তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও কমেনি ভীড়, বরং আরও বেড়েছে চাপ। রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের মেসার্স আশরাফ এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পে তেল সরবরাহ শুরু হওয়ার আগেই সকাল থেকে শত শত বাইকার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, তেল আসার কথা দুপুরের দিকে, তবে সকাল থেকেই উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মমিনপুর ইউনিয়নের প্রশাসক ও পাম্পটির নজরদারির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে পেট্রোল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দাম বাড়লেও মানুষের ভীড় কমেনি, বরং পরিস্থিতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
তিনি আরও জানান, এদিন পাম্পে পেট্রোল বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার লিটার এবং ডিজেল প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটার।
পাম্পে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়তি দামের চাপের পাশাপাশি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট হওয়াও তাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাকরিজীবী মো:রবিউল ইসলাম রবি বলেন, এমন ভীড় দেখে আমরা শঙ্কিত। কখন তেল পাবো, আর কখন কর্মস্থলে পৌঁছাবো—তা বলা কঠিন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অন্তত জরুরি পেশাজীবীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হোক।
অন্যদিকে মমিনপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কমলা কান্ত রায় বলেন, আমাদের কাজ মানুষকে সেবা দেওয়া। কিন্তু তেলের অভাবে আমরা বাধ্য হয়ে ভ্যান বা অটোতে চলাচল করছি। আজ বাইকে তেল নিতে এসেছি, কিন্তু কখন পাবো তা জানি না।
এ সময় উপস্থিত অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তাদের তেমন আপত্তি নেই, তবে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা মনে করেন, এলাকাভিত্তিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা গেলে ভীড় অনেকটাই কমে আসবে।
স্থানীয়দের মতে, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শফিউল মন্ডল (রংপুর)প্রতিনিধি 

























