ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজকে আলোকিত করতে যুব সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তুরাগে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ তারার টেকের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হৃদয় গ্রেপ্তার ফেনীতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, হামলায় নারীসহ আহত ২; মামলা না নেওয়ার অভিযোগ লালদিয়া টার্মিনাল বন্দরের সক্ষমতা ২৩% বাড়ানোর পরিকল্পনা এপিএম টার্মিনালসের আজ গার্লফ্রেন্ড দিবস, শেষ মুহূর্তেও চমকে দিন এই ৬ উপহারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দুর্নীতি যেন মরনঘাতি ভাইরাসে পরিণত হয়েছে প্যান্টের নিচে কোটি টাকার সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শেষ হবে: কৃষিমন্ত্রী

লালদিয়া টার্মিনাল বন্দরের সক্ষমতা ২৩% বাড়ানোর পরিকল্পনা এপিএম টার্মিনালসের

চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের প্রস্তাবিত নকশা (লেআউট) ও পরিচালনার রূপরেখা প্রকাশ করেছে এপিএম টার্মিনালস। একই সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের শেষের দিকেই ৫৫০ মিলিয়ন (৫৫ কোটি) ডলারের এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক এই টার্মিনাল পরিচালনা প্রতিষ্ঠানটি।

নির্মাণকাজ শেষ হলে এটিই হবে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম কনটেইনার টার্মিনাল।
বছরে ৮ লাখ টিইইউস (টুয়েন্টি ফুট ইকুইভ্যালেন্ট) কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়বে। এতে বন্দরের দীর্ঘদিনের জাহাজজট কমার পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং ব্যবসায়ের লজিস্টিকস খরচ অনেকটাই কমে আসবে আশা বন্দর ব্যবহারকারীদের। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রণীত এই নকশা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা দেশের সমুদ্রবন্দরভিত্তিক লজিস্টিকস অবকাঠামো প্রসারে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বর্তমানে গভীরতার সীমাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় মেইনলাইন কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারে না। ফলে রপ্তানি বা আমদানির সিংহভাগ পণ্যই ছোট ফিডার জাহাজে করে কলম্বো, সিঙ্গাপুর বা পোর্ট ক্লাংয়ের মতো আঞ্চলিক হাবগুলোতে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে মূল গন্তব্যে যায়। এর ফলে প্রতি চালানে অতিরিক্ত ৭ থেকে ১৪ দিন সময় অপচয় হয়।

এপিএম টার্মিনাল সূত্র জানিয়েছে, ছোট ফিডার জাহাজের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে একই পণ্য একাধিকবার ওঠানো-নামানোর প্রয়োজন পড়ে।

এতে লজিস্টিকস ব্যয় যেমন বাড়ে, তেমনি পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।
প্রস্তাবিত লালদিয়া টার্মিনালটি চালু হলে প্রায় ৬ হাজার টিইইউস ধারণক্ষমতার মেইনলাইন কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে। ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বড় সমুদ্রপথের মেইনলাইন জাহাজগুলো সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করতে সক্ষম হবে। এটি ট্রানজিট সময় এবং সামগ্রিক পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরাসরি জাহাজ চলাচলের এই সুযোগ তৈরি হলে দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরণের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে।

পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও পাদুকা শিল্পসহ অন্যান্য উদীয়মান রপ্তান খাতও এই আধুনিক টার্মিনাল সুবিধা থেকে সরাসরি সুফল পাবে।
এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার সিইও রমেশ ডেভিড জানিয়েছেন, লালদিয়া টার্মিনালের নকশা পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় সরকারি ও রেগুলেটরি অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের শেষের দিকে এর নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এপিএম টার্মিনালস বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক বন্দর ও কনটেইনার টার্মিনাল সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করে আসছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমাজকে আলোকিত করতে যুব সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল

লালদিয়া টার্মিনাল বন্দরের সক্ষমতা ২৩% বাড়ানোর পরিকল্পনা এপিএম টার্মিনালসের

আপডেট সময় ০৫:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের প্রস্তাবিত নকশা (লেআউট) ও পরিচালনার রূপরেখা প্রকাশ করেছে এপিএম টার্মিনালস। একই সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের শেষের দিকেই ৫৫০ মিলিয়ন (৫৫ কোটি) ডলারের এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক এই টার্মিনাল পরিচালনা প্রতিষ্ঠানটি।

নির্মাণকাজ শেষ হলে এটিই হবে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম কনটেইনার টার্মিনাল।
বছরে ৮ লাখ টিইইউস (টুয়েন্টি ফুট ইকুইভ্যালেন্ট) কনটেইনার পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়বে। এতে বন্দরের দীর্ঘদিনের জাহাজজট কমার পাশাপাশি সার্বিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং ব্যবসায়ের লজিস্টিকস খরচ অনেকটাই কমে আসবে আশা বন্দর ব্যবহারকারীদের। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রণীত এই নকশা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা দেশের সমুদ্রবন্দরভিত্তিক লজিস্টিকস অবকাঠামো প্রসারে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বর্তমানে গভীরতার সীমাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বড় মেইনলাইন কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারে না। ফলে রপ্তানি বা আমদানির সিংহভাগ পণ্যই ছোট ফিডার জাহাজে করে কলম্বো, সিঙ্গাপুর বা পোর্ট ক্লাংয়ের মতো আঞ্চলিক হাবগুলোতে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে মূল গন্তব্যে যায়। এর ফলে প্রতি চালানে অতিরিক্ত ৭ থেকে ১৪ দিন সময় অপচয় হয়।

এপিএম টার্মিনাল সূত্র জানিয়েছে, ছোট ফিডার জাহাজের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে একই পণ্য একাধিকবার ওঠানো-নামানোর প্রয়োজন পড়ে।

এতে লজিস্টিকস ব্যয় যেমন বাড়ে, তেমনি পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।
প্রস্তাবিত লালদিয়া টার্মিনালটি চালু হলে প্রায় ৬ হাজার টিইইউস ধারণক্ষমতার মেইনলাইন কনটেইনার জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে। ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বড় সমুদ্রপথের মেইনলাইন জাহাজগুলো সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করতে সক্ষম হবে। এটি ট্রানজিট সময় এবং সামগ্রিক পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরাসরি জাহাজ চলাচলের এই সুযোগ তৈরি হলে দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরণের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে।

পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও পাদুকা শিল্পসহ অন্যান্য উদীয়মান রপ্তান খাতও এই আধুনিক টার্মিনাল সুবিধা থেকে সরাসরি সুফল পাবে।
এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার সিইও রমেশ ডেভিড জানিয়েছেন, লালদিয়া টার্মিনালের নকশা পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় সরকারি ও রেগুলেটরি অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের শেষের দিকে এর নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এপিএম টার্মিনালস বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক বন্দর ও কনটেইনার টার্মিনাল সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করে আসছে।