ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিজ জেলায় চাকরি করে কোটিপতি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পিআইও অফিসের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা

কুষ্টিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসের অফিস সহকারীর ‘আলাদিনের চেরাগ’: কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় কুষ্টিয়া সরকারি অফিসের একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। পদবি অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর। কিন্তু তার জীবনযাপন ও অর্জিত সম্পদের খতিয়ান দেখলে যে কেউ বিস্মিত হবেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনস্থ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে কর্মরত মো. সোহেল রানা যেন হাতে পেয়েছেন ‘আলাদিনের চেরাগ’। অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পান সোহেল রানা। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনৈতিক লেনদেন ও তদবির বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বদলি হয়ে নিজের জেলা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কার্যালয়ে খুঁটি গেড়ে বসেন। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং অন্যায্য কাজকে ‘বৈধ’ করার বিনিময়ে তিনি বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন।

অঢেল সম্পদের খতিয়ান
সোহেল রানার মাসিক বেতনের সাথে তার জীবনযাত্রার মান এবং অর্জিত সম্পদের রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে:

বিলাসবহুল বাড়ি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে গড়ে তুলেছেন একটি তিন তলা আলিশান বাড়ি।

জমি ও বাগান: জীবননগর মাঠ এলাকায় নামে-বেনামে রয়েছে প্রায় ৬ বিঘা জমি। এছাড়া রাজশাহীর বাঘায় কিনেছেন ৪ বিঘার একটি বিশাল আম বাগান।

পরিবহন: নিজে সরকারি কর্মচারী হওয়ায় সরাসরি নিজের নামে না কিনে, বোন জামাইয়ের নামে ব্যবহার করছেন একটি চার চাকার বিলাসবহুল গাড়ি।

ব্যাংক ব্যালেন্স: বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ।

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সোহেল রানার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৭১৮-৮৪–৪০) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন কলটি কেটে দেন। ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এই দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ জেলায় চাকরি করে কোটিপতি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পিআইও অফিসের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা

আপডেট সময় ০৫:০৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

কুষ্টিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসের অফিস সহকারীর ‘আলাদিনের চেরাগ’: কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় কুষ্টিয়া সরকারি অফিসের একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। পদবি অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর। কিন্তু তার জীবনযাপন ও অর্জিত সম্পদের খতিয়ান দেখলে যে কেউ বিস্মিত হবেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনস্থ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে কর্মরত মো. সোহেল রানা যেন হাতে পেয়েছেন ‘আলাদিনের চেরাগ’। অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১০ সালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পান সোহেল রানা। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনৈতিক লেনদেন ও তদবির বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বদলি হয়ে নিজের জেলা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কার্যালয়ে খুঁটি গেড়ে বসেন। অভিযোগ আছে, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং অন্যায্য কাজকে ‘বৈধ’ করার বিনিময়ে তিনি বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন।

অঢেল সম্পদের খতিয়ান
সোহেল রানার মাসিক বেতনের সাথে তার জীবনযাত্রার মান এবং অর্জিত সম্পদের রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে:

বিলাসবহুল বাড়ি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে গড়ে তুলেছেন একটি তিন তলা আলিশান বাড়ি।

জমি ও বাগান: জীবননগর মাঠ এলাকায় নামে-বেনামে রয়েছে প্রায় ৬ বিঘা জমি। এছাড়া রাজশাহীর বাঘায় কিনেছেন ৪ বিঘার একটি বিশাল আম বাগান।

পরিবহন: নিজে সরকারি কর্মচারী হওয়ায় সরাসরি নিজের নামে না কিনে, বোন জামাইয়ের নামে ব্যবহার করছেন একটি চার চাকার বিলাসবহুল গাড়ি।

ব্যাংক ব্যালেন্স: বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ।

এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সোহেল রানার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৭১৮-৮৪–৪০) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন কলটি কেটে দেন। ফলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এই দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।