ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন ড্যাফোডিলের অধ্যাপক ড. এম এ রহিম

  • ঢাকা পোস্ট ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম এ রহিমকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণ’ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশের এই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতীয় উন্নয়নে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় ড. এম এ রহিমকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

কৃষি শিক্ষার প্রসারে এবং গবেষণায় তার নিরলস প্রচেষ্টা ও নেতৃত্ব দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমের এই অসামান্য অর্জনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) পরিবার অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড, প্রশাসন এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এই কৃতি গবেষক ও শিক্ষককে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ডিআইইউতে শিক্ষকতাকালে কৃষি গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন ড. এম এ রহিম।

বিশ্ববিদ্যালয়টির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের জার্মপ্লাজম সেন্টারে পরিচালিত গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত চারটি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত কাঁঠালের জাত—ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-১, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-২, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৩ এবং ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৪—সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে। এই অর্জন টেকসই কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের কৃষি খাতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে ডিআইইউয়ের গবেষণানির্ভর উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও ফল উন্নয়ন কার্যক্রমে এক অনন্য নাম। ফল চাষের প্রসার এবং উচ্চ ফলনশীল ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনে তার যুগান্তকারী অবদান দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তার গবেষণার মাধ্যমে ১২৮টি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় বিএইউ কুল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কৃষি গবেষণায় দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড মেডেল (২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩), বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক (২০১৪), বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল (২০১২), বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার গোল্ড মেডেল (২০১৬)-সহ বহু সম্মাননা অর্জন করেন এবং সর্বশেষ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

এছাড়া ২০২৪ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো কৃষি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন, যা তার দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অবদানের স্বীকৃতি বহন করে। পূর্বে তিনি চ্যানেল আই ও আরটিভি আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ ফল গবেষণা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উদ্যানতত্ত্ব চর্চায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

একাডেমিক গবেষণায় তিনি ৪০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং ২০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন; পাশাপাশি ১০১ জন পিএইচডি ও ৩৫০ জন এমএস শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। এছাড়া কৃষি বিষয়ক ১০টি বই, ২৪টি লিফলেট, ১১টি বুকলেট ও ২৯টি ফোল্ডার প্রকাশের মাধ্যমে তিনি জ্ঞান বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সামগ্রিক শিক্ষা ও গবেষণা দর্শনের সার্থকতা প্রমাণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তার এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননাকে উদযাপন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বিশ্বাস করে, তার এই সাফল্য তরুণ গবেষকদের হৃদয়ে নতুন সম্ভাবনার বীজ বপন করবে এবং তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে উৎসাহিত করবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন ড্যাফোডিলের অধ্যাপক ড. এম এ রহিম

আপডেট সময় ০৭:৪১:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম এ রহিমকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণ’ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশের এই সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশ সরকারের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতীয় উন্নয়নে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় ড. এম এ রহিমকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

কৃষি শিক্ষার প্রসারে এবং গবেষণায় তার নিরলস প্রচেষ্টা ও নেতৃত্ব দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমের এই অসামান্য অর্জনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) পরিবার অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড, প্রশাসন এবং সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এই কৃতি গবেষক ও শিক্ষককে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ডিআইইউতে শিক্ষকতাকালে কৃষি গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন ড. এম এ রহিম।

বিশ্ববিদ্যালয়টির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের জার্মপ্লাজম সেন্টারে পরিচালিত গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত চারটি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত কাঁঠালের জাত—ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-১, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-২, ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৩ এবং ডিআইইউ জ্যাকফ্রুট-৪—সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এবং কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ও নিবন্ধিত হয়েছে। এই অর্জন টেকসই কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দেশের কৃষি খাতে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে ডিআইইউয়ের গবেষণানির্ভর উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

অধ্যাপক ড. এম এ রহিম বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ও ফল উন্নয়ন কার্যক্রমে এক অনন্য নাম। ফল চাষের প্রসার এবং উচ্চ ফলনশীল ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনে তার যুগান্তকারী অবদান দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তার গবেষণার মাধ্যমে ১২৮টি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে জনপ্রিয় বিএইউ কুল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কৃষি গবেষণায় দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্রধানমন্ত্রীর গোল্ড মেডেল (২০০৪, ২০১২ ও ২০১৩), বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক (২০১৪), বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গোল্ড মেডেল (২০১২), বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার গোল্ড মেডেল (২০১৬)-সহ বহু সম্মাননা অর্জন করেন এবং সর্বশেষ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

এছাড়া ২০২৪ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রথম আলো কৃষি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন, যা তার দীর্ঘ গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অবদানের স্বীকৃতি বহন করে। পূর্বে তিনি চ্যানেল আই ও আরটিভি আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন; পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং কৃষি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিজ্ঞান বিভাগ ফল গবেষণা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উদ্যানতত্ত্ব চর্চায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

একাডেমিক গবেষণায় তিনি ৪০০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং ২০টিরও বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছেন; পাশাপাশি ১০১ জন পিএইচডি ও ৩৫০ জন এমএস শিক্ষার্থীর গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। এছাড়া কৃষি বিষয়ক ১০টি বই, ২৪টি লিফলেট, ১১টি বুকলেট ও ২৯টি ফোল্ডার প্রকাশের মাধ্যমে তিনি জ্ঞান বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিমের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সামগ্রিক শিক্ষা ও গবেষণা দর্শনের সার্থকতা প্রমাণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তার এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননাকে উদযাপন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বিশ্বাস করে, তার এই সাফল্য তরুণ গবেষকদের হৃদয়ে নতুন সম্ভাবনার বীজ বপন করবে এবং তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে উৎসাহিত করবে।