ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?

জামায়াতের সমাবেশে ভোট চাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা এবার বিএনপিতে

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সমাবেশে যোগ দিয়ে ভোট চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন মজুমদার। সাবেক এই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবার যোগ দিলেন বিএনপিতে। রোববার কুমিল্লা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদার নির্বাচনী জনসভায় মঞ্চে উঠে সালাউদ্দিন। এ সময় তিনি উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা কাজী নাসিম ও শীষের প্রার্থী কামরুল হুদার হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় তিনি বক্তব্য দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটও চান।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‌দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে যুক্ত ছিলাম, ১৫ বছর ধরে উপজেলা কালিকাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলাম, তখনও ইউনিয়ন বিএনপি সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বিএনপি করার কারণে ২০১৬ সালে আমার কাছ থেকে ‘চেয়ারম্যানী’ নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক তার সুবিধার জন্য ২০১৭ সালে আমাকে কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ দেন, মান সম্মানের কারণে বাধ্য হয়ে তখন এই পদ মেনে নিয়েছি। তবে কেউ বলতে পারবে না আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলাম।

এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দেন আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন মজুমদার। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া বাজারে ওই সমাবেশ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ঘোষণার পর মঞ্চে এসে বক্তৃতা করেন সালাউদ্দিন। প্রায় ২ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আপনারা কেন্দ্রে আসবেন, ভোট দেবেন। এখন শিক্ষিতের হার বেশি, আপনারা সবই বোঝেন। আপনারা বুঝে-শুনে নিজেদের রায় দেবেন। ভালো জায়গায় দেবেন, যেখানে দিলে কাজে লাগবে, সেখানে দেবেন। আমি এর বেশি কিছু বলব না। চৌদ্দগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির তাহের ভাইকে আপনারা এখন টিভিতে খবরে দেখেন। তিনি বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন, বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাই ভোটে আপনারা বুঝে-শুনে রায় দেবেন। তাহের ভাই কিছুটা অসুস্থ। আমি আপনাদের কাছে তাহের ভাইয়ের জন্য দোয়া চাই এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

তাঁর বক্তৃতা শেষে মাইক্রোফোনের সামনে আসেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ সময় তিনি বলেন, ‘সালাউদ্দিনের বাবা এই এলাকায় আমার অভিভাবক ছিলেন। সে কী বলতে চেয়েছে, আপনারা বুঝেছেন তো? কোথায় ভোট দেওয়ার কথা বলেছে, আপনারা বুঝে নিয়েন।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান বলেন, সালাউদ্দিন মজুমদার জামায়াতে যোগদান করেননি। মূল বিষয়টি হলো, তাহের ভাইয়ের নির্বাচনী সমাবেশ তাঁর বাড়ির পাশে হয়েছে। তাহের ভাই সাবেক এমপি হওয়ায় তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। পরে কয়েকটি কথা বলেন। সালাউদ্দিন অন্য দলের হলেও তাঁর পুরো পরিবার জামায়াত করেন। এর বাইরে কিছু নয়। একটি মহল বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বাসমালিক মো. আবুল খায়ের কুমিল্লার আদালতে ওই ঘটনায় দ্বিতীয় মামলা করেন। মামলার আসামির তালিকায় সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, তৎকালীন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি বেনজীর আহমেদ, কুমিল্লার তৎকালীন পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তীসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় সালাউদ্দিন মজুমদার ১১ নম্বর আসামি ও তাঁর ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নেয়ামত উল্লাহ ৭৯ নম্বর আসামি। গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সালাউদ্দিন ও নেয়ামত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। কয়েক দিন পর তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তাঁরা এলাকায় আছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর সালাউদ্দিন চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারিত হন।

এ বিষয়ে সালাউদ্দিন মজুমদার সোমবার দুপুরে সমকালকে বলেন, বিএনপি আমার পুরোনো ঘর। দীর্ঘদিন আমি দলের দায়িত্বশীল পদে ছিলাম। সাবেক রেলমন্ত্রী তাঁর স্বার্থেই আমাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ দেন। তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের সমাবেশে আমি ভোট চেয়েছি এমন ভিডিও কেউ দেখাতে পারবে না। বাড়ির পাশে সমাবেশ হওয়ায় সৌজন্যবশত গিয়ে ছিলাম। এটা নিয়ে এমন বিতর্ক কেন? জীবনের বাকিটা সময় বিএনপিতে থাকবেন বলেও জানান তিনি।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন বিএনপির লোক ছিলেন, তাকে বিএনপি ত্যাগ করতে এক সময় বাধ্য করা হয়ছিল। এখন তিনি আগের ঘরে (বিএনপি) ফিরতে চাওয়ায় আমরা তাকে বরণ করে নিয়েছি। এটা রাজনীতিতে হয়ে আসছে। বিতর্ক করার কিছু নেই।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

জামায়াতের সমাবেশে ভোট চাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা এবার বিএনপিতে

