রাজধানী ঢাকার হকার ও শহরের ফুটপাতে ব্যবসারত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের জন্য একটি নীতিমালা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কাজও শুরু করে দিয়েছে। দ্রুতই এ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এবং রাজউকের একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, এ কমিটি ঢাকা মহানগরীর হকারদের পুনর্বাসন ও ঢাকা শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিটি ঢাকা শহরের ফুটপাতে ব্যবসারত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শৃঙ্খলায় আনার লক্ষ্যে মূল রাস্তা থেকে সুবিধাজনক স্থানে পুনর্বাসনের জন্য একটি নীতিমালা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রণয়ন করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর দাখিল করবেন।
রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক ও ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করতে চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং দুই সিটি করপোরেশন সাঁড়াশি অভিযানে নামে। গত ১ থেকে ৫ এপ্রিল পূর্ব ঘোষণা দিয়ে এ অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এ অভিযানে ফুটপাত দখলকারীদের কাছ থেকে ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া, ৪৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অবৈধ পার্কিংয়ের অভিযোগে ১৭০টি ভিডিও মামলা দেওয়া হয় এবং অবৈধভাবে স্থাপিত দোকান ও যানবাহনসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়।
অভিযানে গুলিস্তান, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাবসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত ও সড়কের দখলমুক্তি ঘটে। তাতে অনেকটা স্বস্তি ফিরে জনজীবনে। যদিও এটি বেশিদিন দখলমুক্ত থাকেনি।
গুলিস্তান, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত আগের মতোই দখল করে এখন জামা-কাপড়, বই, জুতা, ফলসহ নানা পণ্য বিক্রি করছেন হকাররা। ট্রাফিক ও থানা পুলিশের সামনেই চলছে এসব কার্যক্রম।
অতীতেও বহুবার উচ্ছেদ করা হয়েছে, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন না থাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ফুটপাত ফিরে গেছে হকারদের দখলে। এজন্য একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করে পুনর্বাসনের বহু দিন আগে থেকে জানিয়ে আসছেন হকাররা। এ উপলক্ষে তারা বহু বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।
পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ চায় না হকাররা
পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চান না হকাররা। এ লক্ষ্যে গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন। সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবির, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হকাররা বক্তব্য রাখেন।
এসময় হকাররা জীবন-জীবিকা রক্ষার ১০ দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না, হকারদের অর্থনৈতিক অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে, জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে, হকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ করে রাজস্ব আদায়, হকারদের ওপর মামলা-গ্রেপ্তার, দমন-পীড়ন-নির্যাতন বন্ধ, প্রকৃত হকারদের তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।
এছাড়া দখল করা সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে হকারদের বরাদ্দ দিয়ে হকারদের পুনর্বাসন, ৫ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ, জাতীয় বাজেটে হকারদের জন্য বরাদ্দ ও হকার্স মার্কেটগুলোতে প্রকৃত হকারদের নামে বরাদ্দ দিতে হবে।
এদিকে, ফুটপাত হকারমুক্ত করতে এবং হকারদের পুনর্বাসনে রাজধানীতে ৮টি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। সম্প্রতি রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ পরিকল্পনার কথা জানান।
হকার উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেটা চান, শুধু হুট করে উচ্ছেদ করলে হবে না। এদের একটা বিকল্প ব্যবস্থাও করতে হবে। সেটার জন্য ঢাকা শহরে আমরা ৮টি নৈশ মার্কেট করার চিন্তা করছি। নৈশ মার্কেট বলি বা যেটাই বলি, নৈশকালীন। অর্থাৎ, অফিস আওয়ারের পর বিকেল থেকে শুরু করে রাত ১২টার আগ পর্যন্ত সেখানে তাদের বসাতে চাই যেন সারাদিন সব জায়গায় হকারদের মার্কেট না বসে।’
নিজেস্ব প্রতিবেদক 






















