ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখানো হতো

অতীতের সরকারগুলো রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ও এর আকার অতিরঞ্জিত বা ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি জানান, অর্থনীতির প্রতিটি খাতে তথ্যের যে কারচুপি করা হয়েছে, তা শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণবিষয়ক টাস্কফোর্সের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “অতীতের সরকারগুলো যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বা মোট জিডিপির পরিমাণ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়েছে, সেটার সংস্কার আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। জিডিপির প্রকৃত আকার যখন আমরা পাব, তখন করের সাথে এর আনুপাতিক হারটিও বাস্তবসম্মত হবে।”

অর্থনীতির সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু লুটপাটই নয়, খাতা-কলমেও ব্যাপক গোঁজামিল দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগের ‘পতিত সরকার’ সর্বদা রাজস্ব আয়কে বাড়িয়ে দেখাত, যার সঙ্গে প্রকৃত আহরণের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ পেয়েছেন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখন বিশ্বের অন্যতম তলানিতে, যা ৭ শতাংশেরও কম। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিম এশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতিকে তিনি ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে এই সংকট থেকে সমাধানের পথ খোঁজার ওপর তিনি জোর দেন।

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “চলতি অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আমরা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করব বলে আশা করছি। গত বছরের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এবার বেশি আদায় সম্ভব হবে।”

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কর-জিডিপি হারকে ইশতেহার অনুযায়ী প্রথমে ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখানো হতো

আপডেট সময় ০৬:০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

অতীতের সরকারগুলো রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ও এর আকার অতিরঞ্জিত বা ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি জানান, অর্থনীতির প্রতিটি খাতে তথ্যের যে কারচুপি করা হয়েছে, তা শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণবিষয়ক টাস্কফোর্সের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “অতীতের সরকারগুলো যেভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার বা মোট জিডিপির পরিমাণ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়েছে, সেটার সংস্কার আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। জিডিপির প্রকৃত আকার যখন আমরা পাব, তখন করের সাথে এর আনুপাতিক হারটিও বাস্তবসম্মত হবে।”

অর্থনীতির সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু লুটপাটই নয়, খাতা-কলমেও ব্যাপক গোঁজামিল দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগের ‘পতিত সরকার’ সর্বদা রাজস্ব আয়কে বাড়িয়ে দেখাত, যার সঙ্গে প্রকৃত আহরণের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি’ পেয়েছেন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখন বিশ্বের অন্যতম তলানিতে, যা ৭ শতাংশেরও কম। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পশ্চিম এশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতিকে তিনি ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে এই সংকট থেকে সমাধানের পথ খোঁজার ওপর তিনি জোর দেন।

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “চলতি অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আমরা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করব বলে আশা করছি। গত বছরের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও এবার বেশি আদায় সম্ভব হবে।”

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কর-জিডিপি হারকে ইশতেহার অনুযায়ী প্রথমে ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।