ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা বরগুনায় ৯ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার, সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত

কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ত্রিমুখী রাজনৈতিক লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘদিন পর এই আসনে নির্বাচনী মাঠে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে ত্রিমুখী লড়াই। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—এ নিয়ে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার তিন প্রার্থী। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলমগীর ফরিদ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদ, এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জিয়াউল হক। তিনজনই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে।
মাঠে বিএনপি, সংগঠনে জামায়াত, নৈতিকতার বার্তা ইসলামি আন্দোলনের

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির প্রার্থী আলমগীর ফরিদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকায় তাঁর রয়েছে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও দলীয় সমর্থনের শক্ত ভিত। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদ শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও নিবেদিত কর্মী-সমর্থকদের ওপর ভর করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। গ্রামভিত্তিক সংগঠন, শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রচার এবং দীর্ঘদিনের দলীয় নেটওয়ার্ক জামায়াতকে এই আসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত করেছে।
পাশাপাশি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জিয়াউল হক স্বচ্ছতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক রাজনীতির কথা তুলে ধরে আলাদা একটি ভোটব্যাংক তৈরির চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে তরুণ ও আদর্শভিত্তিক ভোটারদের কাছে তাঁর এই অবস্থান ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে বলে দাবি করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এবার উন্নয়ন, সুশাসন ও এলাকার দীর্ঘদিনের স্থায়ী সমস্যার সমাধানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো ইস্যুগুলো ভোটারদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে।
অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বেছে নেওয়ার কথা বলছেন। আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক আদর্শ, অতীত ভূমিকা এবং দলের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান।

মহেশখালীর এক তরুণ ভোটার বলেন,
আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি সংসদে গিয়ে মহেশখালীর প্রকৃত সমস্যা তুলে ধরবেন এবং মানুষের পাশে থাকবেন। উন্নয়নের নামে যেন কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কক্সবাজার–২ আসনে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কাউকে এগিয়ে রাখা কঠিন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ভোটার উপস্থিতি, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ফলাফল।

তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, ত্রিমুখী এই লড়াইয়ে মহেশখালী–কুতুবদিয়ার রাজনীতি এবার ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। এই আসনের ভোটের রায় শুধু একজন জনপ্রতিনিধিকেই নয়, আগামী দিনের স্থানীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের

কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ত্রিমুখী রাজনৈতিক লড়াই

আপডেট সময় ০৭:১৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘদিন পর এই আসনে নির্বাচনী মাঠে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে ত্রিমুখী লড়াই। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—এ নিয়ে সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার তিন প্রার্থী। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলমগীর ফরিদ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদ, এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জিয়াউল হক। তিনজনই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে।
মাঠে বিএনপি, সংগঠনে জামায়াত, নৈতিকতার বার্তা ইসলামি আন্দোলনের

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির প্রার্থী আলমগীর ফরিদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকায় তাঁর রয়েছে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও দলীয় সমর্থনের শক্ত ভিত। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদ শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও নিবেদিত কর্মী-সমর্থকদের ওপর ভর করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। গ্রামভিত্তিক সংগঠন, শৃঙ্খলাপূর্ণ প্রচার এবং দীর্ঘদিনের দলীয় নেটওয়ার্ক জামায়াতকে এই আসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত করেছে।
পাশাপাশি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জিয়াউল হক স্বচ্ছতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক রাজনীতির কথা তুলে ধরে আলাদা একটি ভোটব্যাংক তৈরির চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে তরুণ ও আদর্শভিত্তিক ভোটারদের কাছে তাঁর এই অবস্থান ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে বলে দাবি করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এবার উন্নয়ন, সুশাসন ও এলাকার দীর্ঘদিনের স্থায়ী সমস্যার সমাধানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো ইস্যুগুলো ভোটারদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে।
অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বেছে নেওয়ার কথা বলছেন। আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক আদর্শ, অতীত ভূমিকা এবং দলের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান।

মহেশখালীর এক তরুণ ভোটার বলেন,
আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি সংসদে গিয়ে মহেশখালীর প্রকৃত সমস্যা তুলে ধরবেন এবং মানুষের পাশে থাকবেন। উন্নয়নের নামে যেন কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কক্সবাজার–২ আসনে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কাউকে এগিয়ে রাখা কঠিন। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ভোটার উপস্থিতি, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের হিসাবই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত ফলাফল।

তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়, ত্রিমুখী এই লড়াইয়ে মহেশখালী–কুতুবদিয়ার রাজনীতি এবার ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। এই আসনের ভোটের রায় শুধু একজন জনপ্রতিনিধিকেই নয়, আগামী দিনের স্থানীয় রাজনীতির দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে।