ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুদ্ধবিরতি নয়, অবসান চাই : ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে বলল ইরান সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অভিযোগের মুখে গোয়াইনঘাটের ভূমি কর্মকর্তা, অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন আমির মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সখিপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তরুণের মৃত্যু আত্রাইয়ে বেকারদের স্বাবলম্বী করতে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন নওগাঁয় পারিবারিক সহিংসতায় গৃহবধূ নিহত, স্বামী গ্রেফতার রাঙ্গাবালী হিসাবরক্ষক অফিসে নিয়োগ আছে, কর্মকর্তা নেই। স্থায়ী দোকানের অতিরিক্ত অংশ অপসারণ বিতর্কিত সেই নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের বদলি
এনবিআর চেয়ারম্যান

বীমা খাতে প্রফেশনালিজম নেই, আছে শুধু অব্যবস্থাপনা ও তদবির

দেশের বীমা খাতের নানাবিধ দুর্বলতা তুলে ধরে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের কঠোর তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, বীমা খাতে পেশাদারত্বের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘মোটর বীমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা এখন চরমে।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একদিকে আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই, অন্যদিকে বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনও বহু লোক তদবির করছেন।’

বীমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বীমা কোম্পানি আছে অথচ কোথাও কোনো ‘অ্যাকচুয়ারি’ (বীমা গাণনিক) নেই— পৃথিবীর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচুয়ারি আছেন, যার মধ্যে একজনের বয়স ৮৮ বছর পার হয়েছে। আরেকজন ইয়ং, আমার মেয়ে। এমন অবস্থায় এই খাতে শৃঙ্খলা আনা কীভাবে সম্ভব?’

আবদুর রহমান খান অভিযোগ করেন, অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি বলেন, ‘মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এমনকি বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসরে যাওয়ার পর তাদের পাওনা সুবিধাদি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার কাছে এমনও তদবির আসে যে, কোনো কোম্পানির বড় ভাই অবসরে গেছেন কিন্তু তার বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে না। এই পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এনবিআর চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে করদাতাদের আস্থা ফিরে আসবে না। সুশাসন নিশ্চিত না হলে মানুষ ভাববে, সরকার জোর করে বীমা কোম্পানিগুলোকে লাভবান করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতি নয়, অবসান চাই : ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে বলল ইরান

এনবিআর চেয়ারম্যান

বীমা খাতে প্রফেশনালিজম নেই, আছে শুধু অব্যবস্থাপনা ও তদবির

আপডেট সময় ০৫:৫৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বীমা খাতের নানাবিধ দুর্বলতা তুলে ধরে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের কঠোর তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, বীমা খাতে পেশাদারত্বের অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খাত নিয়ে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘মোটর বীমা আগে আবশ্যিক ছিল, যা করতে মাত্র ২০০-২৫০ টাকা লাগে। সেটিও এখন উঠে গেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো পেশাদারত্ব গড়ে ওঠেনি। পুরো বীমা খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচকতা এখন চরমে।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একদিকে আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই, অন্যদিকে বীমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য এখনও বহু লোক তদবির করছেন।’

বীমা খাতে দক্ষ জনবলের তীব্র অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বীমা কোম্পানি আছে অথচ কোথাও কোনো ‘অ্যাকচুয়ারি’ (বীমা গাণনিক) নেই— পৃথিবীর কোথাও এমনটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি নিয়ে পড়াশোনা বা বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ নেই বললেই চলে। বাংলাদেশে মাত্র দুজন অ্যাকচুয়ারি আছেন, যার মধ্যে একজনের বয়স ৮৮ বছর পার হয়েছে। আরেকজন ইয়ং, আমার মেয়ে। এমন অবস্থায় এই খাতে শৃঙ্খলা আনা কীভাবে সম্ভব?’

আবদুর রহমান খান অভিযোগ করেন, অনেক বীমা কোম্পানি গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাওনা টাকা পেতে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি বলেন, ‘মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এমনকি বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অবসরে যাওয়ার পর তাদের পাওনা সুবিধাদি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। আমার কাছে এমনও তদবির আসে যে, কোনো কোম্পানির বড় ভাই অবসরে গেছেন কিন্তু তার বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে না। এই পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এনবিআর চেয়ারম্যান সতর্ক করে বলেন, বীমা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে করদাতাদের আস্থা ফিরে আসবে না। সুশাসন নিশ্চিত না হলে মানুষ ভাববে, সরকার জোর করে বীমা কোম্পানিগুলোকে লাভবান করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।