ্রিলিশ ও এডারসনের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা। এরপর গার্দিওলার তরুণদের নিয়ে গড়া দল গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মৌসুমের শুরুটাও ভালো ছিল না, প্রথম তিন ম্যাচে দুই হার এবং ২০২৬ সালের শুরুতে টানা তিন ড্র। তবে সঠিক সময়ে সিটি ছন্দে ফিরেছে।
কারাবাও কাপ জয়ের পর এফএ কাপ ফাইনালেও ম্যানচেস্টারের ক্লাবটি ফেভারিট হিসেবে খেলতে নামবে। তবে প্রিমিয়ার লিগ পুনরুদ্ধার করাটাই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে তাদের জন্য। এই মুহূর্তে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালকে তাড়া করছে সিটি। আর্সেনাল নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে জিতে আবারও এগিয়ে গেছে। তবে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন হালান্ড-রদ্রিরা। এক ম্যাচ কম খেলে আর্সেনালের চেয়ে ৩ পয়েন্টে পিছিয়ে সিটি। অর্থাৎ, সমান ম্যাচ খেললে পয়েন্টও সমান করে ফেলার সুযোগ রয়েছে।
গার্দিওলার অধীনে এখন পর্যন্ত ম্যানসিটি ৬টি প্রিমিয়ার লিগ, ৫টি কারাবাও কাপ এবং দুটি এফএ কাপ জিতেছে। এবারও তিনি এক মৌসুমে সব জেতার স্বপ্ন দেখছেন। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির প্রসঙ্গে সাবেক সিটি ডিফেন্ডার মিকাহ রিচার্ডস বলছেন, ‘যখন মনে হচ্ছিল সিটি শেষ, তখনই তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দলগুলো এমনই করে।’
এফএ কাপের সেমিফাইনালে ডোকু ও নিকোর শেষ মুহূর্তের গোল সিটিকে ফাইনালে তোলে। এই জয়ে গার্দিওলার এফএ কাপে জয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৮৫ শতাংশ, যা ইতিহাসের অন্যতম সেরা। ফাইনালে উঠার প্রতিক্রিয়ায় সিটির বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড ডোকুর প্রতিক্রিয়া, ‘প্রতিবার ফাইনালে উঠলে মনে হয়– কি অসাধারণ যাত্রা! আবারও ফাইনালে ওঠা অবিশ্বাস্য।’
স্পোর্টস ডেস্ক 
























