ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?
কক্সবাজার-৪

প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, তবুও ঝুঁকিতে ৪৯ ভোটকেন্দ্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বাড়ছে উত্তেজনা ও শঙ্কা। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় ভোটের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উখিয়া ও টেকনাফের ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্য ৪৯টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি নিরাপত্তা ইস্যুও এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন।

উখিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বেশি
সূত্র জানায়, কক্সবাজার-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে উখিয়ায়। এ উপজেলায় মোট ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২টিই ঝুঁকিপূর্ণ। অপরদিকে টেকনাফ উপজেলায় ৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ২৭টি কেন্দ্র। এই দুই উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ জন, নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন।

প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, বাড়তি নিরাপত্তা
নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন থাকবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌবাহিনী অবস্থান করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামায়াত
এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা নুরুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে সাইফুদ্দিন খালেদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা গেছে ভোটের মূল লড়াই সীমাবদ্ধ বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।

আ.লীগ ঘরানার ভোটারদের নিয়ে গুঞ্জন
উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ঘরানার অনেক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। আবার কিছু স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে অবস্থান না নিলেও ভোটের সমীকরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে আলোচনা রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ‘গোপন সমঝোতা’র গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

প্রার্থীদের প্রত্যাশা
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এই আসন বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ধানের শীষে ভোট দেবে।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

কক্সবাজার-৪

প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, তবুও ঝুঁকিতে ৪৯ ভোটকেন্দ্র

আপডেট সময় ০৮:০৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বাড়ছে উত্তেজনা ও শঙ্কা। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় ভোটের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটেনি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উখিয়া ও টেকনাফের ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্য ৪৯টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি নিরাপত্তা ইস্যুও এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এই সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন।

উখিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বেশি
সূত্র জানায়, কক্সবাজার-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে উখিয়ায়। এ উপজেলায় মোট ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২টিই ঝুঁকিপূর্ণ। অপরদিকে টেকনাফ উপজেলায় ৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ২৭টি কেন্দ্র। এই দুই উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮২ জন, নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৫৫১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৬ জন।

প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, বাড়তি নিরাপত্তা
নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন থাকবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌবাহিনী অবস্থান করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামায়াত
এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। জামায়াতের প্রার্থী কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমির ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা নুরুল হক এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) থেকে সাইফুদ্দিন খালেদ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্রে দেখা গেছে ভোটের মূল লড়াই সীমাবদ্ধ বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই।

আ.লীগ ঘরানার ভোটারদের নিয়ে গুঞ্জন
উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ঘরানার অনেক নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে। আবার কিছু স্থানীয় নেতা প্রকাশ্যে অবস্থান না নিলেও ভোটের সমীকরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলে আলোচনা রয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ‘গোপন সমঝোতা’র গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

প্রার্থীদের প্রত্যাশা
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এই আসন বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ধানের শীষে ভোট দেবে।’
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়।’