স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন তালিকায় মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর ও ভুয়া তথ্য দেওয়ায় বাতিল করা হয়েছে মাগুরা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়ন। তিনি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক একান্ত সহকারী (এপিএস) ছিলেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এই ঘোষণা দেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেনের জমা দেওয়া ভোটার তালিকায় দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০ জনের স্বাক্ষর যাচাই (ক্রসচেক) করা হয়। এর মধ্যে ৭ জনের স্বাক্ষরই ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। বিস্ময়করভাবে তালিকায় এমন এক ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে, যিনি আগেই মারা গেছেন। এসব অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে তার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মাগুরার দুটি আসনে মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এই আসনে ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তারা হলেন—মনোয়ার হোসেন খান (বিএনপি), আব্দুল মতিন (জামায়াত), ডা. খলিলুর রহমান (গণঅধিকার পরিষদ), মো. নাজিরুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন), শম্পা বসু (বাসদ), কাজী রেজাউল হোসেন (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মো. জাকির হোসেন মোল্লা (জাতীয় পার্টি) এবং মো. ফয়জুল ইসলাম (খেলাফত মজলিস)।
তবে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করায় গণফোরামের মো. মিজানুর রহমান এবং ঋণখেলাপি হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন—অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী (বিএনপি), মো. মুশতারশেদ বিল্লাহ (জামায়াত) এবং মোস্তফা কামাল (ইসলামী আন্দোলন)।
মোয়াজ্জেম হোসেন ছাড়াও হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মশিযার রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আগামী ১১ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করতে পারবেন। যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরাজী বেনজির আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























