ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নগর প্লাজা মার্কেটে চাঁদাবাজি

২ কোটি টাকার চাঁদাবাজির দৃশ্য সুমন ওরফে নাসিম

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার নগর প্লাজা মার্কেট, যা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ভয়াবহ চাঁদাবাজি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটে স্বামীুস্ত্রীর একটি জোট মাসে কোটি টাকার চাঁদা হাতিয়ে নিচ্ছে, আর প্রশাসন এ ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে নীরব। ঘটনার পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত রাজনৈতিক প্রভাব, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জীবনে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন ও নাসিম নামের এই দম্পতি মার্কেটের প্রতিটি দোকান থেকে মাসে বিশাল পরিমাণ চাঁদা আদায় করছে। রাতের অন্ধকারে তারা গোপনভাবে মিটিং করে চাঁদাবাজির টাকার বণ্টন নির্ধারণ করে। অভিযোগ, মার্কেটের বিভিন্ন গেটে বহিরাগতদেরকে ইউনিফর্ম পরিয়ে দারোয়ান হিসেবে বসানো হয়। তাদের কাজ শুধু দোকানিদের দেখাশোনা নয়, বরং লাঠি ও সোডা নিয়ে হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো।
এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাঁদাবাজদের সঙ্গে লড়াই করতে চাই, কিন্তু প্রশাসনের কোনো সমর্থন নেই। তারা রাতের অন্ধকারে আসে, হুমকি দেয়, টাকা তুলে নেয়, আর চলে যায়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মার্কেটে যেসব অপকর্ম হচ্ছে, তার সঙ্গে রয়েছে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের জড়িততা। বিভিন্ন জেলা থেকে এনে মার্কেটে অবস্থিত হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের উপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রশাসন সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে সাহস পাচ্ছে না।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নগর প্লাজার চাঁদাবাজি শুধুমাত্র অর্থ আদায়ের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উপায়। তারা বলেন, “এই ধরনের ঘটনা দেখায় যে, শুধু অর্থ নয়, রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।”
অর্থের প্রবাহ ও চাঁদাবাজির আকার
মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির পরিমাণ অত্যন্ত বড়। বছরে নগর প্লাজা মার্কেট থেকে কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় হয়। এর একটি বড় অংশ চলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পকেটে। ব্যবসায়ীরা জানান, হকার ও দোকানিদেরকে দোকান বসানোর জন্য ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এমনকি মার্কেটের অলি গলিতে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়।
সুমন নামের এক ব্যক্তি আগে মার্কেটের একটি দোকানে মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজির আয় থেকে কেরানীগঞ্জে ১৪০০ স্কয়ারফিটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা শুধু ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
নগর প্লাজার ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও হুমকির কারণে বিপর্যস্ত। তারা জানাচ্ছেন, মার্কেটে বসতে হলে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে, নইলে হুমকি ও অশান্তির সম্মুখীন হতে হবে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা চাই না এই চাঁদাবাজির সংস্কৃতি আরও বাড়ুক। কিন্তু প্রশাসন যদি না আসে, আমরা কোথায় যাব?”
