রক্তস্নাত জুলাই অভ্যুত্থানের পর অবশেষে অপেক্ষার অবসান, ভোটের মাঠে বাংলাদেশ। সারাদেশেই প্রায় ১৭ বছর পর উৎসবের আমজে ভোট দিতে আসছেন ভোটাররা। সকাল থেকেই তারা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। এ নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত দল অংশ নিয়েছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত।
এবার ভোট দিচ্ছেন দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর পর এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক দল ও প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ ২০২৮ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা এখন প্রায় পাঁচ কোটি। বিশাল এই জনশক্তিই আগামীর ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রধান ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত ও সচেতন এই প্রজন্ম প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা চূড়ান্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। দেশজুড়ে রয়েছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। Jড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট দিতে কেন্দ্রে যান বিএনপি চেয়ারম্যান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

রাজধানী মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক শাখা) ভোটকেন্দ্রে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ভোট দেওয়ার আগে জয়ের ব্যাপারে আশাব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী তিনি।ভোট শেষে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন করে শুরু হলো। বাংলাদেশের মানুষ এই ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।

সকাল ৮টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বাড্ডার একেএম রহমতউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ভোট দেওয়া শেষে সালাউদ্দিন আহমদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনগণ আমাকে বারবার নির্বাচিত করেছে। আমাকে চেনে, জানে। আমাকে তারা ভালোবাসেন। আমি তাদের পরীক্ষিত সন্তান। এবারও তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্তই নেবেন।’

প্রথম প্রহরেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১১ দলীয় জোটে মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ রোডের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী মামুনুল হক।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নেত্রী রুমিন ফারহানা সরাইল উপজেলায় নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বহু বছর পর মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’

৩৩ বছর বয়সে জাতীয় নির্বাচনে জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছেন পটুয়াখালী-৩(গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ভোট দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) সংসদীয় আসনে। ভোট প্রদান শেষে হাসনাত সাংবাদিকদের জানান, বিজয়ে তিনি আশাবাদী। তবে তাকে পরাজিত করতে নানাভাবে ষড়যন্ত্র চলছে।

পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম আটোয়ারী উপজেলার বামনকুমার রাখালদেবীহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি উৎসবমুখর পরিবেশে ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের প্রতীক শাপলা কলি ও গণভোটে হ্যাঁ তে ভোট দিয়েছি। হাজারো শহিদের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশে পরিবর্তনের আশায় ভোট দিলাম।
তবে ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে নিজেদের ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না আলোচিত তিনজন প্রার্থী। কারণ, এই তিন প্রার্থী যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তারা সেসব আসনের ভোটার নন। এই তিন প্রার্থী হলেন—ঢাকা-৮ আসনের জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা এবং ঢাকা-১৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ।
এছাড়াও ভোলা সদর-১ আসনে নিজের প্রতীক গরুর গাড়ি মার্কায় ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি ওই আসনের ভোটার নন। ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে ঢাকা-১৭ আসনের বারিধারায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























