ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার সুযোগ নেই, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে এবার পরীক্ষায় নকল হবে না : শিক্ষামন্ত্রী সোনারগাঁয়ে মহাসড়কের ওপর গড়ে ওঠা এক হাজার অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ধ্বংসস্তূপ ভবন, নিহত ৪ কর্মজীবনের শেষ যাত্রায় ভালোবাসার বহর, ঘোড়ার গাড়িতে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে ব্যতিক্রমী বিদায় প্রাচীন ইতিহাসের রূপায়ণে বেরোবিতে দিনব্যাপী প্রত্নপ্রদর্শনী ও ঐতিহ্য উৎসব মানবাধিকার কর্মী শুভ্রর নিরাপত্তা চেয়ে সরকার প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা জমি বিরোধে গৃহবধূকে মারধর, বসতবাড়ি ভাঙচুর: আতঙ্কে এলাকাবাসী পলাশে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির ৯টি প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দুপুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার দুপুরিয়া সেতুর নিচ দিয়ে পশ্চিম দিকের পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝোড়ার মাধ্যমে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল এলাকার প্রধান পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ। কিন্তু সম্প্রতি হাফেজ আব্দুল জলিলের বাড়ির পূর্ব পাশে সেই পথটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন মৃত উছিম উদ্দিনের ছেলে আবুল হাশেম উকিল।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামবাসীর বাধা উপেক্ষা করে তিনি জোরপূর্বক ওই স্থানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আসা পানি এখন আর স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। এতে করে জমে থাকা পানি আশপাশের ফসলি জমি প্লাবিত করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, এতে শত শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং তাদের বাড়তি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

শুধু কৃষিজমিই নয়, পাহাড়ি ঢলের পানি আশপাশের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ধানশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম প্রতিনিধিকে জানান, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, দেয়াল নির্মাণের সময় তারা একাধিকবার বাধা প্রদান করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা আমলে নেননি। পরবর্তীতে আঃ বারিকসহ প্রায় ৭০ জন এলাকাবাসী স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

দুপুরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, বর্ষা শুরু হলে পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে। আমাদের ঘরবাড়ি, ফসল সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দ্রুত দেয়াল অপসারণ না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতি অনিবার্য।

এ পরিস্থিতিতে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অবিলম্বে দেয়াল অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান পুরোপুরি বাতিল করার সুযোগ নেই, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দুপুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপডেট সময় ০৩:৩৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার দুপুরিয়া সেতুর নিচ দিয়ে পশ্চিম দিকের পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝোড়ার মাধ্যমে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল এলাকার প্রধান পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ। কিন্তু সম্প্রতি হাফেজ আব্দুল জলিলের বাড়ির পূর্ব পাশে সেই পথটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন মৃত উছিম উদ্দিনের ছেলে আবুল হাশেম উকিল।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামবাসীর বাধা উপেক্ষা করে তিনি জোরপূর্বক ওই স্থানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আসা পানি এখন আর স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। এতে করে জমে থাকা পানি আশপাশের ফসলি জমি প্লাবিত করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, এতে শত শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং তাদের বাড়তি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

শুধু কৃষিজমিই নয়, পাহাড়ি ঢলের পানি আশপাশের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ধানশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম প্রতিনিধিকে জানান, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, দেয়াল নির্মাণের সময় তারা একাধিকবার বাধা প্রদান করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা আমলে নেননি। পরবর্তীতে আঃ বারিকসহ প্রায় ৭০ জন এলাকাবাসী স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

দুপুরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, বর্ষা শুরু হলে পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে। আমাদের ঘরবাড়ি, ফসল সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দ্রুত দেয়াল অপসারণ না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতি অনিবার্য।

এ পরিস্থিতিতে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অবিলম্বে দেয়াল অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।