আপডেট সময় ০৮:১৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সমাবেশে যোগ দিয়ে ভোট চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন মজুমদার। সাবেক এই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবার যোগ দিলেন বিএনপিতে। রোববার কুমিল্লা-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদার নির্বাচনী জনসভায় মঞ্চে উঠে সালাউদ্দিন। এ সময় তিনি উপজেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা কাজী নাসিম ও শীষের প্রার্থী কামরুল হুদার হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় তিনি বক্তব্য দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোটও চান।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‌দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে যুক্ত ছিলাম, ১৫ বছর ধরে উপজেলা কালিকাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলাম, তখনও ইউনিয়ন বিএনপি সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বিএনপি করার কারণে ২০১৬ সালে আমার কাছ থেকে ‘চেয়ারম্যানী’ নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক তার সুবিধার জন্য ২০১৭ সালে আমাকে কালিকাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ দেন, মান সম্মানের কারণে বাধ্য হয়ে তখন এই পদ মেনে নিয়েছি। তবে কেউ বলতে পারবে না আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলাম।

এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দেন আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন মজুমদার। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া বাজারে ওই সমাবেশ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের ঘোষণার পর মঞ্চে এসে বক্তৃতা করেন সালাউদ্দিন। প্রায় ২ মিনিটের বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আপনারা কেন্দ্রে আসবেন, ভোট দেবেন। এখন শিক্ষিতের হার বেশি, আপনারা সবই বোঝেন। আপনারা বুঝে-শুনে নিজেদের রায় দেবেন। ভালো জায়গায় দেবেন, যেখানে দিলে কাজে লাগবে, সেখানে দেবেন। আমি এর বেশি কিছু বলব না। চৌদ্দগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির তাহের ভাইকে আপনারা এখন টিভিতে খবরে দেখেন। তিনি বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন, বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তাই ভোটে আপনারা বুঝে-শুনে রায় দেবেন। তাহের ভাই কিছুটা অসুস্থ। আমি আপনাদের কাছে তাহের ভাইয়ের জন্য দোয়া চাই এবং তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।’

তাঁর বক্তৃতা শেষে মাইক্রোফোনের সামনে আসেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ সময় তিনি বলেন, ‘সালাউদ্দিনের বাবা এই এলাকায় আমার অভিভাবক ছিলেন। সে কী বলতে চেয়েছে, আপনারা বুঝেছেন তো? কোথায় ভোট দেওয়ার কথা বলেছে, আপনারা বুঝে নিয়েন।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান বলেন, সালাউদ্দিন মজুমদার জামায়াতে যোগদান করেননি। মূল বিষয়টি হলো, তাহের ভাইয়ের নির্বাচনী সমাবেশ তাঁর বাড়ির পাশে হয়েছে। তাহের ভাই সাবেক এমপি হওয়ায় তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। পরে কয়েকটি কথা বলেন। সালাউদ্দিন অন্য দলের হলেও তাঁর পুরো পরিবার জামায়াত করেন। এর বাইরে কিছু নয়। একটি মহল বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বাসমালিক মো. আবুল খায়ের কুমিল্লার আদালতে ওই ঘটনায় দ্বিতীয় মামলা করেন। মামলার আসামির তালিকায় সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, তৎকালীন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি বেনজীর আহমেদ, কুমিল্লার তৎকালীন পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তীসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলায় সালাউদ্দিন মজুমদার ১১ নম্বর আসামি ও তাঁর ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নেয়ামত উল্লাহ ৭৯ নম্বর আসামি। গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সালাউদ্দিন ও নেয়ামত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। কয়েক দিন পর তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তাঁরা এলাকায় আছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর সালাউদ্দিন চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারিত হন।

এ বিষয়ে সালাউদ্দিন মজুমদার সোমবার দুপুরে সমকালকে বলেন, বিএনপি আমার পুরোনো ঘর। দীর্ঘদিন আমি দলের দায়িত্বশীল পদে ছিলাম। সাবেক রেলমন্ত্রী তাঁর স্বার্থেই আমাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পদ দেন। তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াতের সমাবেশে আমি ভোট চেয়েছি এমন ভিডিও কেউ দেখাতে পারবে না। বাড়ির পাশে সমাবেশ হওয়ায় সৌজন্যবশত গিয়ে ছিলাম। এটা নিয়ে এমন বিতর্ক কেন? জীবনের বাকিটা সময় বিএনপিতে থাকবেন বলেও জানান তিনি।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন বিএনপির লোক ছিলেন, তাকে বিএনপি ত্যাগ করতে এক সময় বাধ্য করা হয়ছিল। এখন তিনি আগের ঘরে (বিএনপি) ফিরতে চাওয়ায় আমরা তাকে বরণ করে নিয়েছি। এটা রাজনীতিতে হয়ে আসছে। বিতর্ক করার কিছু নেই।