ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠি শহরে গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, হত্যার আশঙ্কা মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ শাকিরা, সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন রোকুজ্জোকেও এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

ক্যান্সারের বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬২৫ বার পড়া হয়েছে

সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ক্যান্সারের বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে অভিন্ন মত দিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে ক্যান্সার দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন, জেসিআই ঢাকা ডিপ্লোমেটস এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ক্যান্সার প্রিভেনশন: লাইফ স্টাইল, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায়ের সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার। তিনি বলেন, ক্যান্সারের একটি বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য।

তামাক ব্যবহার বর্জন, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি কমিউনিটিভিত্তিক ক্যান্সার সেবা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বিস্তারের ওপর জোর দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু আলোচনা বা সচেতনতামূলক আয়োজন যথেষ্ট নয়।

কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী ১৫–২০ বছরের মধ্যে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে পারে। এ জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা ও বহুমুখী সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
ডা. আলি নাফিসা বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত স্ক্রিনিং, স্ব-পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দেরিতে শনাক্ত হওয়াই অনেক ক্ষেত্রে জটিলতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অতিথি বক্তা আইশা সিদ্দিকা বলেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ। তিনি বলেন, ক্যান্সার নিয়ে ভুল ধারণা, ভয় ও কুসংস্কার দূর করতে সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এছাড়া মো. আনিসুল ইসলাম সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল কনটেন্টের কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণদের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়েলবিং ফাউন্ডেশনের মূল উদ্যোক্তা ও প্রেসিডেন্ট মো. রাজিকুল হাসান। তিনি বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বাস্থ্য পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে যুক্ত হন এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালকাঠি শহরে গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, হত্যার আশঙ্কা

ক্যান্সারের বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য

আপডেট সময় ০১:৫৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ক্যান্সারের বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে অভিন্ন মত দিয়েছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে ক্যান্সার দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন, জেসিআই ঢাকা ডিপ্লোমেটস এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ক্যান্সার প্রিভেনশন: লাইফ স্টাইল, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায়ের সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার। তিনি বলেন, ক্যান্সারের একটি বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য।

তামাক ব্যবহার বর্জন, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি কমিউনিটিভিত্তিক ক্যান্সার সেবা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বিস্তারের ওপর জোর দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু আলোচনা বা সচেতনতামূলক আয়োজন যথেষ্ট নয়।

কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী ১৫–২০ বছরের মধ্যে দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়তে পারে। এ জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা ও বহুমুখী সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
ডা. আলি নাফিসা বলেন, নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত স্ক্রিনিং, স্ব-পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। দেরিতে শনাক্ত হওয়াই অনেক ক্ষেত্রে জটিলতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অতিথি বক্তা আইশা সিদ্দিকা বলেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি রাখা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ। তিনি বলেন, ক্যান্সার নিয়ে ভুল ধারণা, ভয় ও কুসংস্কার দূর করতে সঠিক তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এছাড়া মো. আনিসুল ইসলাম সচেতনতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল কনটেন্টের কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং তরুণদের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়েলবিং ফাউন্ডেশনের মূল উদ্যোক্তা ও প্রেসিডেন্ট মো. রাজিকুল হাসান। তিনি বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধ কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বাস্থ্য পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী ও সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে যুক্ত হন এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।