ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাঙ্গায় অটোচালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই অভিযোগে দেশীয়অস্ত্র সহ ৩ছিনতাইকারী গ্রেফতার  ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিন্ডিকেটে জিম্মি রোগীরা নওগাঁয় ফসলি জমিতে গম কাটার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু রাজশাহীতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের মানববন্ধন   কাল বৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডব, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি পঞ্চগড়ে। বাবার রেখে যাওয়া হাতিয়ার রামগঞ্জে পুলিশের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীসহ ৭ জন গ্রেফতার ‘বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে ধুরন্ধর টু, যেন ৩ ঘণ্টার আবর্জনা’ গংগাচড়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: কৃত্রিম নাকি সরবরাহ ঘাটতি? ফুলবাড়ীতে কৃষি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারগুলো এখন মাদকসেবীদের আখড়া

গংগাচড়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: কৃত্রিম নাকি সরবরাহ ঘাটতি?

‎​সারাদেশের ন্যায় রংপুরের গংগাচড়া উপজেলাতেও গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ডিজেল ও অকটেন না পেয়ে অনেক গ্রাহক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এই সংকটকে কেন্দ্র করে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি তেলের প্রকৃত ঘাটতি, নাকি অসাধু চক্রের তৈরি করা কোনো কৃত্রিম সংকট?
‎​উপজেলার প্রধান প্রধান বাজার ও মোড়ে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে বিপাকে পড়েছেন গাড়ি চালকেরা এই অঞ্চলের কর্মমূখী মানুষ । তেলের এই সংকট কর্মক্ষেত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
‎​স্থানীয় পর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে সংকটের দুটি প্রধান দিক উঠে এসেছে:
‎​১. সরবরাহজনিত সমস্যা: ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ধীরগতি আসায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
‎​২. কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ: সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, বড় কোনো মূল্যবৃদ্ধির আশায় বা অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে স্থানীয় কিছু মজুতদার তেল সরিয়ে রাখছেন। অনেক সময় দেখা যায় পাম্পে তেল না থাকলেও ড্রাম বা ক্যানে করে দ্বিগুণ দামে অন্য কোথাও থেকে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এই লভ্যাংশের আশায় খুচরা বিক্রেতারা অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
‎​‎​জ্বালানি সংকটের ফলে গংগাচড়ায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মোটরসাইকেল, বাস এবং ট্রাক চালকরা পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও উর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
‎​স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার মনিটরিং এবং পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। যদি কেউ মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকটের সাথে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গংগাচড়াবাসী আশা করছেন, দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখে দিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় অটোচালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই অভিযোগে দেশীয়অস্ত্র সহ ৩ছিনতাইকারী গ্রেফতার 

গংগাচড়ায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: কৃত্রিম নাকি সরবরাহ ঘাটতি?

আপডেট সময় ০৩:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
‎​সারাদেশের ন্যায় রংপুরের গংগাচড়া উপজেলাতেও গত কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ডিজেল ও অকটেন না পেয়ে অনেক গ্রাহক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এই সংকটকে কেন্দ্র করে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি তেলের প্রকৃত ঘাটতি, নাকি অসাধু চক্রের তৈরি করা কোনো কৃত্রিম সংকট?
‎​উপজেলার প্রধান প্রধান বাজার ও মোড়ে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। অনেক পাম্পে ‘তেল নেই’ সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে বিপাকে পড়েছেন গাড়ি চালকেরা এই অঞ্চলের কর্মমূখী মানুষ । তেলের এই সংকট কর্মক্ষেত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
‎​স্থানীয় পর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে সংকটের দুটি প্রধান দিক উঠে এসেছে:
‎​১. সরবরাহজনিত সমস্যা: ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা ধীরগতি আসায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
‎​২. কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ: সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, বড় কোনো মূল্যবৃদ্ধির আশায় বা অধিক মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে স্থানীয় কিছু মজুতদার তেল সরিয়ে রাখছেন। অনেক সময় দেখা যায় পাম্পে তেল না থাকলেও ড্রাম বা ক্যানে করে দ্বিগুণ দামে অন্য কোথাও থেকে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এই লভ্যাংশের আশায় খুচরা বিক্রেতারা অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
‎​‎​জ্বালানি সংকটের ফলে গংগাচড়ায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মোটরসাইকেল, বাস এবং ট্রাক চালকরা পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও উর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
‎​স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার মনিটরিং এবং পাম্পগুলোতে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। যদি কেউ মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকটের সাথে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গংগাচড়াবাসী আশা করছেন, দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখে দিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হবে।