ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভিক্ষা চাই, রাস্তাটা করে দিন ফেনীতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সফল করতে এএইএফআইওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত ফেনীতে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষায় জরুরি সভা অনুষ্ঠিত চার সিটিতে লক্ষ্যমাত্রার ৯২ শতাংশ শিশুর টিকা সম্পন্ন ৩ কোটি টাকা দিয়ে বদলি! এক বছরে ২০ কোটির সম্পদের অভিযোগ সাব-রেজিস্ট্রার জাকিরের বিরুদ্ধে হয়তোবা আরো ৩ বছর জাতীয় দলে খেলতে পারতাম : রুবেল ট্রাম্পের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না যুক্তরাজ্য বিশ্বকাপের আগে দুঃসংবাদ পেল ফ্রান্স বিশ্বকাপের আগে দুঃসংবাদ পেল ফ্রান্স যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ‘২৭ হাজার কোটি ডলার’ চায় ইরান

কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৬:০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণে ছাবের আহমদ (৬৯) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোররাতে নিজের জমির ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান ছাবের আহমদ। সম্প্রতি এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা রাতে আগুন জ্বালিয়ে ও শব্দ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আগুন জ্বালিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ একটি বন্যহাতি ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আক্রমণ করে।

একটু দূরে আরেকটি ধানক্ষেত পাহারায় ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তার ভাষ্য- হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। বিশেষ করে তার দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ফজরের আজানের একটু আগে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবের আহমদের নিথর দেহ পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক।

তিনি বলেন, ছাবের আহমদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার আয়ে পরিবার চলত। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যহাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে।

ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, সরকারিভাবে বন্যহাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছরই বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে এই সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভিক্ষা চাই, রাস্তাটা করে দিন

কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৬:০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নে ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে বন্যহাতির আক্রমণে ছাবের আহমদ (৬৯) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে পূর্ব গজালিয়া সাতঘরিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ভোররাতে নিজের জমির ধানক্ষেত পাহারা দিতে যান ছাবের আহমদ। সম্প্রতি এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা রাতে আগুন জ্বালিয়ে ও শব্দ করে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আগুন জ্বালিয়ে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ একটি বন্যহাতি ধানক্ষেতে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আক্রমণ করে।

একটু দূরে আরেকটি ধানক্ষেত পাহারায় ছিলেন কৃষক জামাল উদ্দিন। তার ভাষ্য- হাতিটি শুঁড় দিয়ে ছাবের আহমদকে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম করে। বিশেষ করে তার দুই পা, হাত ও মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সাতঘরিয়া পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ফজরের আজানের একটু আগে হঠাৎ হাতির বিকট গর্জনে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে দেখি মসজিদের পাশেই ছাবের আহমদের নিথর দেহ পড়ে আছে। দৃশ্যটি ছিল খুবই মর্মান্তিক।

তিনি বলেন, ছাবের আহমদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার আয়ে পরিবার চলত। তার মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বন্যহাতির চলাচল বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে হাতিরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে।

ফুলছড়ি রেঞ্জের রাজঘাট বিট কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, সরকারিভাবে বন্যহাতির আক্রমণে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এ জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বছরই বন্যহাতির আক্রমণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানুষের বসতি ও কৃষিকাজ সম্প্রসারণের কারণে এই সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে।