ভোটার তালিকার সীমানা ও তথ্য হালনাগাদ সংক্রান্ত জটিলতায় ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্ত জানান। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার এই রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য পদত্যাগী এই নেত্রী।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আজমল হোসেন জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাসনিম জারার নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। তিনি ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ৮ জনের তথ্য সঠিক থাকলেও বাকি ২ জন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, এই অসঙ্গতির কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিলের পর এক ভিডিও বার্তায় ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘‘আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলাম। নির্বাচন কমিশন ১০ জন যাচাই করতে গিয়ে ২ জনের ক্ষেত্রে গরমিল পেয়েছে। কিন্তু এই দুজন ভোটারই জানতেন তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। কমিশনের তথ্যের বিভ্রান্তির কারণেই এমনটি হয়েছে।’’
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘যাচাইকৃতদের মধ্যে একজনের বাসা খিলগাঁওয়ে। এই এলাকাটি ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১ আসনের সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অন্যজন জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ঢাকা-৯ এর ভোটার হলেও নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে তাকে শরীয়তপুরের ভোটার দেখানো হচ্ছে। তিনি ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করলেও সার্ভার আপডেট হয়নি।’’
তাসনিম জারা অভিযোগ করেন, সাধারণ ভোটারদের পক্ষে এই জটিলতা বোঝার কোনো উপায় নির্বাচন কমিশন রাখেনি। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব এবং ইতোমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’’
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতার বিরোধিতায় গত ২৭ ডিসেম্বর দল থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। এরপর মাত্র দেড় দিনে ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























