ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অফিস স্টাফদের ফ্লাট হস্তান্তরে ঘুষ দাবি, এলপিআরে যাওয়ার পরেও সেখানে ডিউটিকরাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

‎সরেজমিনে দেখা যায় জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের সাবেক সিবিএ নেতা শাহিন সহ অনেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া বা এলপিআরে যাওয়ার পরেও দালালি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সাবেক সিবিএ নেতা শাহীন দালালি সিন্ডিকেট সহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তবুও তিনি প্রতিদিন অফিসে আসেন দালাল সিন্ডিকেট স্বচল রাখার জন্য। অপর দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা নগর উন্নয়ন প্রকল্পের নকশাকার আব্দুর সাত্তার। তিনি মিরপুরের এক ফ্লাট মালিক কে তার ফ্ল্যাট হস্তান্তর বাবদ ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন যার একটি ভিডিও ফুটেজ হাতে এসেছে। উক্ত অফিসের তৃতীয় তলার ওয়াশরুমে টাকা লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ ও  প্রতিবেদকের হাতে সংগৃহীত।

‎সরজমিনে আরো দেখা যায়, সদ্য এলপিআরে যাওয়া জাতীয় গৃহায়নের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা মোঃ শওকত হোসেন গৃহায়ণে ডিউটি করছে। মোঃ শওকত এর নিকট জাতীয় গৃহায়নের অফিসে কেন এসেছেন জানতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখান। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এই শওকতের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় গ্রহায়ণ কর্তৃপক্ষের একজন কর্মচারী বলেন, কিছুদিন পূর্বেও নগর উন্নয়নের নকশা শাখার একজন কর্মকর্তা ফ্লাট গ্রহীতার নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিষয়টা জানাজানি হলে অফিসের মাধ্যমে সমাধান করা হয়।

‎মিরপুর এলাকায় ফ্লাট হস্তান্তরে ঘুষ নেয়া/ চাওয়ার ব্যাপারে জানতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নগর উন্নয়ন শাখার পরিচালক মাহমুদ আলীর অফিসে গিয়ে দেখা করলে তিনি  বলেন, এখানে আগে অনেক দালাল ছিল কিন্তু এখন তাদের সংখ্যা কম। নকশাকার আব্দুস সাত্তারের ফ্লাট হস্তান্তরের মাধ্যমে ঘুষ দাবির ভিডিও পরিচালককে দেয়ার পরেও তিনি বলেন, এখন তেমন ঘুষ লেনদেন হয় না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় ০৪:১০:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অফিস স্টাফদের ফ্লাট হস্তান্তরে ঘুষ দাবি, এলপিআরে যাওয়ার পরেও সেখানে ডিউটিকরাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

‎সরেজমিনে দেখা যায় জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের সাবেক সিবিএ নেতা শাহিন সহ অনেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া বা এলপিআরে যাওয়ার পরেও দালালি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সাবেক সিবিএ নেতা শাহীন দালালি সিন্ডিকেট সহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তবুও তিনি প্রতিদিন অফিসে আসেন দালাল সিন্ডিকেট স্বচল রাখার জন্য। অপর দালাল সিন্ডিকেটের মূল হোতা নগর উন্নয়ন প্রকল্পের নকশাকার আব্দুর সাত্তার। তিনি মিরপুরের এক ফ্লাট মালিক কে তার ফ্ল্যাট হস্তান্তর বাবদ ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন যার একটি ভিডিও ফুটেজ হাতে এসেছে। উক্ত অফিসের তৃতীয় তলার ওয়াশরুমে টাকা লেনদেনের ভিডিও ফুটেজ ও  প্রতিবেদকের হাতে সংগৃহীত।

‎সরজমিনে আরো দেখা যায়, সদ্য এলপিআরে যাওয়া জাতীয় গৃহায়নের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা মোঃ শওকত হোসেন গৃহায়ণে ডিউটি করছে। মোঃ শওকত এর নিকট জাতীয় গৃহায়নের অফিসে কেন এসেছেন জানতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখান। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী এই শওকতের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় গ্রহায়ণ কর্তৃপক্ষের একজন কর্মচারী বলেন, কিছুদিন পূর্বেও নগর উন্নয়নের নকশা শাখার একজন কর্মকর্তা ফ্লাট গ্রহীতার নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিষয়টা জানাজানি হলে অফিসের মাধ্যমে সমাধান করা হয়।

‎মিরপুর এলাকায় ফ্লাট হস্তান্তরে ঘুষ নেয়া/ চাওয়ার ব্যাপারে জানতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নগর উন্নয়ন শাখার পরিচালক মাহমুদ আলীর অফিসে গিয়ে দেখা করলে তিনি  বলেন, এখানে আগে অনেক দালাল ছিল কিন্তু এখন তাদের সংখ্যা কম। নকশাকার আব্দুস সাত্তারের ফ্লাট হস্তান্তরের মাধ্যমে ঘুষ দাবির ভিডিও পরিচালককে দেয়ার পরেও তিনি বলেন, এখন তেমন ঘুষ লেনদেন হয় না।