ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিশ্ব নারী দিবসে প্রান্তিক নারীদের মাঝে চারা গাছ বিতরণ করলো রূপনকশা টিম ইয়ার্ডে জমে আছে ৪২০ কোটি টাকার পাথর, ক্রয় না করায় সংকটে খনি পার্বতীপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক এক বালিয়াডাঙ্গী কৃষি অফিসে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অগ্রিম ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সাংবাদিক মোঃ শিহাব উদ্দিন রহিমানপুরে মির্জা ফখরুল ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’—মানবিক রাজনীতির এক নতুন দিগন্ত বাঞ্ছারামপুর প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। হৃদয়ে শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে ১৫৫০ পরিবারের মাঝে রমজানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ পার্বতীপুরে বিএনপির ইফতার মাহফিলে সাবেক মেয়র মিনহাজুল হককে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা শ্রীপুরে সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা দেওয়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

ফৌজদারহাটে বিটিসিএলের শাহ আলম–জয়নাল–উৎপল সিন্ডিকেটের সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান Bangladesh Telecommunications Company Limited (বিটিসিএল) অফিস সংলগ্ন এলাকায় সরকারি গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিটিসিএলের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও আত্মসাতের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহ আলম, জয়নাল এবং উৎপল চৌধুরী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকায় বিটিসিএল অফিসের পাশে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি সরকারি গাছ সম্প্রতি কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই গাছগুলো কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি, নিলাম প্রক্রিয়া বা লিখিত আদেশ ছাড়াই কাটা হয়েছে। পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকারি গাছ কাটতে হলে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হলেও এখানে সেই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শাহ আলম, যিনি বিটিসিএলে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত, জয়নাল নামে একজন অফিস সহকারী এবং উৎপল চৌধুরী নামে একজন কর্মকর্তা এই কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। উৎপল চৌধুরী বর্তমানে কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক (কেবল), বায়েজিদ হিসেবে কর্মরত এবং একই সঙ্গে সহকারী ব্যবস্থাপক-৩ (ফোনস), আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম শাখায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই তিনজনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের নামে বিভিন্ন অনিয়ম করে থাকে। গাছ কাটার ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হঠাৎ করেই একদিন সকালে তারা দেখতে পান বিটিসিএল অফিসের পাশে কয়েকটি বড় গাছ কাটা হচ্ছে। বিষয়টি দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাছ কাটার পেছনে বিটিসিএলের কয়েকজন কর্মচারী ও কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোনো সরকারি কাজের জন্য গাছ কাটা হচ্ছে। কিন্তু পরে জানতে পারি কোনো অনুমতি ছাড়াই এগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “গাছগুলো বহু বছর ধরে এখানে ছিল। এগুলো এলাকার পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হঠাৎ করে কেটে ফেলার ঘটনায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।”

অভিযোগ রয়েছে, কাটা গাছগুলো স্থানীয় মিজান নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছ কাটার পরপরই সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় এবং পরে জানা যায় সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—যদি সরকারি প্রয়োজনে গাছ কাটা হয়ে থাকে, তবে কেন তা প্রকাশ্য নিলাম বা নিয়ম মেনে করা হলো না? আর যদি কোনো অনুমোদন না থাকে, তবে এই গাছ কাটার নির্দেশ দিল কে?

স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমন অনিয়ম শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং রাষ্ট্রের সম্পদের অপব্যবহারও বটে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এসব কাজ করে আসছে।

পরিবেশবিদদের মতে, শহর ও শহরতলীর এলাকায় বড় গাছ কাটা শুধু পরিবেশের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং স্থানীয় বাস্তুসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বহু বছর ধরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এমন গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিটিসিএলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করে থাকেন। সরকারি সম্পদের সঠিক তদারকি না থাকায় এসব অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয়দের দাবি, শাহ আলম, জয়নাল ও উৎপল চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অফিসের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করে আসছে। গাছ কর্তনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

একজন সচেতন নাগরিক বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মচারীরা যদি নিজেরাই সরকারি সম্পদ নষ্ট করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার চাইবে?”