অনেক ব্যবসায়ী জানান, প্রশাসনের নীরবতা তাদেরকে বাধ্য করছে অবৈধ চ্যানেল বা স্থানান্তরের দিকে। তবে মার্কেট ছাড়ার সাহস খুব কমের কম, কারণ তাদের দোকান ও বিনিয়োগ বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে যাবে।
বেশি বিস্তৃত সমস্যা হলো প্রশাসনের নীরবতা। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি করছে, কিন্তু সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রশাসনের এই নীরবতা চাঁদাবাজদের সাহস জোগাচ্ছে এবং তাদের কার্যক্রমকে আরও গভীর করছে।
স্থানীয় কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অস্বীকার করেননি, তবে বিষয়টি তদন্তাধীন হিসেবে দেখানো হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রশাসন সম্ভবত রাজনৈতিক চাপের কারণে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর প্লাজা মার্কেটে চাঁদাবাজি শুধুমাত্র অর্থ লুটপাট নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দূরবীক্ষণও। তারা প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন, মার্কেটে হকার ও দোকানিদের নিয়ন্ত্রণ, বহিরাগতদের ব্যবহারের পদ্ধতি, এবং প্রশাসনের নীরবতা—ধষষ নির্দেশ করে একটি রাজনৈতিক দূরদর্শিত পরিকল্পনা।
এছাড়া, স্থানীয়দের অভিযোগ, একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি মার্কেটের নানান জায়গায় নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছে, যাতে বাজারে অশান্তি সৃষ্টি করা যায় এবং দোকানিদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। এইভাবে তারা শুধু অর্থ নয়, রাজনৈতিক প্রভাবও বিস্তৃত করছে।
রাজধানীতে চাঁদাবাজি নতুন রূপে প্রকাশ পাচ্ছে। পুরনো চাঁদাবাজি এখন নতুন নামে “সুপার মার্কেট বরাদ্দ” বা “জামানতের বাণিজ্য” হিসেবে চালু। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী দোকান বসাতে হলে আগে থেকে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এতে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হচ্ছেন অবৈধ চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হতে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, নগর প্লাজার এই ধরনের চাঁদাবাজি শুধুমাত্র একটি স্থানীয় সমস্যা নয়। এটি সমগ্র নগর জুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ। তারা বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, অর্থের লেনদেনের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন জড়িত। এটি শুধুমাত্র এক বা দুই জনের কর্মকাণ্ড নয়, বরং একটি সুসংগঠিত চক্র।”
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব মিলিয়ে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এটি শুধু নগর প্লাজার ব্যবসায়ীদের নয়, সমগ্র বাজার ব্যবস্থার জন্য হুমকি।
নগর প্লাজা মার্কেটে চাঁদাবাজি ব্যবসায়ীদের জন্য ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার আশায় দিন গুনছে।
নগর প্লাজা মার্কেটের চাঁদাবাজি শুধুমাত্র অর্থ লুটপাট নয়, এটি রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক অসফলতার প্রমাণ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ আশা করছে। না হলে, বাজারের এই অস্থিতিশীলতা ও চাঁদাবাজি আরও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ঘটাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নগর প্লাজা মার্কেটে চাঁদাবাজি

২ কোটি টাকার চাঁদাবাজির দৃশ্য সুমন ওরফে নাসিম

আপডেট সময় ১০:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার নগর প্লাজা মার্কেট, যা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ভয়াবহ চাঁদাবাজি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটে স্বামীুস্ত্রীর একটি জোট মাসে কোটি টাকার চাঁদা হাতিয়ে নিচ্ছে, আর প্রশাসন এ ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে নীরব। ঘটনার পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত রাজনৈতিক প্রভাব, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জীবনে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন ও নাসিম নামের এই দম্পতি মার্কেটের প্রতিটি দোকান থেকে মাসে বিশাল পরিমাণ চাঁদা আদায় করছে। রাতের অন্ধকারে তারা গোপনভাবে মিটিং করে চাঁদাবাজির টাকার বণ্টন নির্ধারণ করে। অভিযোগ, মার্কেটের বিভিন্ন গেটে বহিরাগতদেরকে ইউনিফর্ম পরিয়ে দারোয়ান হিসেবে বসানো হয়। তাদের কাজ শুধু দোকানিদের দেখাশোনা নয়, বরং লাঠি ও সোডা নিয়ে হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো।
এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাঁদাবাজদের সঙ্গে লড়াই করতে চাই, কিন্তু প্রশাসনের কোনো সমর্থন নেই। তারা রাতের অন্ধকারে আসে, হুমকি দেয়, টাকা তুলে নেয়, আর চলে যায়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, মার্কেটে যেসব অপকর্ম হচ্ছে, তার সঙ্গে রয়েছে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের জড়িততা। বিভিন্ন জেলা থেকে এনে মার্কেটে অবস্থিত হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের উপর প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এই রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রশাসন সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে সাহস পাচ্ছে না।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নগর প্লাজার চাঁদাবাজি শুধুমাত্র অর্থ আদায়ের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উপায়। তারা বলেন, “এই ধরনের ঘটনা দেখায় যে, শুধু অর্থ নয়, রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।”
অর্থের প্রবাহ ও চাঁদাবাজির আকার
মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির পরিমাণ অত্যন্ত বড়। বছরে নগর প্লাজা মার্কেট থেকে কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায় হয়। এর একটি বড় অংশ চলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পকেটে। ব্যবসায়ীরা জানান, হকার ও দোকানিদেরকে দোকান বসানোর জন্য ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এমনকি মার্কেটের অলি গলিতে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়।
সুমন নামের এক ব্যক্তি আগে মার্কেটের একটি দোকানে মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজির আয় থেকে কেরানীগঞ্জে ১৪০০ স্কয়ারফিটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা শুধু ব্যক্তিগত সমৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
নগর প্লাজার ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও হুমকির কারণে বিপর্যস্ত। তারা জানাচ্ছেন, মার্কেটে বসতে হলে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে, নইলে হুমকি ও অশান্তির সম্মুখীন হতে হবে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা চাই না এই চাঁদাবাজির সংস্কৃতি আরও বাড়ুক। কিন্তু প্রশাসন যদি না আসে, আমরা কোথায় যাব?”
