ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে আয়ান, খায়রুল ও মতিউর কালবৈশাখীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত বালিয়াডাঙ্গী মির্জাপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বার্ষিক বনভোজন  -২০২৬ অনুষ্ঠিত অভিযোগে ভারী সাবেক এসপি নির্যাতন, অর্থ আদায় ও দুর্নীতির চিত্র সামনে ফরম্যাট বদলাতেই ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, সমস্যা দেখেন না লিটন মাতৃগর্ভে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ধারণ হয় যেভাবে ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড় সাফ ও বিদেশি কোটার ২ জন করে বিদেশি নেওয়ার প্রস্তাব

কালিয়াকৈরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: এসএসসি পরীক্ষার্থী, কৃষক ও খামারিদের দুর্ভোগ চরমে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় টানা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী, কৃষক ও খামারিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় ৭ থেকে ৮ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে গরমে জনদুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
চাপাইর এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, “রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে ঠিকমতো পড়তে পারি না। মোমবাতির আলোয় চোখে সমস্যা হয়, আবার গরমে ফ্যান না চলায় মনোযোগও ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।”
একই উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, “সবাই তো চার্জার লাইট বা আইপিএস কেনার সামর্থ্য রাখে না। গ্রামের শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।”
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে জমিতে সময়মতো পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। কয়েকজন কৃষক জানান, “সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না, আবার ডিজেলের সংকটে বিকল্প ব্যবস্থাও সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এদিকে পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামারেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকাগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে, রান্নাবান্নাতেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। ফলে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারছেন না।
সার্বিকভাবে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কালিয়াকৈরের জনজীবনে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলেছে। দ্রুত এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা

কালিয়াকৈরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: এসএসসি পরীক্ষার্থী, কৃষক ও খামারিদের দুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় ০১:০৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় টানা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থী, কৃষক ও খামারিরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় ৭ থেকে ৮ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে গরমে জনদুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
চাপাইর এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, “রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে ঠিকমতো পড়তে পারি না। মোমবাতির আলোয় চোখে সমস্যা হয়, আবার গরমে ফ্যান না চলায় মনোযোগও ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।”
একই উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিভাবক আনোয়ার হোসেন বলেন, “সবাই তো চার্জার লাইট বা আইপিএস কেনার সামর্থ্য রাখে না। গ্রামের শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।”
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে জমিতে সময়মতো পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। কয়েকজন কৃষক জানান, “সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালাতে পারছি না, আবার ডিজেলের সংকটে বিকল্প ব্যবস্থাও সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
এদিকে পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামারেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকাগুলোতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে, রান্নাবান্নাতেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। ফলে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারছেন না।
সার্বিকভাবে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কালিয়াকৈরের জনজীবনে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলেছে। দ্রুত এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।