ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা; ১১ দিনে ২৩ জনের জেল লি‌বিয়ার সঙ্গে যৌথ ব্যবসায়িক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব বাংলাদেশের যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে ৯৭২ ফ্লাইট বাতিল ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ ‘কলকাতায় হামলা চালাবে পাকিস্তান, প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন?’ তোপ মমতার ফেনীতে যমুনা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দুপুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আকবরশাহ থানার অভিযানে চোরাই মালসহ এক চোর গ্রেফতার আকবরশাহ থানার অভিযানে ২০ লিটার চোলাই মদসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আকবরশাহ থানার বিশেষ অভিযানে ৪ পরোয়ানাভুক্ত গ্রেফতার

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দুপুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার দুপুরিয়া সেতুর নিচ দিয়ে পশ্চিম দিকের পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝোড়ার মাধ্যমে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল এলাকার প্রধান পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ। কিন্তু সম্প্রতি হাফেজ আব্দুল জলিলের বাড়ির পূর্ব পাশে সেই পথটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন মৃত উছিম উদ্দিনের ছেলে আবুল হাশেম উকিল।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামবাসীর বাধা উপেক্ষা করে তিনি জোরপূর্বক ওই স্থানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আসা পানি এখন আর স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। এতে করে জমে থাকা পানি আশপাশের ফসলি জমি প্লাবিত করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, এতে শত শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং তাদের বাড়তি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

শুধু কৃষিজমিই নয়, পাহাড়ি ঢলের পানি আশপাশের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ধানশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম প্রতিনিধিকে জানান, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, দেয়াল নির্মাণের সময় তারা একাধিকবার বাধা প্রদান করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা আমলে নেননি। পরবর্তীতে আঃ বারিকসহ প্রায় ৭০ জন এলাকাবাসী স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

দুপুরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, বর্ষা শুরু হলে পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে। আমাদের ঘরবাড়ি, ফসল সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দ্রুত দেয়াল অপসারণ না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতি অনিবার্য।

এ পরিস্থিতিতে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অবিলম্বে দেয়াল অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেবীগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা; ১১ দিনে ২৩ জনের জেল

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দুপুরিয়া গ্রামে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপডেট সময় ০৩:৩৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার দুপুরিয়া সেতুর নিচ দিয়ে পশ্চিম দিকের পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির পানি দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝোড়ার মাধ্যমে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে আসছিল। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল এলাকার প্রধান পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ। কিন্তু সম্প্রতি হাফেজ আব্দুল জলিলের বাড়ির পূর্ব পাশে সেই পথটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেন মৃত উছিম উদ্দিনের ছেলে আবুল হাশেম উকিল।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামবাসীর বাধা উপেক্ষা করে তিনি জোরপূর্বক ওই স্থানে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আসা পানি এখন আর স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। এতে করে জমে থাকা পানি আশপাশের ফসলি জমি প্লাবিত করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, এতে শত শত হেক্টর জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং তাদের বাড়তি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

শুধু কৃষিজমিই নয়, পাহাড়ি ঢলের পানি আশপাশের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ধানশাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম প্রতিনিধিকে জানান, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, দেয়াল নির্মাণের সময় তারা একাধিকবার বাধা প্রদান করলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা আমলে নেননি। পরবর্তীতে আঃ বারিকসহ প্রায় ৭০ জন এলাকাবাসী স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

দুপুরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, বর্ষা শুরু হলে পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে। আমাদের ঘরবাড়ি, ফসল সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দ্রুত দেয়াল অপসারণ না করা হলে বড় ধরনের ক্ষতি অনিবার্য।

এ পরিস্থিতিতে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অবিলম্বে দেয়াল অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।