এদিকে গাছ কাটার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি শুধু একটি গাছ কাটার ঘটনা নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে সরকারি সম্পদের অবৈধ ব্যবহার ও সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও।

তারা মনে করছেন, এই ঘটনায় যদি সঠিক তদন্ত করা হয়, তাহলে এর পেছনে আরও বড় অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকারি সম্পদ এভাবে অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সেই দায়িত্ব লঙ্ঘন করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তারা আশা করছেন দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হবে এবং যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফৌজদারহাট এলাকায় বিটিসিএলের সরকারি গাছ কর্তনের ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব নারী দিবসে প্রান্তিক নারীদের মাঝে চারা গাছ বিতরণ করলো রূপনকশা টিম

ফৌজদারহাটে বিটিসিএলের শাহ আলম–জয়নাল–উৎপল সিন্ডিকেটের সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:১৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান Bangladesh Telecommunications Company Limited (বিটিসিএল) অফিস সংলগ্ন এলাকায় সরকারি গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিটিসিএলের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও আত্মসাতের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন শাহ আলম, জয়নাল এবং উৎপল চৌধুরী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকায় বিটিসিএল অফিসের পাশে দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি সরকারি গাছ সম্প্রতি কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই গাছগুলো কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি, নিলাম প্রক্রিয়া বা লিখিত আদেশ ছাড়াই কাটা হয়েছে। পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকারি গাছ কাটতে হলে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন হলেও এখানে সেই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শাহ আলম, যিনি বিটিসিএলে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত, জয়নাল নামে একজন অফিস সহকারী এবং উৎপল চৌধুরী নামে একজন কর্মকর্তা এই কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। উৎপল চৌধুরী বর্তমানে কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক (কেবল), বায়েজিদ হিসেবে কর্মরত এবং একই সঙ্গে সহকারী ব্যবস্থাপক-৩ (ফোনস), আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম শাখায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই তিনজনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের নামে বিভিন্ন অনিয়ম করে থাকে। গাছ কাটার ঘটনাটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হঠাৎ করেই একদিন সকালে তারা দেখতে পান বিটিসিএল অফিসের পাশে কয়েকটি বড় গাছ কাটা হচ্ছে। বিষয়টি দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাছ কাটার পেছনে বিটিসিএলের কয়েকজন কর্মচারী ও কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোনো সরকারি কাজের জন্য গাছ কাটা হচ্ছে। কিন্তু পরে জানতে পারি কোনো অনুমতি ছাড়াই এগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি।”

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “গাছগুলো বহু বছর ধরে এখানে ছিল। এগুলো এলাকার পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হঠাৎ করে কেটে ফেলার ঘটনায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।”

অভিযোগ রয়েছে, কাটা গাছগুলো স্থানীয় মিজান নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছ কাটার পরপরই সেগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয় এবং পরে জানা যায় সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—যদি সরকারি প্রয়োজনে গাছ কাটা হয়ে থাকে, তবে কেন তা প্রকাশ্য নিলাম বা নিয়ম মেনে করা হলো না? আর যদি কোনো অনুমোদন না থাকে, তবে এই গাছ কাটার নির্দেশ দিল কে?

স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এমন অনিয়ম শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং রাষ্ট্রের সম্পদের অপব্যবহারও বটে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এসব কাজ করে আসছে।

পরিবেশবিদদের মতে, শহর ও শহরতলীর এলাকায় বড় গাছ কাটা শুধু পরিবেশের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং স্থানীয় বাস্তুসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ বহু বছর ধরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। এমন গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিটিসিএলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করে থাকেন। সরকারি সম্পদের সঠিক তদারকি না থাকায় এসব অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয়দের দাবি, শাহ আলম, জয়নাল ও উৎপল চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অফিসের বিভিন্ন সম্পদ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করে আসছে। গাছ কর্তনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

একজন সচেতন নাগরিক বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মচারীরা যদি নিজেরাই সরকারি সম্পদ নষ্ট করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার চাইবে?”

এদিকে গাছ কাটার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি শুধু একটি গাছ কাটার ঘটনা নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে সরকারি সম্পদের অবৈধ ব্যবহার ও সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও।

তারা মনে করছেন, এই ঘটনায় যদি সঠিক তদন্ত করা হয়, তাহলে এর পেছনে আরও বড় অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সরকারি সম্পদ এভাবে অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সেই দায়িত্ব লঙ্ঘন করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তারা আশা করছেন দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা হবে এবং যারা এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফৌজদারহাট এলাকায় বিটিসিএলের সরকারি গাছ কর্তনের ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে সরকারি সম্পদ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।