অনেক ব্যবসায়ী জানান, প্রশাসনের নীরবতা তাদেরকে বাধ্য করছে অবৈধ চ্যানেল বা স্থানান্তরের দিকে। তবে মার্কেট ছাড়ার সাহস খুব কমের কম, কারণ তাদের দোকান ও বিনিয়োগ বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে যাবে।
বেশি বিস্তৃত সমস্যা হলো প্রশাসনের নীরবতা। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি করছে, কিন্তু সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রশাসনের এই নীরবতা চাঁদাবাজদের সাহস জোগাচ্ছে এবং তাদের কার্যক্রমকে আরও গভীর করছে।
স্থানীয় কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অস্বীকার করেননি, তবে বিষয়টি তদন্তাধীন হিসেবে দেখানো হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, প্রশাসন সম্ভবত রাজনৈতিক চাপের কারণে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগর প্লাজা মার্কেটে চাঁদাবাজি শুধুমাত্র অর্থ লুটপাট নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দূরবীক্ষণও। তারা প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন, মার্কেটে হকার ও দোকানিদের নিয়ন্ত্রণ, বহিরাগতদের ব্যবহারের পদ্ধতি, এবং প্রশাসনের নীরবতা—ধষষ নির্দেশ করে একটি রাজনৈতিক দূরদর্শিত পরিকল্পনা।
এছাড়া, স্থানীয়দের অভিযোগ, একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি মার্কেটের নানান জায়গায় নিজেদের লোক বসিয়ে রাখছে, যাতে বাজারে অশান্তি সৃষ্টি করা যায় এবং দোকানিদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। এইভাবে তারা শুধু অর্থ নয়, রাজনৈতিক প্রভাবও বিস্তৃত করছে।
রাজধানীতে চাঁদাবাজি নতুন রূপে প্রকাশ পাচ্ছে। পুরনো চাঁদাবাজি এখন নতুন নামে “সুপার মার্কেট বরাদ্দ” বা “জামানতের বাণিজ্য” হিসেবে চালু। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী দোকান বসাতে হলে আগে থেকে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এতে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হচ্ছেন অবৈধ চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হতে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, নগর প্লাজার এই ধরনের চাঁদাবাজি শুধুমাত্র একটি স্থানীয় সমস্যা নয়। এটি সমগ্র নগর জুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ। তারা বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, অর্থের লেনদেনের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন জড়িত। এটি শুধুমাত্র এক বা দুই জনের কর্মকাণ্ড নয়, বরং একটি সুসংগঠিত চক্র।”
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব মিলিয়ে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এটি শুধু নগর প্লাজার ব্যবসায়ীদের নয়, সমগ্র বাজার ব্যবস্থার জন্য হুমকি।
নগর প্লাজা মার্কেটে চাঁদাবাজি ব্যবসায়ীদের জন্য ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার আশায় দিন গুনছে।
নগর প্লাজা মার্কেটের চাঁদাবাজি শুধুমাত্র অর্থ লুটপাট নয়, এটি রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক অসফলতার প্রমাণ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ আশা করছে। না হলে, বাজারের এই অস্থিতিশীলতা ও চাঁদাবাজি আরও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ঘটাবে।