কিডনি মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে মূত্র তৈরি করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। মূলত কিডনির কাজ হলো রক্ত পরিশোধন, মূত্র উৎপাদন এবং শরীরের পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা।
কিডনির সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। তবে খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং অন্যান্য কারণে কিডনিতে পাথর তৈরি হওয়া এখন সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় পাথর ছোট হলে কোনো লক্ষণ দেখা দেয় না, কিন্তু পাথর মূত্রনালিতে সরে গেলে তীব্র ব্যথা শুরু হয়।
কিডনিতে পাথর হওয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
- পিঠের নিচে বা কোমরে তীব্র ব্যথা: পিঠের দু’পাশে, পাঁজরের নিচে বা তলপেটে হঠাৎ ব্যথা অনুভূত হয়, যা সময়ের সাথে কমবেশি হতে পারে।
- প্রস্রাবের রঙ ও গন্ধ পরিবর্তন: প্রস্রাব কালচে, বাদামি বা ঘোলাটে হতে পারে; কখনো রক্ত মিশে যায় বা দুর্গন্ধ হয়।
- ঘনঘন প্রস্রাব ও জ্বালা: পাথর মূত্রনালির কাছে গেলে বেশি ঘন ঘন প্রস্রাব হয় এবং প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বা ব্যথা অনুভূত হয়।
- বমি বা বমি ভাব: কিডনি ও পাকস্থলীর স্নায়ুর সংযোগের কারণে কখনো বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
- জ্বর ও কাঁপুনি: ব্যথার সঙ্গে জ্বর বা শরীর কাঁপলে কিডনিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বোঝা যায়, যা গুরুতর অবস্থার ইঙ্গিত।
পাথর হওয়া রোধে করণীয়:
- পর্যাপ্ত পানি পান করা, দিনে ৩-৪ লিটার।
- লবণ ও অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, চকোলেট, বিট) কমানো।
- লেবুর রস যুক্ত পানি পান করা, কারণ সাইট্রেট পাথর জমতে বাধা দেয়।
ডাক্তার দেখানোর সময়:
যদি ব্যথা তীব্র হয়, সোজা হয়ে বসতে অসুবিধা হয়, প্রস্রাবে রক্ত মিশে যায় বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, তাৎক্ষণিক ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ডাক্তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন।
সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস
জীবনযাপন ডেস্ক 

























