সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারের উচ্চপদস্থদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬ ‘অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করতে হবে : শিল্পমন্ত্রী একাধিক দুর্নীতি মামলার আসামি তবুও সিডিএর ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হাসান! পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠক দুই মাস পর আবারও শুরু চাল বিতরণ, সুবিধা পাচ্ছে ১৭ হাজার পরিবার বরগুনায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত পানি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার লুট, কাজের আগেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন একটি ঘরের অপেক্ষায় অসহায় রাসেল মন্ডল পরিবার-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেটার স্বাধীনতা ও আস্থা বাড়াতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ১২:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৭২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আধিপত্য বিস্তার ও মাদককারবারি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের ধলা মুন্সীর দুই ছেলে হায়দার মুন্সী (৪৬) ও সুজন মুন্সী (৩১)। তারা দুজনেই পেশায় রাজমিস্ত্রি। বর্তমানে তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের কালাম মন্ডল ও সুজন মুন্সীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদককারবারি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গতকাল বিকেলে ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের বৈশাখী মেলায় এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালাম মাতুব্বরের বাড়ির সামনে ওৎ পেতে থাকা কালাম মন্ডল (৩৮), সাত্তার মন্ডল (৩২) ও শাহ বরাত মন্ডলসহ একদল দুর্বৃত্ত সুজনের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজনের বাম হাতের কবজির ওপর কোপ দেয়। এতে তিনি আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর সুজনের বড় ভাই হায়দার মুন্সী বাড়ি ফেরার পথে একই দল তার ওপর চড়াও হয়। জীবন বাঁচাতে হায়দার পাশের হালিম ফকিরের রান্নাঘরে আশ্রয় নিলে দুর্বৃত্তরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হায়দারের ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে এবং বাম হাত কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানকারী চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, হায়দারের চার হাত-পায়েই জখম আছে। তবে তার ডান পা ও বাম হাত ‘প্রায় বিচ্ছিন্ন’ অবস্থায় আমরা ফরিদপুরে পাঠিয়েছি। রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সুজনের হাতে জখম আছে। তবে তা হায়দারের মতো অতটা গুরুতর না হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মোল্লা বলেন, এই দুই পক্ষই এলাকায় দুষ্ট প্রকৃতির লোক হিসেবে চিহ্নিত। তবে গ্রামে কালাম মন্ডল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ একটু বেশি রয়েছে।

তিনি বলেন, এদের কেউ রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন, আবার কেউ প্রবাসী। এলাকায় এসে এই মাদকসহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে নিজেদের মধ্যকার আগের গ্যাঞ্জামে এত বড় অঘটন ঘটিয়েছে।

হায়দারের মা নিরু বেগম (৬৪) বলেন, আমার ছেলে দুইটা নিরীহ ছেলে। ওরা কাজ করে ভাত খায়। ওদের ওপর হামলা করে যারা হাত-পা কেটে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। তাদেরকে যেন তাড়াতাড়ি আইনের আওতায় আনা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কালাম মন্ডল, সাত্তার মন্ডল ও শাহ বরাত মন্ডলের কাউকেই পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তাদের মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তিনি বলেন, এ ঘটনায় হায়দারের মা নিরু বেগম বাদী হয়ে কালাম মন্ডল, সাত্তার মন্ডল ও শাহ বরাতের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে গতকাল শনিবার রাতেই একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের উচ্চপদস্থদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬

ফরিদপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্নের অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:০৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে আধিপত্য বিস্তার ও মাদককারবারি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের ধলা মুন্সীর দুই ছেলে হায়দার মুন্সী (৪৬) ও সুজন মুন্সী (৩১)। তারা দুজনেই পেশায় রাজমিস্ত্রি। বর্তমানে তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের কালাম মন্ডল ও সুজন মুন্সীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদককারবারি নিয়ে বিরোধ চলছিল। গতকাল বিকেলে ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের বৈশাখী মেলায় এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কালাম মাতুব্বরের বাড়ির সামনে ওৎ পেতে থাকা কালাম মন্ডল (৩৮), সাত্তার মন্ডল (৩২) ও শাহ বরাত মন্ডলসহ একদল দুর্বৃত্ত সুজনের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুজনের বাম হাতের কবজির ওপর কোপ দেয়। এতে তিনি আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর সুজনের বড় ভাই হায়দার মুন্সী বাড়ি ফেরার পথে একই দল তার ওপর চড়াও হয়। জীবন বাঁচাতে হায়দার পাশের হালিম ফকিরের রান্নাঘরে আশ্রয় নিলে দুর্বৃত্তরা সেখানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হায়দারের ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে এবং বাম হাত কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানকারী চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, হায়দারের চার হাত-পায়েই জখম আছে। তবে তার ডান পা ও বাম হাত ‘প্রায় বিচ্ছিন্ন’ অবস্থায় আমরা ফরিদপুরে পাঠিয়েছি। রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সুজনের হাতে জখম আছে। তবে তা হায়দারের মতো অতটা গুরুতর না হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মোল্লা বলেন, এই দুই পক্ষই এলাকায় দুষ্ট প্রকৃতির লোক হিসেবে চিহ্নিত। তবে গ্রামে কালাম মন্ডল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ একটু বেশি রয়েছে।

তিনি বলেন, এদের কেউ রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন, আবার কেউ প্রবাসী। এলাকায় এসে এই মাদকসহ নানান অপকর্মে জড়িয়ে নিজেদের মধ্যকার আগের গ্যাঞ্জামে এত বড় অঘটন ঘটিয়েছে।

হায়দারের মা নিরু বেগম (৬৪) বলেন, আমার ছেলে দুইটা নিরীহ ছেলে। ওরা কাজ করে ভাত খায়। ওদের ওপর হামলা করে যারা হাত-পা কেটে ফেলেছে, আমি তাদের বিচার চাই। তাদেরকে যেন তাড়াতাড়ি আইনের আওতায় আনা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কালাম মন্ডল, সাত্তার মন্ডল ও শাহ বরাত মন্ডলের কাউকেই পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তাদের মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তিনি বলেন, এ ঘটনায় হায়দারের মা নিরু বেগম বাদী হয়ে কালাম মন্ডল, সাত্তার মন্ডল ও শাহ বরাতের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে গতকাল শনিবার রাতেই একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।