ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ নেত্রকোণায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ২০ জঙ্গলে ২৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরলেন নি‌খোঁজ মালয়েশিয়া প্রবাসী উল্টো পথে আসা পিকআপে অটোরিকশায় ধাক্কা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৭ এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ সদস্য হলেন ২ এমপি গুম-নির্যাতের পেছনে দায়ী শেখ হাসিনা : জেরায় সাক্ষী পটুয়াখালীতে এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় ৫৩৩ জন অনুপস্থিত বাংলাদেশি জাহাজকে কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না ইরান? অপতথ্যের বিস্তার রোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন : বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক’
গণপূর্ত অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য

মোর্শেদ ইকবালের নেতৃত্বে অনিয়মের দাপট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১২:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬২১ বার পড়া হয়েছে

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মপরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে উত্তপ্ত। এ সংক্রান্ত অভিযোগ ও তথ্য অনুসন্ধান করার চেষ্টা করলে দেখা যায়, কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন মোর্শেদ ইকবাল, নির্বাহী প্রকৌশলী, ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই/এম) প্ল্যানিং বিভাগ-২, ঢাকা।
স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প তদারকির সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানাচ্ছে, সরকারি প্রকল্পগুলো পরিকল্পিতভাবে কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়। বণ্টনের প্রক্রিয়ায় কমিশন বাবদ টাকা লেনদেন হয়। এতে শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতি হচ্ছে না, বরং প্রকল্পের গুণগত মানও প্রভাবিত হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের জন্মের ইতিহাস তুলনামূলকভাবে পুরনো। স্বৈরাচারের আমলে এই সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন সরকারি প্রকল্পগুলোতে নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য কিছু কর্মকর্তাকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। মোর্শেদ ইকবালসহ কয়েকজন সিন্ডিকেটের প্রাথমিক সদস্য এই সময়ে দপ্তরে দায়িত্ব নেন। সময়ের সাথে সাথে তারা তাদের প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখতে সমঝোতা ও চাপের কৌশল অবলম্বন করেন।
এই সিন্ডিকেট শুধু প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটায় না, বরং ঠিকাদার নিয়োগ, কাজের তদারকি ও বিল অনুমোদনেও সক্রিয়। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, সিন্ডিকেটের মধ্যে কেউ কেউ ঠিকাদারদের সঙ্গে যৌথভাবে লেনদেন করে। কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী কমিশন ধার্য করা হয়।
মোর্শেদ ইকবালের ভূমিকা : মোর্শেদ ইকবাল, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে, শুধু সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয়নি, বরং প্রকল্প বণ্টন ও তদারকিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার অধীনে অনেক প্রকল্প পরিকল্পিতভাবে ঠিকাদারদের মধ্যে বণ্টিত হয়। অভিযোগ আছে, নির্দিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দেওয়া হয়, এবং অন্যদের প্রাধান্য দেওয়া হয় না। আইনি পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায়, মোর্শেদ ইকবাল বর্তমানে ঢাকার বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে দায়ের হওয়া সিআর মামলা নং-১১৮/২০২৫-এর আসামী। মামলাটি ধারায়: ১৪৭/১৪৮/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ অন্তর্ভুক্ত। তিনি গণঅভূত্থানের মামলার আসামী হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন। এই মামলার কার্যক্রম এখনও চলমান।
প্রকল্প বণ্টন ও কমিশন লেনদেনের প্রক্রিয়া : স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প তদারকির সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানাচ্ছে, প্রকল্প বণ্টনের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ধাপ থাকে। প্রথমে প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশ করা হয়। এরপর ঠিকাদারদের মধ্যে দর নির্ধারণ ও কাগজপত্র যাচাই হয়। এই পর্যায়ে সিন্ডিকেটের কর্মকর্তারা কিছু ঠিকাদারকে ‘চলতি’ হিসেবে বাছাই করেন। নির্বাচিত ঠিকাদারদের সঙ্গে কমিশন লেনদেন হয়। ঠিকাদাররা প্রাথমিকভাবে প্রকল্প গ্রহণের আগে নগদ বা ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে কমিশন প্রদান করে। এরপর প্রকল্পে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে কাজের অগ্রগতি অনুমোদন করা হয়। সূত্র জানাচ্ছে, কাজের মানদণ্ড অনেক সময় সিন্ডিকেটের স্বার্থ অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়।
স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প তদারকির অভিজ্ঞতা : একাধিক স্থানীয় ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, “যদি কমিশন দেওয়া না হয়, তাহলে প্রকল্প পাওয়া প্রায় অসম্ভব।” আরেকজন ঠিকাদার জানান, “কিছু প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই ঠিকাদারদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যায়। সিন্ডিকেটের কেউ বলেনা, কিন্তু যারা না মানে তারা পিছনে পড়ে যায়।” প্রকল্প তদারকির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, “কাজের অগ্রগতি বা বিল অনুমোদন নির্ভর করে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের উপর। প্রকল্পের সঠিক মান নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।”
গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ধরনের অনিয়ম শুধুমাত্র সরকারি অর্থের ক্ষতি করে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার জন্যও বড় হুমকি। প্রকল্পের মানদণ্ড অমান্য করা হলে ভবিষ্যতে জনসাধারণের সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, সিন্ডিকেটের প্রভাবাধীন ঠিকাদারদের জন্য সরকারি কাজের প্রতিযোগিতা কমে যায়। আইনি দিক থেকে, মোর্শেদ ইকবালসহ সিন্ডিকেটের নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে। এই মামলাগুলো বিচারের জন্য আদালতে চলমান। যদিও কার্যক্রম এখনও বন্ধ হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের প্রভাব ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। মোর্শেদ ইকবালের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও মানদণ্ডকে প্রভাবিত করছে। স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প তদারকির অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে, প্রকল্প বণ্টন ও কমিশন লেনদেন নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। সতর্ক দৃষ্টিতে বলা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি করছে না, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন জরুরি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ

গণপূর্ত অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য

মোর্শেদ ইকবালের নেতৃত্বে অনিয়মের দাপট

আপডেট সময় ১২:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মপরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে উত্তপ্ত। এ সংক্রান্ত অভিযোগ ও তথ্য অনুসন্ধান করার চেষ্টা করলে দেখা যায়, কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট এখনো কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন মোর্শেদ ইকবাল, নির্বাহী প্রকৌশলী, ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই/এম) প্ল্যানিং বিভাগ-২, ঢাকা।
স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প তদারকির সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানাচ্ছে, সরকারি প্রকল্পগুলো পরিকল্পিতভাবে কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়। বণ্টনের প্রক্রিয়ায় কমিশন বাবদ টাকা লেনদেন হয়। এতে শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতি হচ্ছে না, বরং প্রকল্পের গুণগত মানও প্রভাবিত হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের জন্মের ইতিহাস তুলনামূলকভাবে পুরনো। স্বৈরাচারের আমলে এই সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন সরকারি প্রকল্পগুলোতে নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য কিছু কর্মকর্তাকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। মোর্শেদ ইকবালসহ কয়েকজন সিন্ডিকেটের প্রাথমিক সদস্য এই সময়ে দপ্তরে দায়িত্ব নেন। সময়ের সাথে সাথে তারা তাদের প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখতে সমঝোতা ও চাপের কৌশল অবলম্বন করেন।
এই সিন্ডিকেট শুধু প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটায় না, বরং ঠিকাদার নিয়োগ, কাজের তদারকি ও বিল অনুমোদনেও সক্রিয়। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, সিন্ডিকেটের মধ্যে কেউ কেউ ঠিকাদারদের সঙ্গে যৌথভাবে লেনদেন করে। কাজের অগ্রগতি অনুযায়ী কমিশন ধার্য করা হয়।
মোর্শেদ ইকবালের ভূমিকা : মোর্শেদ ইকবাল, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে, শুধু সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয়নি, বরং প্রকল্প বণ্টন ও তদারকিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার অধীনে অনেক প্রকল্প পরিকল্পিতভাবে ঠিকাদারদের মধ্যে বণ্টিত হয়। অভিযোগ আছে, নির্দিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দেওয়া হয়, এবং অন্যদের প্রাধান্য দেওয়া হয় না। আইনি পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায়, মোর্শেদ ইকবাল বর্তমানে ঢাকার বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে দায়ের হওয়া সিআর মামলা নং-১১৮/২০২৫-এর আসামী। মামলাটি ধারায়: ১৪৭/১৪৮/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ অন্তর্ভুক্ত। তিনি গণঅভূত্থানের মামলার আসামী হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন। এই মামলার কার্যক্রম এখনও চলমান।
প্রকল্প বণ্টন ও কমিশন লেনদেনের প্রক্রিয়া : স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প তদারকির সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানাচ্ছে, প্রকল্প বণ্টনের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু ধাপ থাকে। প্রথমে প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশ করা হয়। এরপর ঠিকাদারদের মধ্যে দর নির্ধারণ ও কাগজপত্র যাচাই হয়। এই পর্যায়ে সিন্ডিকেটের কর্মকর্তারা কিছু ঠিকাদারকে ‘চলতি’ হিসেবে বাছাই করেন। নির্বাচিত ঠিকাদারদের সঙ্গে কমিশন লেনদেন হয়। ঠিকাদাররা প্রাথমিকভাবে প্রকল্প গ্রহণের আগে নগদ বা ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে কমিশন প্রদান করে। এরপর প্রকল্পে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে কাজের অগ্রগতি অনুমোদন করা হয়। সূত্র জানাচ্ছে, কাজের মানদণ্ড অনেক সময় সিন্ডিকেটের স্বার্থ অনুযায়ী পরিবর্তন করা হয়।
স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প তদারকির অভিজ্ঞতা : একাধিক স্থানীয় ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, “যদি কমিশন দেওয়া না হয়, তাহলে প্রকল্প পাওয়া প্রায় অসম্ভব।” আরেকজন ঠিকাদার জানান, “কিছু প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই ঠিকাদারদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যায়। সিন্ডিকেটের কেউ বলেনা, কিন্তু যারা না মানে তারা পিছনে পড়ে যায়।” প্রকল্প তদারকির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, “কাজের অগ্রগতি বা বিল অনুমোদন নির্ভর করে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের উপর। প্রকল্পের সঠিক মান নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব।”
গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ধরনের অনিয়ম শুধুমাত্র সরকারি অর্থের ক্ষতি করে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার জন্যও বড় হুমকি। প্রকল্পের মানদণ্ড অমান্য করা হলে ভবিষ্যতে জনসাধারণের সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, সিন্ডিকেটের প্রভাবাধীন ঠিকাদারদের জন্য সরকারি কাজের প্রতিযোগিতা কমে যায়। আইনি দিক থেকে, মোর্শেদ ইকবালসহ সিন্ডিকেটের নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলায় আসামী করা হয়েছে। এই মামলাগুলো বিচারের জন্য আদালতে চলমান। যদিও কার্যক্রম এখনও বন্ধ হয়নি, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা তাদের প্রভাব ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখছেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। মোর্শেদ ইকবালের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও মানদণ্ডকে প্রভাবিত করছে। স্থানীয় ঠিকাদার ও প্রকল্প তদারকির অভিজ্ঞতা প্রমাণ করছে, প্রকল্প বণ্টন ও কমিশন লেনদেন নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। সতর্ক দৃষ্টিতে বলা যায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি করছে না, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাই এখন জরুরি।